নয়াদিল্লি: ভারতের মতে পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডারের মজুত অস্ত্রের সংখ্যা কয়েকটা দেশের তুলনায় কম থাকতে পারে, কিন্তু যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলা করার ক্ষমতা ভারতের রয়েছে৷ যে কোনও অবস্থায় নিজেদের সুরক্ষা করার মতো অস্ত্রের মজুত রয়েছে ভারতের কাছে৷

পাকিস্তানের পারমণবিক অস্ত্রের সংখ্যা ভারত, উত্তর কোরিয়া এমনকি ইসরাইলের চেয়েও বেশি। স্টকহোম ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল পিস রির্সাচ ইন্সটিটিউট (এসআইপিআরআই) এই কথা জানিয়েছে। তবে এই সমীক্ষার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নয়াদিল্লি৷

প্রসঙ্গত, এসআইপিআরআই জানিয়েছে, পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা ১১০ থেকে ১৩০ টি যেখানে ভারতের রয়েছে ১০০ থেকে ১২০টি। কয়েকদিন আগেই পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রের জনক আবদুল কাদের খান বলেছিলেন, মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যে ভারতে হামলা করতে পারবে তার দেশ। তার এই দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছিলেন ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে পারমাণবিক অস্ত্র সংখ্যা কমাচ্ছে। তারা তাদের অস্ত্রগুলো আরো আধুনিক করে তুলছে। অন্যান্য পরমাণু অস্ত্রের মালিক দেশগুলোর পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা অনেক কম। কিন্তু তারা নতুন পরমাণু অস্ত্র তৈরি বা উৎক্ষেপণ পদ্ধতি উন্নয়নের চেষ্টা করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, চিন তার পারমাণবিক সক্ষমতার আধুনিকায়ন করছে। ভারত ও পাকিস্তান তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা বাড়াচ্ছে এবং উৎক্ষেপণ পদ্ধতি উন্নয়নের চেষ্টা করছে।

২০১৬ সালের হিসেব অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, চিন, ভারত পাকিস্তান, ইসরাইল ও উত্তর কোরিয়া মিলিয়ে ৪১২০টি উৎক্ষেপণযোগ্য পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। সব মিলিয়ে এই দেশগুলোর ১৫৩৯৫টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১৫৮৫০।

এসআইপিআরআই নিজেদের এক রিপোর্টে এর আগে বলেছিল ভারতের অস্ত্র আমদানির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে৷ শেষ পাঁচ বছরে বিশ্বের মধ্যে ভারতই সবথেকে বেশি সামরিক অস্ত্র আমদানি করেছে৷ এর বিপরীত ছবি পাকিস্তানের৷ এই সময়ের মধ্যে পাকিস্তানের অস্ত্র আমদানির হার উল্লেখযোগ্যভাবে অনেক কমে গিয়েছে৷

সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০১২ এবং ২০১৩ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত এই সময়ে ভারতের অস্ত্র আমদানির হার ২৪ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে৷ যা মোট বিশ্বব্যাপী আমদানির ১২ শতাংশ৷ ভারতকে সবথেকে বেশি অস্ত্র আমদানিতে সাহায্য করেছে রাশিয়া৷

----
--