বিএসএফ জওয়ান শহিদ হওয়ার পরও ভারতের দিকেই আঙুল তুলল পাকিস্তান

ইসলামাবাদ: রবিবার ভোরে পাক সেনার গুলিতে শহিদ হয়েছেন দুই বিএসএফ জওয়ান। পাক শেলিং-এ প্রাণ গিয়েছে কাশ্মীরের একাধিক সাধারণ মানুষের। এরপরও ভারতের দিকেই আঙুল তুলল পাক সেনা। সীমান্তে সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের দায় চাপাল ভারতের উপরেই। সাংবাদিক বৈঠকে এই অভিযোগ তুললেন পাকিস্তানের ইন্টার সার্ভিস পাবলিক রিলেশনের ডিজি মেজর জেনারেল আসিফ গফুর। পাশাপাশি, তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের কোনও জায়গা নেই।

পক সংবাদপত্র ‘ডন’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, মেজর গফুর বলেছেন, দুই দেশের ডিজিএমও গত সপ্তাহে সংঘর্ষ বিরতির যে সিদ্ধান্ত নেন সেটা মেনে নিয়েছিল পাক সেনা। তাঁর অভিযোগ, ভারতের উস্কানিতেই নাকি জবাব দিতে বাধ্য হয়েছে তারা। ভারত পাকিস্তানের সাধারণ মানুষদের টার্গেট করছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

পাক সেনার এই মিডিয়া উইং-এর দাবি, ভারত ২০১৮ তে মোট ১০৭৭ বার সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করেছে। মেজর গফুরের বক্তব্য, ‘আমাদের প্রতিরক্ষা আসলে শান্তির জন্যই, সেটা যেন কেউ দুর্বলতা ভেবে ভুল না করে।

- Advertisement -

পাকিস্তান এইভাবে গোলাগুলি চালিয়ে গেলে ভারতের পক্ষে ‘রমজান যুদ্ধবিরতি’ মেনে চলা সম্ভব হবে না। রবিবার এমনই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হংসরাজ আহির। তিনি বলেন, ‘রমজান উপলক্ষে আমরা অভিযান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু সংঘর্ষ বিরতি মেনে নেওয়ার কোনও চেষ্টাই করছে না পাকিস্তান। তাই সেই সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করতে আমরা বাধ্য হচ্ছি।’

জম্মু-কাশ্মীরের আখনুর সেক্টরে রবিবার সকালে দফায় দফায় গুলি চলে৷ পাক রেঞ্জার্সের গুলিতে শহিদ হন দুই বিএসএফ জওয়ান৷ এর দু’দিন আগেই পাকিস্তানের দুই দেশের ডিজিএমও-র মধ্যে হটলাইনে আলোচনা হয় ও তাঁরা সংঘর্ষ বিরতির সিদ্ধান্ত নেন। তা সত্বেও চুক্তি ভেঙে গুলি চালায় পাকিস্তান৷

গত ১৬ মে, রমজানে কোনও অভিযান না চালানোর নির্দেশ দেয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তবে সাধারণ মানুষের প্রাণ সংশয় হলে ভারত জবাব দেবে, এমনটাও জানানো হয়েছিল। এরপর থেকেই নতুন করে রক্তাক্ত হতে শুরু করে উপত্যকা। শহিদ হন একাধিক জওয়ান। প্রাণহানি হয় সাধারণ মানুষেরও।

Advertisement ---
-----