প্রসূতির মৃত্যু ঘিরে রণক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকেন্দ্র

ভাঙড়: প্রসূতি মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র৷ ভাঙরের নুলমুড়ি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনা৷ মৃতের পরিবারের তরফে অভিযোগ, চিকিৎসকের গাফিলতির কারণেই এই ঘটনা ঘটে৷ হাসপাতালের সামনে মৃতদেহ রেখে বিক্ষোভ দেখান মৃতের বাড়ির লোকজন৷ অভিযুক্ত চিকিৎসকের গ্রেফতারিরও দাবি তোলেন তাঁরা৷

বোদরা গ্রামের বাসিন্দা টুনু বিবি (২৮)৷ প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় নুলমুড়ি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হন তিনি৷ রাতভর সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল৷ কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে টুনু বিবির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে৷ নর্মাল ডেলিভারি একপ্রকার অনিশ্চিত হয়ে পড়ে৷

আরও পড়ুন: জুলাইতে মুখোমুখি হচ্ছেন ট্রাম্প-পুতিন

টুনু বিবির যা অবস্থা তাতে মা ও সন্তানকে সুস্থ রাখতে গেলে অন্যত্র পাঠাতে হবে বলে জানান চিকিৎসকরা৷ তাঁরা কলকাতায় স্থানান্তরিত করার পরামর্শ দেন৷ এদিকে নুলমুড়ি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে টুনু বিবিকে নিয়ে মিনিট পনেরোর পথ যাওয়ার পরই শরীর ছেড়ে দেন তিনি৷ পথেই তাঁর মৃত্যু হয়৷

এরপর টুনুর পরিবারের লোকেরা হাসপাতালের সামনে মৃতদেহ রেখে বিক্ষোভ দেখান৷ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের গ্রেফতারির দাবিতে সরব হন মৃতের স্বামী সহিদুল মোল্লা৷ সহিদুল মোল্লা বলেন, ঠিকমত চিকিৎসা হলে আমার স্ত্রী মারা যেতেন না৷ এর আগেও স্ত্রী চার সন্তানের জন্ম দিয়েছেন৷ কখনও কোনও অসুবিধা হয়নি৷

এই ঘটনা ঘিরে কার্যত রণক্ষেত্রের আকার নেয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রচত্বর৷ গোলমালের খবর পেয়ে ভাঙড় থানার পুলিশ হাসপাতালে আসে৷ সেখানে পুলিশের সঙ্গেও একপ্রস্থ বাদানুবাদ হয় মৃতের পরিবারের লোকজনের৷ পুলিশ জানায়, অভিযোগ করলে মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হবে৷ এরপরই পরিবারের লোকেরা পিছু হঠে মৃতদেহ নিয়ে ঘরে ফেরেন৷ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান ভাঙড়-১ ব্লকের স্বাস্থ্য আধিকারিক অনিমেষ হোড়৷

আরও পড়ুন: ব্লক প্রশাসনের কর্মকাণ্ড বলবে তথ্যচিত্র

২১ শতকেও অশিক্ষা, অসচেতনতার কারণে প্রতিদিনই মরতে হয় বহু প্রসূতিকে৷ অথচ নিরাপদ মাতৃত্ব প্রতিটি প্রসূতির অধিকার৷ প্রতি বছর বিশ্ব নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস পালিত হয় ঘটা করে৷ নানা অনুষ্ঠান, বহু ভাষণ৷ কিন্তু এসবের পরও বিভিন্ন জেলায় রোজই প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে৷ শুধু জেলা কেন শহরের বহু হাসপাতালেও এরকম ঘটনার বহু উদাহরণ রয়েছে৷

অসচেতনতা, অযত্ন, প্রসব পূর্ব নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শে না থাকা যেমন একজন নারীর সুস্থ প্রসবের ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে৷ তেমনই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিবেশ, চিকিৎসক, নার্সদের গাফিলতিও কিন্তু প্রসূতি মৃত্যুর ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ মেডিক্যাল কলেজ হোক কিংবা স্বাস্থ্যকেন্দ্র-সুস্থ পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতাটা কিন্তু সকলেরই একইরকম৷

Advertisement
----
-----