ট্র্যাজিক হিরো মুশফিকুর, পাকিস্তানের টার্গেট ২৪০

মুশফিকুর ও জুনাইদের লড়াই৷ ছবি-আইসিসি টুইটার

আবু ধাবি: আক্ষরিক অর্থেই ট্র্যাজিক হিরো হয়ে থেকে গেলেন মুশফিকুর রহিম৷ যখন ব্যাট হাতে ক্রিজে আসেন, বাংলাদেশ ১২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে৷ শুরুতেই কোণঠাসা হয়ে পড়া বাংলাদেশ ইনিংসকে নির্ভরতা দেন মুশফিকই৷

আরও পড়ুন: নেতৃত্ব খুইয়েই বাদ পড়লেন তারকা অলরাউন্ডার

মহম্মদ মিঠুনকে সঙ্গে নিয়ে চতুর্থ উইকেটের জুটিতে ১৪৪ রান যোগ করেন৷ ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরি করে মিঠুন ফেরার পর ইমরুল কায়েস ও মাহমুদুল্লাহর সঙ্গে জুটি বেঁধে আরও ৪১ রান জোড়েন দলের ইনিংসে৷ যথন শতরান করে ব্যক্তিগত মাইলফলক টপকানোর সুযোগ আসে, ঠিক তখনই নেমে আসে বিপর্যয়৷ শাহীন আফ্রিদির বল ব্যাটের কানা লাগিয়ে বসায় ফিরতে হয় সেঞ্চুরির ঠিক দোরগোড়া থেকে৷

- Advertisement -

নার্ভাস-৯৯’এ আউট হয়ে একরাশ হতাশাকে সঙ্গী করে মাঠ ছাড়েন মুশফিকুর৷ তবে দলকে হতাশ করেননি৷ খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলে বোলারদের জন্য লড়াই করার রসদ জোগাড় করে দেন তিনি৷ ঠিক যেমনটা শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে করেছিলেন তিনি৷ সেবার শতরানে ব্যক্তিগত স্বীকৃতি মিলেছিল৷ দলও পেয়েছিল কাঙ্খিত জয়৷ এবার দল ফাইনালে উঠতে পারে কিনা, সেটা সময় বলবে, তবে নিশ্চিত শতরান হাতছাড়া হয় মুশফিকের৷ বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সেঞ্চুরি প্রাপ্য ছিল তাঁর৷

আরও পড়ুন: পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভার্চুয়াল সেমিফাইনালে প্রথমে ব্যাটিং টাইগারদের

পিচ রিপোর্টে রামিজ রাজা জানিয়েছিলেন, প্রথমে ব্যাট করে স্কোর বোর্ডে আড়াইশো রান তুলতে পারলে স্পিনারদের দিয়ে বাজি মাৎ করতে বিশেষ অসুবিধা হওয়ার কথা নয়৷ মাশরাফি ঠিক সেই পথেই হাঁটেন৷ টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন৷ তবে দলনায়কের আস্থার মর্যাদা দিতে পারেননি টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা৷

নাজমূল হোসেন শান্তর জায়গায়দলে ঢুকলেও ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নেমে সৌম্য সরকার শূন্য রানে আউট হন৷ অপর ওপেনার লিটন ফেরেন ব্যক্তগত ৬ রানে৷ শাকিবের বদলে দলে ফেরা মোমিনূল ৫ রানের বেশি সংগ্রহ করতে পারেননি৷ মিঠুন ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ৬০ রান করেন৷ ইমরুল আউট হন ৯ রান করে৷ মেহেদি হাসান ও মাহমুদুল্লাহর সংগ্রহ যথাক্রমে ১২ ও ২৫৷

আরও পড়ুন: ভারতীয়দের থেকে শেখা উচিৎ পাকিস্তানের: মালিক

রুবেল হোসেন রানআউট হন ১ রানে৷ দলনায়ক মাশরাফি ১৩ রান করে আউট হতেই ৪৮.৫ ওভারে ২৩৯ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ৷ মুস্তাফিজুর রহমান অপরাজিত থাকলেও কোনও বল খেলার সুযোগ পাননি৷ অর্থাৎ জয়ের জন্য পাকিস্তানকে তুলতে হবে ২৪০ রান৷

পাক টিম ম্যানেজমেন্ট এই ম্যাচে অভিজ্ঞ মহম্মদ আমিরকে বসিয়ে প্রথম একাদশে সুযোগ দিয়েছিল জুনাইদ খানকে৷ ১৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থার মর্যাদা দেন তিনি৷ শাহীন আফ্রিদি ও হাসান আলি নেন দু’টি করে উইকেট৷ একটি উইকেট শাদব খানের৷