রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বারুইপুর হাসপাতালে

স্টাফ রিপোর্টার, বারুইপুর: চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগে রোগী মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল দক্ষিণ ২৪ পরগণার বারুইপুর মহকুমা হাসপাতাল চত্বরে। মৃতার নাম গায়েত্রী নস্কর (৬০)।

গায়েত্রীদেবী দক্ষিণ ২৪ পরগণার বারুইপুর থানার কল্যানপুর গ্রাম পঞ্ছায়েতের দমদমা গ্রামের বাসিন্দা৷ পরিবার সূত্রে খবর, শনিবার রাত থেকেই পেটের যন্ত্রণায় ভুগছিলেন তিনি। রবিবার ভোর চারটে নাগাদ সেই যন্ত্রণা চরম আকার নিলে তাঁকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে ভরতি করা হয়।

আরও পড়ুন: রিমোট হারিয়ে ফেলেছেন? স্মার্টফোনের সাহায্যে কীভাবে চ্যালেন বদলাবেন জানুন

- Advertisement -

গায়েত্রীদেবীর পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও দীর্ঘক্ষণ তার কোনও রকম চিকিৎসা করেন নি কোনও চিকিৎসকরা। বারাবার চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকদের বলা হলেও তাঁরা কোনও প্রকার কর্ণপাত করেনা৷ দীর্ঘক্ষণ সময় পরে হাসপাতালের এক সেবিকা এসে গায়েত্রী দেবীকে কোনও একটা ইঞ্জেকশন দেয়৷ কিন্তু ওই ইঞ্জেকশন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু হয় ওই মহিলার।

গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে ওঠে হাসপাতাল চত্বর৷ পরিবারের সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করলে কোনও সদুত্তর পায় না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের থেকে৷ এতেই পরিস্থিতি আরও বেগতিক হতে শুরু করে৷ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বারুইপুর থানার পুলিশ৷ পরে পুলিশি নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়৷ ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে বারুইপুর থানার পুলিশ৷ কি এমন ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল যার দরুন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারাতে হয় ওই গায়েত্রীদেবীকে৷

আরও পড়ুন: আম চুরিতে বাধা দেওয়ায় আক্রান্ত মা ও ছেলে

প্রসঙ্গত, কোচবিহারে বেশ কিছুদিন আগে ঠিক এমনটাই অভিযোগ উঠেছিল৷ তবে সেক্ষেত্রে প্রসূতির পর চিকিৎসার গাফিলতিতে মৃত্যু হয়েছিল মায়ের৷ মৃত রোগীর নাম দেবমিতা নাথ (২৯)৷ পেশায় তিনি স্কুল শিক্ষিকা ছিলেন৷ দেবমিতা নাথের বাবা প্রমোদ নাথ জানিয়েছিলেন, দেবমিতা সন্তানসম্ভবা ছিলেন৷ সন্তান প্রসবের জন্য তাকে এপ্রিল মাসে ওই নার্সিংহোমে ভরতি করা হয়৷ কিন্তু সন্তানকে জন্ম দেওয়ার পর থেকেই শারীরিক অবস্থায় অবনতি হতে থাকে দেবমিতার৷ অবশেষে পরদিন ভোর রাতে মৃত্যু হয় তার৷

তাঁর বাবা প্রমোদ নাথের অভিযোগ, ঘটনার দিন রাত ১১ টা নাগাদ শেষ কথা হয় তাঁর সঙ্গে তাঁর মেয়ের৷ তখন তিনি ভালোই ছিলেন৷ কিন্তু ভোর রাতে নার্সিংহোম থেকে ফোন করে মৃত্যুর খবর তাঁর বাবাকে জানায়৷ চিকিৎসার গাফিলতির জন্যই তাঁর এই মৃত্যু বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ৷ দেবমিতার সন্তানের অবস্থাও খারাপ থাকার জন্য তাকে শহরের অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছিল৷ যদিও পুন্ডিবাড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন প্রমোদ নাথ৷

আরও পড়ুন: ধর্মগ্রন্থ না পড়তে চাওয়ায় পরিবারের হাতেই খুন কিশোরী

এক্ষেত্রে চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ মানতে নারাজ ছিলেন অভিযুক্ত ডাক্তার রশ্মীবালা নায়েক৷ তাঁর দাবি, রোগীর অবস্থা সংকটজনক ছিল৷ এই কারণেই সময়ের এক মাস আগেই তাঁর প্রসব করাতে হয়েছিল৷ তিনি চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু তাঁকে বাঁচাতে পারেনি৷

Advertisement ---
-----