নয়াদিল্লি: চ্যালেঞ্জ ছুড়তে গিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন ট্রাই চেয়ারম্যান আর এস শর্মা৷ এর আগে আধার নিয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস দেখিয়ে মুশকিলে পড়েছিলেন৷ এবার ট্রাই চেয়ারম্যানের পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস করে দিলেন এথিক্যাল হ্যাকাররা এবং প্রমাণস্বরূপ অ্যাকাউন্টে এক টাকা জমাও করা হয়েছে৷ যদিও এখন আধার কর্তৃপক্ষ যেন জেদের বসে আত্নবিশ্বাসী ভাব দেখিয়ে দাবি করা হচ্ছে, আধার তথ্য সুরক্ষিত।

গত শনিবার আর এস শর্মা নিজের টুইটার হ্যান্ডলে নিজের আধার নম্বর দিয়ে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, এই আধার নম্বরের মাধ্যমে কেউ তাঁর ক্ষতি করতে পারে কিনা। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার কাটতে না কাটতে এথিক্যাল হ্যাকাররা ট্রাই চেয়ারম্যানের জন্ম তারিখ, ঠিকানা, প্যান ও ভোটার নম্বর, মোবাইল নম্বর ইত্যাদি গোটা ১৪টি তথ্য অনলাইনে ফাঁস করে দেন। এতেই তবে শেষ নয় এথিক্যাল হ্যাকাররা তাঁর পাঁচটি ব্যাংকের (এসবিআই, আইসিআইসিআই, পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক, ব্যাংক অব ইন্ডিয়া এবং কোটাক মহিন্দ্রা) অ্যাকাউন্ট নম্বর আইএফসি কোড ইত্যাদি প্রকাশ করে দিয়েছে ৷ এই ব্যবস্থার দুর্বলতা জানান দিতে ট্রাই চেয়ারম্যানের ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার অ্যাকাউন্টে আধার এনেবল্‌ড পেমেন্ট সার্ভিসের (এইপিএস) মাধ্যমে এক টাকা জমা দেওয়ার স্ক্রিন শটও প্রকাশ্যে এনেছেন হ্যাকাররা।

Advertisement

এছাড়া ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি ট্রাই প্রধানের ডি-ম্যাট অ্যাকাউন্টের তথ্যও পেয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেছেন এই হ্যাকাররা। স্বাভাবিকভাবেই ট্রাই প্রধানের চ্যালেঞ্জের জেরে আরও কী কী তথ্য হ্যাকারদের হাতে চলে এসেছে , তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে৷। তেমনই আবার এই নিয়ে মশকরা করতেও ছাড়েননি ফরাসি ওয়েব-সুরক্ষা বিশারদ এলিয়ট অ্যাল্ডারসন। ব্যঙ্গ করে পরামর্শ দিয়েছেন, ট্রাই প্রধানের এবার যেন জি মেল-এর পাসওয়ার্ড।

যদিও এরপরেও ট্রাই চেয়ারম্যান সব কটাক্ষ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, পাসওয়ার্ড তিনি বদলাবেন না। পাশাপাশি ট্রাই কর্তৃপক্ষের দাবি করেছিলেন, আদৌ আধার থেকে জন্ম তারিখ, বাড়ির ঠিকানা, প্যান নম্বর ইত্যাদি তথ্য পায়নি হ্যাকাররা, অন্য কোনওভাবে পেয়েছেন হ্যাকাররা। যদিও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কেমন করে টাকা জমা পড়ল সে বিষয়ে এখনও ট্রাইয়ের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

----
--