মুকুলকে ‘খুঁজতে’ নোয়াপাড়ায় হাজির পার্থ

স্টাফ রিপোর্টার, ব্যারাকপুর: রাজ্য রাজনীতিতে ‘বাচ্চা ছেলে’ আর ‘বুড়ো ভামের’ লড়াই অব্যাহত৷ বৃহস্পতিবার উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়া বিধানসভা উপ-নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে মুকুল রায়কে ফের একহাত নিলেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ কার্যত মুকুল রায়কে বিজেপির রাজ্য সভাপতির পিছনের সারির নেতা বলে কটাক্ষ করলেন শিক্ষামন্ত্রী৷ তিনি বলেন, ‘‘এখানে নেতা ছিল৷ ওখানে দিলীপ ঘোষের পিছনে এই টুকু মুখ দেখা যায়৷’’

আরও পড়ুন: নোয়াপাড়াতেও গার্গীর ভরসা সেই নৈহাটি

এই মন্তব্যের সময় তিনি মুকুল রায়ের নাম নেননি ঠিকই৷ তবে তাঁর বক্তব্যের তির যে ‘কাঁচরাপাড়ার কাঁচা ছেলের’ দিকে ছিল, তা সহজেই অনুমান করা যায়৷ কারণ, এই মন্তব্যের আগেই তিনি বলেছেন, ‘‘কোট পরলাম, সবুজ থেকে গেরুয়া হয়ে গেলাম, আর নেতা হয়ে গেলাম৷ এভাবে হয় না৷’’

- Advertisement -

তাই তিনি মুকুলকে খুঁজতে নোয়াপাড়ায় হাজির হয়েছিলেন বলে কটাক্ষ করেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ তৃণমূলের মহাসচিব বলেন, ‘‘এই ঠান্ডায় চাটনিবাবু কোথায় দেখতে এসেছিলাম৷ আমাদের শুইয়ে দেবে বলেছিল, এখন নিজেই শুয়ে পড়েছে৷’’

আরও পড়ুন: নোয়াপাড়ায় বিজেপি আতঙ্কে ভুগছে বাম-তৃণমূল

নোয়াপাড়া বিধানসভার উপ-নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী সুনীল সিং৷ তাঁর সমর্থনে প্রচার সভায় এদিন সেখানে গিয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ সেখানে গিয়ে তাঁকে মঞ্জু বসুকে নিয়েও প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়৷ এদিনের প্রচার সভায় মঞ্জু বসু উপস্থিত ছিলেন না৷ কেন তিনি নেই, সেই প্রশ্নের উত্তর জানতে চাওয়া হয়েছিল পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে৷ তবে তিনি এ বিষয়ে কোনও বিতর্ক চাননি৷

প্রসঙ্গত, মঞ্জু বসু ইস্যুতে গোড়া থেকেই সরগরম নোয়াপাড়া৷ মঞ্জু বসুকে বিজেপি প্রার্থী করতে পারে বলে প্রথম থেকেই জল্পনা চলছিল৷ তার পর বিজেপির তরফে মঞ্জু বসুর নাম ঘোষণা করা হয় প্রার্থী হিসেবে৷ কিন্তু নাম ঘোষণার একঘণ্টার মধ্যেই ভোলবদল করেন মঞ্জু বসুর৷ তিনি বিজেপির প্রার্থী হচ্ছেন না বলে ঘোষণা করেন৷ এই ঘটনায় মুখ পুড়ে কার্যত মুকুল রায়েরই৷ কারণ, তিনিই মঞ্জু বসুকে প্রার্থী করতে পরিকল্পনা করেছিলেন৷ তাই এদিনের সভায় তাঁর অনুপস্থিতি ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে৷

আরও পড়ুন: প্রার্থী না হয়েও নোয়াপাড়ার ভোট-চর্চায় শুধুই মঞ্জু

অন্যদিকে পার্থ চট্টোপাধ্যায় এদিন বিজেপিরও সমালোচনা করেন৷ বিজেপির কাছ থেকে তৃণমূল হিন্দুত্বের দীক্ষা নিতে হবে না বলেও দাবি করেন৷ তাঁর কটাক্ষ, ‘‘নোয়াপাড়ায় পদ্ম তো দূরের কথা কুঁড়িও ফুটবে না৷’’ নোয়াপাড়ার স্টোর বাজারে উপস্থিত ছিলেন বিধানসভার মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ, ভাটপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিং, ব্যারাকপুরের বিধায়ক শীলভদ্র দত্ত, নৈহাটির বিধায়ক পার্থ ভৌমিক ও প্রার্থী সুনীল সিং-সহ কয়েক হাজার তৃণমূল কর্মী-সমর্থক৷

আরও পড়ুন: ‘এক সম্প্রদায়কে তোষণ করার কারণেই গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে রাজ্যে’

Advertisement ---
-----