মানব গুহ, কলকাতা: বাংলায় পঞ্চায়েত ভোট কবে? এটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন৷ পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে ইতিমধ্যেই যা হয়েছে আর যা চলছে তাতে কমেডি সার্কাস বললেও কম বলা হবে৷ আর এই কমেডি সার্কাসে এখন একটাই প্রশ্ন, ভোট কবে?

সোমবার, মঙ্গলবার হবে হবে করেও হয় নি৷ ‘আজই হবে ভোটের দিন ঘোষণা’, বাংলা নিউজ চ্যানেলে ব্রেকিং নিউজও এখন হাস্যকর হয়ে গেছে৷ শুধু দিন ঘোষণাই হয় নি৷ কবে হবে ভোটের দিন ঘোষণা? কমেডি সার্কাসে বুধবার কি এই প্রশ্নের উত্তর কি পাওয়া যাবে? প্রশ্ন কিন্তু উঠছে৷

এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের একগুঁয়ে দাবী, রমজান মাসের আগেই একদিনে ভোট করাতে হবে৷ রাজী নয় হঠাৎ সাবালক হওয়া রাজ্য নির্বাচন কমিশন৷ মনোনয়ন নিয়েই যেভাবে সন্ত্রাস, রক্তপাত হল তাতে একদিনে ভোট হলে যে কি কুরুক্ষেত্র হবে, তা খুব ভালো ভাবেই বুঝতে পারছে কমিশন৷

তাই একদিনে ভোট করাতে কোন রকমেই রাজী নয় নির্বাচন কমিশন৷ এক্ষেত্রে মমতার চাপের কাছে নতিস্বীকারে রাজী নয় কমিশন৷ তারা আগের মতোই তিন দফায় ভোট করাতেই উৎসাহী৷ তবে শেষ পর্যন্ত বাজারে দরাদরি করার মত দুপক্ষই দু দফায় ভোটে রাজী হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে৷

অন্যদিকে বুধবার সংখ্যালঘু সেলের তরফ থেকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করে রমজান মাসের আগেই ভোট শেষ করার আর্জী জানানো হয়৷ রাজ্য সরকারের নির্দেশেই সংখ্যালঘু সেল হঠাৎ করে নির্বাচন কমিশনকে চাপ দিচ্ছে বলেই অভিযোগ বিরোধীদের৷ তবে, ২০১৩ সালে রমজান মাসেই পঞ্চায়েত ভোট হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে৷

বুধবার ফের রাজ্যের পঞ্চায়েত সচিব সৌরভ দাসের সঙ্গে বৈঠক করবে রাজ্য নির্বাচন কমিশন৷ দুপক্ষের বরফ কি গলবে? এটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন৷ রাজ্য নির্বাচন কমিশনের হাতে দুটো অপশন আছে৷ এক, ১৪ ও ১৬ মে ভোট করে ১৮ তারিখে ভোট গণনা করা৷ না হলে দুই, ১৫ ও ১৭ মে ভোট করে ২০ মে ভোটগণনা করা৷

বাজারে মাছের দর কষাকষির মতোই এখন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ভোটের দিন নিয়ে টানাহেঁচড়া চলছে রাজ্য সরকারের। সংখ্যালঘু তাস খেলে রমজান মাসে ভোট না করানো নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চাপে রাখতে চাইছে মমতা সরকার।

আবার রাজ্যকে চাপে রাখতে, ভোটে কত ফোর্স দিতে পারবে এই প্রশ্নও তুলেছে কমিশন। রাজ্য পুলিশের ডিজি সুরজিত কর পুরকায়স্থকে বাহিনীর হিসাব চেয়ে চিঠি দিয়েছে কমিশন। ডিজির কাছ থেকে উত্তর আসার পরই আবার রাজ্যের পঞ্চায়েত সচিব সৌরভ দাসের সঙ্গে ভোটের দিন নিয়ে বসবে কমিশন। পঞ্চায়েতের বাজারে দর কষাকষির পর ভোটের দিনক্ষণের কি অবস্থা দাঁড়ায় সেটাই এখন দেখার।

এখন ‘একদিনে ভোট’ করার রাজ্যের পাহাড়প্রমাণ চাপ সরিয়ে নির্বাচন কমিশন কি সিদ্ধান্ত নেয় সেটাই এখন দেখার৷ তারপর তো, ভোট নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হওয়া আছেই৷ আবার, সংখ্যালঘু সেলের তরফ থেকেও রমজান মাসে ভোট হলে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হূমকি আছে৷

সবমিলিয়ে, বুধবার কি শেষ হবে পঞ্চায়েতের এই কমেডি সার্কাস? বাংলার মানুষ কি জানতে পারবে, পঞ্চায়েত ভোট কবে? এটাই তো এখন লাখ টাকার প্রশ্ন৷ তারপর আরও একটা প্রশ্ন থাকবে৷ আদালতের কাঠগড়া থেকে বাংলার ভোট বেরোতে পারে কিনা সেটাও এখন বড় প্রশ্ন৷

----
--