মমতার দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে বাংলায় বাড়ছে আসাদুদ্দিনের AIMIM

সৌমেন শীল, কলকাতা: বাংলার মাটিতে ক্রমশ বিস্তার লাভ করছে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন বা এআইএমআইএম। যে দলের প্রধান হলেন আসাদুদ্দিন ওয়াইসি।

হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। মূলত তেলেঙ্গানা এবং অন্ধ্র প্রদেশের মধ্যেই পোক্ত সংগঠন রয়েছে তাঁর দলের। যদিও পরে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচনে লড়াই করে এআইএমআইএম।

আরও পড়ুন- দেশ বাঁচাতে ভারতীয় মুসলিমদের পালটা লড়াইয়ের আহ্বান আসাদুদ্দিনের

- Advertisement -

২০১৫ সালে বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে বেশ কয়েকটি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল এআইএমআইএম। যদিও ফল হয়েছিল খুবই হতাশাজনক। একটিও আসন জোটেনি। ভাগ্যের শিকে ছেঁড়েনি দেশের সব থেকে বড় রাজ্যেও। ২০১৭ সালে উত্তর প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করেও আসেনি সাফল্য।

আরও পড়ুন- দেশের স্বার্থে মোদী সরকারকে সমর্থন করতে প্রস্তুত আসাদুদ্দিন

মহারাষ্ট্রে অল্প সংখ্যক হলেও জনপ্রতিনিধি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন আসাদুদ্দিন। সংগঠন বেড়েছে মোদীর রাজ্য গুজরাতে। সেই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পশ্চিমবঙ্গ। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে হাওড়া জেলা থেকে খাতা খুলেছে আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। উলুবেড়িয়া এক নম্বর ব্লকের বাহিরা গ্রাম পঞ্চায়েত বড়ডাঙা এলাকায় জিতেছেন এআইএমআইএম প্রার্থী সৌজাদা মোল্লা।

আরও পড়ুন- রানিগঞ্জ গোষ্ঠী সংঘর্ষ নিয়ে মমতা সরকারকে তোপ আসাদুদ্দিনের

উলুবেড়িয়ার জয়কে হাতিয়ার করেই রাজ্যে সংগঠন বিস্তারে মন দিয়েছে এই রাজ্যের কর্মীরা। রাজ্যের সর্বত্র সংগঠনের ভীত মজবুত করতে মনে দিয়েছে কর্মীরাও। যদিও সংগঠনের বিষয়ে যাবতীয় সিদ্ধান্ত আসাদুদ্দিন ওয়াইসি-ই নিয়ে থাকেন। তাঁর নির্দেশ মেনেই সবকিছু করে কর্মীরা।

মধ্য কলকাতায় অফিস রয়েছে আসাদুদ্দিনের সংগঠন এআইএমআইএম-এর। সেখান থেকেই সমগ্র বাংলার সংগঠন পরিচালনা করা হয়ে থাকে। এই রাজ্যের সংগঠনের পক্ষ থেকে সমীর সাত্তার বলেছেন, “রাজ্যের সব জায়গাতেই আমাদের সংগঠন আছে। কর্মীরা নিজের মতো করে কাজ করছে।” একই সঙ্গে তিনি আরও জানিয়েছেন যে বাংলায় উলুবেড়িয়া এবং হলদিয়াতে সংগঠনের ভীত সব থেকে মজবুত।

আরও পড়ুন- লোকসভা নির্বাচনে আসাদুদ্দিনের বিরুদ্ধে লড়বেন রাজা সিং

উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির মধ্যে মালদহ এগিয়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সমীর সাত্তার। তাঁর কথায়, “মালদহ জেলায় আমাদের কর্মীরা খুব ভালো কাজ করছে। সংগঠন বেশ মজবুত হয়েছে ওই সকল এলাকায়।” মুর্শিদাবাদে এখনও বিশেষ সুবিধা করা যায়নি বলেও স্বীকার করে নিয়েছেন সমীর সাত্তার।

তাহলে এবার লক্ষ্য কি লোকসভা নির্বাচনে লড়াই? এই প্রশ্নের জবাবে সমীর সাত্তার বলেন, “আমি বা এই রাজ্যেরই কারোরই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নেই। আসাদুদ্দিন ওয়াইসি সাহেব যা নির্দেশ দেন সেটাই আমরা মেনে চলি।”

Advertisement
---