পাগড়ি খুলে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হল পাকিস্তানের শিখ অফিসারকে

ইসলামাবাদ: ফের সংখ্যালঘু বিদ্বেষের ঘটনা শিরোনামে এল পাকিস্তানে। সেদেশের প্রথম শিখ পুলিশ অফিসারকে বের করে দেওয়া হল বাড়ি থেকে। এমনকী তাঁর মাথা থেকে পাগড়িও খুলে ফেলতে বাধ্য করা হয়।

পাকিস্তানের দেরা চাহল গ্রামে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে থাকতেন গুলাব সিং শাহিন নামে ওই পুলিশ অফিসার। ২০০৬ সালে ট্রাফিক পুলিশ অফিসারের চাকরি পান তিনি। তিনিই ছিলেন পাকিস্তানের প্রথম শিখ পুলিস অফিসার। তিনি বলেন, ‘আমার তিন সন্তান আর স্ত্রী পরমজিতের উপস্থিতিতে আমাকে পাগড়ি খুলে বাড়ি থেকে বের করে দেওবা হয়েছে। এইভাবেই পাকিস্তানে শিখদের সঙ্গে ব্যবহার করা হয়।’ গত ৪ এপ্রিল তাঁর সঙ্গে এই ঘটনা ঘটেছে।

জানা গিয়েছে, আর্থিক দুর্নীতির কথা জানতে পেরে সরব হয়েছিলেন তিনি। তাই তাঁকে আটকাতেই এই অত্যাচার। কাঠগড়ায় পাকিস্তান শিখ গুরুদ্বার প্রবন্ধক কমিটির সদস্য তারা সিং।

- Advertisement -

ওই পুলিশ অফিসার জানান,শিখ গুরুদ্বার প্রবন্ধক কমিটির এক শাখা সংগঠনের সদস্য তারা সিং তাঁর পাগড়ি খুলে বেধড়ক মারধর করেছে। আপাতত রাস্তাতেই দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা। শিখ পুলিশ আধিকারিকের অভিযোগ, কানাডা, আমেরিকা-সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগঠনের প্রায় নামে ১০-১৫কোটি টাকা আদায় করে ওই সংগঠন। কিন্তু ওই টাকা কোনও উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার হয় না। ২০১৬ সালেই এই দুর্নীতির কথা জানতে পারেন তিনি। এরপর থেকেই শিখ সংগঠনের বিরাগভাজন হন তিনি।

বছর চারেক আগেও একই ঘটনা ঘটেছিল। ২০১৪ সালে গুলাব সিংয়ের স্ত্রীর ওপর অকথ্য অত্যাচার করে শিখ সংগঠনের সদস্যরা। অভিযোগ, ওই ঘটনার পরেও মেলেনি কোনও প্রশাসনিক সাহায্য। যদিও গুলাব সিংয়ের অভিযোগ শিখ সংগঠনের তরফে অস্বীকার করা হয়েছে।

Advertisement
-----