মুকুলের আনুগত্যে জেলায় জেলায় তৃণমূল ছাড়ার হিড়িক

সুমন বটব্যাল, কলকাতা: অরুণ জেটলির সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তাঁর অব্যহতি পরেই কলকাতায় নারদ কান্ডে দিলীপ ঘোষের ‘ক্লিনচিট’৷ এই দুই ঘটনা প্রবাহের জেরে তৃণমূলের এক সময়ের ক্রাইসিস ম্যানেজারের বিজেপি-তে যোগদান এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল৷ নতুন দল গঠন বা বিজেপি-তে যোগদান প্রসঙ্গে মুকুল রায় এখনও রহস্য জিইয়ে রাখলেও ইতিমধ্যে জেলায় জেলায় তৃণমূলের অন্দরে দল ছাড়ার হিড়িক শুরু হয়ে গিয়েছে৷

নজিরবিহীনভাবে এদিনই বধর্মানের পারবীরহাটায় মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ছবি সম্বলিত হোর্ডিংয়ের পাশেই বর্ধমান ‘নাগরিক বৃন্দে’র নামে মুকুল রায়ের হোর্ডিং দেখা গিয়েছে৷ উত্তর-২৪পরগণার জগদ্দল ও নৈহাটির গ্রামীণ মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতরের জেলা কর্মাধক্ষ্য পার্থ সারথী পাত্র (পানু) ইতিমধ্যেই দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছেন৷ জানিয়েছেন, ‘মুকুলদা যা সিদ্ধান্ত নেবেন, তাই মাথা পেত নেব৷’’ একই ঘটনা ঘটেছে উত্তর দিনাজপুরেও৷ তৃণমূল নেতারা প্রকাশ্যে ঘটনাগুলিকে গুরুত্ব দিতে না চাইলেও রাজ্যের জেলায় জেলায় যা খবর, তাতে মুকুল রায়ের নতুন সিদ্ধান্তর দিকে মুখিয়ে রয়েছেন নীচু তলার তৃণমূল কর্মীরা৷

কর্মীদের উৎসাহ বাড়িয়ে রাজধানী দিল্লিতে মুখ খুলেছেন মুকুল৷ বলেছেন, ‘‘রাজ্যের আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে সব আসনে প্রার্থী দেওয়ার মতো ক্ষমতা আমার আছে৷ আমার সঙ্গে লোকও আছে৷ সময় এলেই সব দেখতে পাবেন৷’’ ওয়াকিবহাল মহলের মতে, নাম না করে কার্যত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন তৃণমূলের ‘প্রাক্তন’ চাণক্য৷ সূত্রের খবর, দক্ষিণবঙ্গের একটা বড় অংশের তৃণমূলের সক্রিয় কর্মীরা মুখিয়ে রয়েছেন তাঁর নয়া রাজনৈতিক আত্মপ্রকাশের দিকে৷

- Advertisement -

মুকুল ঘনিষ্ট শিবিরের অবশ্য দাবি, শুধু সক্রিয় তৃণমূল কর্মীরাই নয়, গোপনে ‘দাদা’র সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন দক্ষিণবঙ্গের একাধিক বিধায়ক ও নেতাও৷ চলতি সপ্তাহের শুরুতেই রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর সাংবাদিক করবেন মুকুল রায়৷ তৃণমূল ছাড়ার প্রসঙ্গে তিনি কি ‘বিস্ফোরক’ মন্তব্য করেন সেদিকেও কৌতূহল রয়েছে সব মহলেরই৷

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দীর্ঘ দু’দশক ধরে যেভাবে তিলে তিলে সংগঠনকে গড়েছেন তিনি, তাতে তৃণমূলের নিচু তলার একাংশ কর্মী আনুগত্যের কারণেই তাঁর শিবিরে ঝুঁকতে পারে৷ তৃণমূলের রাজ্যস্তরের এক নেতার অকপট স্বীকারোক্তি, ‘‘বুথস্তরের কর্মীদের সঙ্গেও মুকুলদার সরাসরি যোগাযোগ ছিল এবং রয়েছে৷ ফলে সম্পর্কের কারণ দলে কিছুটা ভাঙন অসম্ভব নয়৷’’

Advertisement ---
-----