শ্রীনগর: মঙ্গলবারই ইঙ্গিত মিলেছিল৷ তিন দলই সম্মত হয়েছিল বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট দাঁড়াতে৷ সেই ইঙ্গিতেই জম্মু কাশ্মীরে নয়া সমীকরণের সূত্র খুঁজতে শুরু করেছে দেশের রাজনৈতিক মহল৷

সূত্রের খবর বিজেপির বিরুদ্ধে হাত ধরতে চলেছে কংগ্রেস, পিডিপি ও ন্যাশনাল কনফারেন্স৷ কাশ্মীরে বর্তমানে রাজ্যপালের শাসন চলছে৷ ১৯ ডিসেম্বর সেই ৬মাসের মেয়াদের শেষ দিন৷ তারপরেই শুরু হবে রাষ্ট্রপতির শাসন৷ তবে ৮৭ আসনের রাজ্য বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন রাজ্যপাল সত্যপল মালিক৷

আরও পড়ুন : মা কালীর মন্ত্র পাঠ করেই অপরাধ করতো এই সিরিয়াল কিলার

ফলে আগাম নির্বাচনের একটা সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে৷ একদিকে রয়েছে ২৫ বিধায়ক নিয়ে বিজেপি, যাদের সমর্থন করছে পিপলস কনফারেন্সের মাত্র ২জন বিধায়ক৷ কিন্তু এতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে গেলে প্রয়োজনীয় সেই ৪৪ ম্যাজিক সংখ্যায় পৌঁছতে পারছে না বিজেপি৷

এখানেই পাশার চাল উলটাতে কোমর বাঁধছে তিন দল৷ কংগ্রেস, এনসি ও পিডিপি৷ এরআগে, ১৯৯৯ সালের প্রতিষ্ঠিত পিডিপি ২০০২ সালে কংগ্রেস ও কিছু স্বতন্ত্র বিধায়কের সমর্থন নিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করে। ২০০৮ সালে সরকার গঠনে ব্যর্থ হলেও ২০১৫ সালে বিজেপির সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসে। তবে বর্তমান পরিসংখ্যান বলছে পিডিপির কাছে ২৮ জন বিধায়ক, কংগ্রেসের কাছে ১২ ও এনসির কাছে ১৫ জন বিধায়ক রয়েছে৷ ফলে পরিষ্কার সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যাচ্ছে এই জোট৷ সেই রাস্তাতেই হাঁটতে চাইছে তাঁরা৷

আরও পড়ুন : মুম্বই-এর হোটেলে রাত কাটালেন রনবীর আলিয়া

যদিও ন্যাশনাল কনফারেন্সের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে জোট সরকার গড়তে তারা আগ্রহী না হলেও, বাইরে থেকে সেই সরকারকে সমর্থন দেবেন তাঁরা৷ এই সমীকরণ বাস্তবায়িত হলে, ফের মুখ্যমন্ত্রী পদে দেখা যেতে পারে পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতিকে৷

চলতি বছরেই পিডিপি-র উপর থেকে বিজেপি সমর্থন তুলে নেওয়ায় সংখ্যালঘু হয়ে পড়ে জোট সরকার। ফলে, মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে বাধ্য হয়েই পদত্যাগ করতে হয় মেহবুবা মুফতিকে। এরপরেই একটা জল্পনা তৈরি হয়েছিল যে, কংগ্রেস ও অন্যান্যদের সঙ্গে জোট গড়তে পারে পিডিপি। কিন্তু তখনই সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ। পিডিপি-কে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেছিলেন, সেখানে রাজনৈতিক জমি হারিয়েছেন পিডিপি প্রধান মেহবুবা মুফতি। ফলে তৈরি হওয়া এই জোট জল্পনা ভ্রান্ত।

----
--