চিজ নিষিদ্ধ করেই নাকি ঘুরে দাঁড়াবে নয়া পাকিস্তানের অর্থনীতি!

ইসলামাবাদ: ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বারবার পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দাবি করেছেন যে পাকিস্তান ঋণের বোঝায় আক্রান্ত। আর সেই ঋণ থেকে মুক্তি পেতে নানা ধরনের উপায় খুঁজে বের করছেন তিনি। এবার উঠে এসেছে এক নতুন তথ্য। পাকিস্তানে নিষিদ্ধ হয়ে যেতে পারে চিজ।

রয়টার্সে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের ইকনমিক অ্যাডভাইসরি কাউন্সিল এক আলোচনায় সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বিভিন্ন বিলাসবহুল জিনিসের আমদানি বন্ধ করা হবে পাকিস্তানে। আর এসব জিনিসের তালিকায় রয়েছে স্মার্টফোন ও চিজ। আচমকা চিজ নিষিদ্ধ হওয়ার কথাই ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে পাকিস্তানিদের মধ্যে।

চিজ নিষিদ্ধ করে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে পাকিস্তানের অর্থনীতি, সেটাই ভেবে পাচ্ছেন না অনেকে। ওমর কুরেশি নামে এক পাকিস্তানি রীতিমত হিসেব-নিকেশ কষে দেখিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তানের ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ৩৭.৭ বিলিয়ন ডলার। আর পাকিস্তানের মোট চিজ আমদানি হয় ১৩ মিলিয়ন ডলারের, যা নাকি ঘাটতির তুলনায় মাত্র ০.০৩৪৪ শতাংশ। তাই চিজ ব্যান করে পাকিস্তান কতটুকু লাভের মুখ দেখবে, কার্যত সেই প্রশ্নই তুলে ধরেছেন তিনি।

এদিকে, এক পাকিস্তানি অর্থনীতিবিদ আশফাক হাসান খান বলেন, ”পাকিস্তানের প্রচুর বিদেশি চিজ আসছে। বাজার ভরে গিয়েছে বিদেশি চিজে। যে দেশের কাছে ডলার নেই, সেই দেশের পক্ষে কি বিদেশি চিজ খাওয়াটা মানায়?”

এই প্রসঙ্গে এক পাকিস্তানি ট্যুইট করে বলেছেন, ”নয়া পাকিস্তান আসলে নির্মম। তাই চিজ ব্যান করে দিচ্ছে।”

এর আগে ৫৫টাকায় হেলিকপ্টার চড়ার কথা বলে হাসির পাত্র হয়েছিলেন ইমরান খান। ক্ষমতায় এসেই মন্ত্রীদের সরকারি খরচে রাশ টেনেছেন ইমরান খান। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সরকারি টাকায় ইচ্ছেমতো নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যাবহার করতে পারবেন না কোনও নেতা, আধিকারিক থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী এমনকি প্রেসিডেন্ট। সরকারি টাকায় বিমানের প্রথম সারিতে ভ্রমণ করা যাবে না। মন্ত্রীসভার এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এরপরই শিরোনামে উঠে আসে ইমরানের হেলিকপ্টার যাত্রার খবর। তিনি নাকি পাকিস্তানেই এক বাড়ি থেকে আর এক বাড়ি উড়ে যান হেলিকপ্টারে। সঙ্গে থাকেন তাঁর তৃতীয় স্ত্রী। স্বাভাবিকভাবেই সেই খবরে ইমরানের এই দুর্নীতি-বিরোধিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। যিনি সরকারি খরচ কমাতে চাইছেন, তিন কীভাবে হেলিকপ্টারে চেপে যাওয়ার বিলাসিতা দেখান। কিন্তু তারপরই সেই প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেয় পাকিস্তানের সরকার।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধরি বলেন, চপার যাত্রা নাকি আসলে সস্তার। প্রতি কিলোমিটারে নাকি খরচ পড়ে মাত্র ৫৫টাকা। গুগলে হিসেব কষে দেখান তিনি। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম যে হিসেব দিচ্ছে, তাতে খরচ পড়ে প্রায় ৭০০০ টাকার কাছাকাছি।

Advertisement
---