ভারতের হাতে মার খাওয়ার ভয়ে দায় এড়াল পাকিস্তান

নয়াদিল্লি: পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ নস্যাৎ করল ইসলামাবাদ৷ কোনও তদন্ত ছাড়াই তাদের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করল পাক প্রশাসন৷ এই জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা করে নয়াদিল্লির পাশে দাঁড়িয়েছে বহু দেশ৷ ফাঁপরে ইমরানের দেশ৷ বিশ্ব রাজনীতির চাপে পড়ে ইসলামাবাদের এই বিবৃতি বলে মনে করা হচ্ছে৷

পুলওয়ামায় আত্মঘাতী জঙ্গি হামলা৷ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছেন ৪২ জন সিআরপিএফ জওয়ান। মারাত্মক জখম হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে আরও জনা চল্লিশ। তার মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ প্রকাশ্যে আনে ভিডিও৷ যাতে জঙ্গি আদিল হুসেন দার ওরফের ছবি স্পষ্ট৷ ভিডিও-তে সে বলছে ‘আমি জইশ-ই-মহম্মদের সক্রিয় সদস্য৷’ সেখানেই তিনি ভারতের বিরুদ্ধে এই হামলায় সব দায় নিয়েছেন৷ জইশ পাকিস্তানের মাটিতেই তাদের কার্যকলাপ বিস্তার করেছে৷

- Advertisement -

অথচ পাক বিদেশ মন্ত্রকের অন্য সুর৷ আন্তর্জাতিক চাপের কাছে ঢোক গিললেও তারা জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা তাদের মাটিতে হয়েছে বলে মানছে না৷ পাক বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্রের করফে এক প্রেস বিবৃতি ছাডা় হয়৷ যেখানে লেখা রয়েছে, ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি হামলা গভীর উদ্বেগের৷ বিশ্বের যেকোনও প্রান্তে সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে পাকিস্তান৷ কোনও তদন্ত ছাড়াই ভারত সরকার ও সংবাদ মাধ্যমগুলি যেভাবে পাকিস্তানের ঘাড়ে এই হামলার দায় চাপাচ্ছে তার প্রতিবাদ করা হচ্ছে৷

আরও পড়ুন: পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার নিন্দায় সার্ক রাষ্ট্রগুলি

জঙ্গি নিজেই দাবি করছে সে পাক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সদস্য৷ এরপরও ইসলামাবাদের এই দাবি হাস্যকর বলে মনে করছে আন্তরপজাতিক কূটনীতিকরাও৷ এই জইশ প্রধান মাসুদ আজহারকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতেই রাষ্ট্রসংঘে আবেদন করেছিল ভারত৷ তবে শেষ পর্যন্ত পাক বন্ধু চিনের বিরোধীতায় সেই আবেদন কার্যকর হয়নি৷ এরপরও তাদের দাবি থেকে সরেনি নয়াদিল্লি৷ আরও তথ্য, প্রমাণ জড়ো করে তা তুলে দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের হাতে৷

প্রতীকি ছবি

ভারতের দাবি বাস্তবায়িত না হলেও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ক্রমশ স্পষ্ট হয় জঙ্গিদের মদতদাতা ইসলামাবাদ৷ এরপরই আমেরিকার ট্রাম্প প্রশাসনের তরফেও ইসলামাবাদকে হুঁশিয়ার করা হয়৷ জানিয়ে দেওয়া হয় সন্ত্রাসে মদত দিলে তাদের আর্থিক সাহায্য বন্ধ করা হবে৷

আরও পড়ুন: জঙ্গি দমনে ভারতের পাশে থাকার বার্তা দিল আমেরিকা

এরপরও কাশ্মীরের অনুপ্রবেশকারী দিয়ে, আবার কখনওবা জঙ্গি দিয়ে হামলা চলছেই৷ মদতদাতা হিসাবে নাম ওঠে পাকিস্তানের৷ ফলে আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে ইসলামাবাদের উপর৷ সেই চাপেই পাক বিদেশমন্ত্রকের এই বিবৃতি বলে মনে করছে বিশ্ব রাজনীতির কারবারীরা৷