পিএইচই’র পানীয় জলেই রোগ ছড়াচ্ছে এলাকায়

স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: পিএইচই পানীয় জল থেকে রোগ ছড়ানোর অভিযোগ উঠল বাঁকুড়ার সারেঙ্গা এলাকায়৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইতিমধ্যে সারেঙ্গার নামো পাড়া ও দক্ষিণ পাড়ায় সাত জনের ও বেশি জলবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন৷ তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার কাজ চলছে৷

সারেঙ্গার নামো পাড়া ও দক্ষিণ পাড়ার বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, পিএইচই পাইপের সাহায্যে যে জল সরবরাহ করা হয়, তাতে বেশ কিছু দিন ধরে নোংরা বের হচ্ছে৷ এমনকি জল থেকে পোকা ও দুর্গন্ধ বের হচ্ছে বলেও তাদের অভিযোগ৷

ওই পানীয় জল খেয়েই এলাকায় অনেকে জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ৷ এই রোগের উপসর্গ হিসেবে অনেকে পেটের অসুখে ভুগছেন বলে জানিয়েছেন তারা৷ এই ব্যাপারে স্থানীয় ভাবে স্বাস্থ্য দফতরে জানানো হলেও কোনও কাজ হয়নি বলে অভিযোগ৷ স্থানীয় বাসিন্দা ঝিলিক মণ্ডল বলেন, ‘‘অবিলম্বে ব্যবস্থা না নিলে গোটা গ্রাম হয়তো আক্রান্ত হয়ে পড়বে৷’’

- Advertisement -

স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীর অভিযোগ অস্বীকার করে জানানো হয়েছে, ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই এলাকার স্বাস্থ্যকর্মী আশা কর্মীরা নিয়মিত গ্রামে যাচ্ছেন৷ এলাকাবাসীকে সচেতন করার পাশাপাশি নিয়মিত খাবার জল ফুটিয়ে খেতে বলছেন৷ এধরণের কোন উপসর্গ দেখলেই নিজেরা চিকিৎসা না করে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন৷

এবিষয়ে সারেঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান গোরা চাঁদ মণ্ডলও সংবাদ মাধ্যমের কাছে স্বীকার করেন৷ বলেন, ‘‘পিএইচই’র জল থেকে মাঝে মাঝে নোংরা, দুর্গন্ধ জল বের হচ্ছে৷ পাইপগুলি বিভিন্ন জায়গায় ফেটে গিয়েছে৷ ময়লা জল বের হচ্ছে৷’’ সম্ভবত সেই জল থেকে জন্ডিস হচ্ছে বলে তাঁর অনুমান৷ এলাকার স্বাস্থ্য কর্মী, আশা কর্মীদের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘‘মানুষকে সচেতন তারা যেমন করছেন তেমনি এবিষয়ে সাধারণ মানুষ, স্বাস্থ্য দফতর ও প্রশাসনের সঙ্গে এবিষয়ে যোগসূত্রের কাজ তারা করছেন৷ কিন্তু জলই যদি ময়লা থাকে তাহলে তারা কি করবেন? জবাবে বলেন, ‘‘এখানে যারা পাইপ লাইনে কাজ করেন তাদের বলেছি৷ ওরা বলছে পাইপ লাইন পরিষ্কার হচ্ছে৷ তবে এই রোগের প্রকোপ বন্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে৷”

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছেন সারেঙ্গার বিডিও অভিষেক চক্রবর্তী৷ বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে ওই এলাকা থেকে জলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে৷ তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে৷ পিএইচই দফতরকে বিষয়টি দেখার জন্য বলা হয়েছে৷ এলাকায় স্বাস্থ্য কর্মীরা নিয়মিত যাচ্ছেন, মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান৷

Advertisement ---
-----