মানব গুহ-দেবযানী সরকার, কলকাতাঃ শেষ পর্যন্ত মমতা সরকারকে ‘না’ বলতে পারল রাজ্য নির্বাচন কমিশন৷ কলকাতা হাইকোর্টে প্রতিদিন লজ্জায় ডুবে যেতে যেতে অবশেষে কি কিছুটা হলেও শিরদাঁড়া সোজা করে করতে পারল নির্বাচন কমিশন? উঠছে প্রশ্ন৷

‘রমজান মাসের আগেই পঞ্চায়েত ভোট শেষ করতে হবে, দরকার হলে একদিনে পুরো ভোট শেষ করতে হবে’, রাজ্য সরকারের এই অবস্থানকে শেষ পর্যন্ত ধাক্কা দিতে পারল রাজ্য নির্বাচন কমিশন৷ গতকালই নতুন করে রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোটের দিনক্ষন ঘোষণা করার কথা ছিল নির্বাচন কমিশনের৷ কিন্তু একদিনের বর্ধিত মনোনয়ন ঘিরে ফের অশান্তি ও সন্ত্রাসের আবহ তৈরি হওয়ায় ভোটের দিন ঘোষণা করে নি কমিশন৷

Advertisement

মঙ্গলবার দুপুরে রাজ্য পঞ্চায়েত দফতরের অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি সৌরভ দাসের সঙ্গে একদফা বৈঠকের পরও ভোটের দিন ঘোষণা করতে পারল না নির্বাচন কমিশন৷ রাজ্যের দাবি একদিনে পঞ্চায়েত ভোট করাতে হবে৷ কিন্তু কমিশন একদিনে ভোট করাতে রাজী নয়৷ কমিশন আগের মতোই তিন দফায় বা কমপক্ষে দু দফায় ভোট করাতে চায়৷ প্রায় একঘন্টা বৈঠকের পরেও মেলেনি কোনও রফাসূত্র।

কমিশন ও সরকারের লড়াই প্রাকাশ্যে আসায় মনে করা হচ্ছে, কলকাতা হাইকোর্টে প্রতিদিন লজ্জায় পরার পরই আপাততঃ কিছুটা হলেও শিরদাঁড়া সোজা করল কমিশন৷ বিকালে ফের রাজ্য পঞ্চায়েত দফতরের অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি সৌরভ দাসের সঙ্গে একদফা বৈঠক করবে রাজ্য নির্বাচন কমিশন৷ তারপরেই বাংলায় পঞ্চায়েত ভোটের দিনক্ষন ঘোষণা করা হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে৷

কলকাতা ২৪x৭ এ আগেই বলা হয়েছে সম্ভবতঃ আগামী ১৫ মে ও ১৭ মে দুদফায় ভোট করাতে চায় রাজ্য নির্বাচন কমিশন৷ এবং সম্ভতঃ আগামী ২০ মে রবিবার ভোট গণনার দিন ঘোষণা করা হবে৷ নির্বাচন কমিশন আপাততঃ এইদিন গুলোই ঘরে এগোচ্ছে৷ তবে, রাজ্য সরকারের প্রতিনিধী সৌরভ দাসের সঙ্গে ফের একবার কথা বলার পরই ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করবে কমিশন৷

তবে মঙ্গলবার প্রথম দফার বৈঠকে, রাজ্য সরকারের সঙ্গে যে নির্বাচন কমিশনের চরম মতপার্থক্য হয়েছে তা কমিশন সূত্রে পরিষ্কার৷ এখন দেখার এটাই যে, মঙ্গলবার বিকালেই সরকারের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের পর কমিশন নিজের অবস্থান বজায় রাখতে পারে কিনা৷ না কি, সরকারের চাপে পরে একদিনে ভোট করাতে বাধ্য হয় কমিশন৷

একদিনেই নির্বাচন করানোর সরকারি নির্দেশে মুখের উপর কমিশন না বলে দেওয়াতে নবান্নে শুরু হয়েছে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। বিকেল ৪টের পর ফের মুখোমুখি বৈঠকে বসবে কমিশন এবং সরকার।  তবে যাই হোক, হাইকোর্টের চাপে কিছুটা হলেও সরকারী তাঁবেদারী থেকে মঙ্গলবার বেরোতে পারল নির্বাচন কমিশন৷ তবে, এই অবস্থান কতটা বজায় থাকে সেটাই এখন দেখার৷

----
--