আমার বন্ধুরা ‘ভার্জিন মোহিতও’ দেখলে নাক শিঁটকাবে

শুভায়ণ রায়, কলকাতা: ইন্ডাস্ট্রিতে সেরকম ভালো বন্ধু এখনও গড়ে ওঠেনি তাঁর জীবনে৷ ফলে এখন পেশার নেশাতেই মগ্ন বছর ২১-এর এই অভিনেত্রী৷ ‘ভার্জিন মোহিতও’-র কাজ  শেষ করে এখন আবার তিনি ফিরেছেন টেলিপর্দায়৷ নয়া ধারাবাহিকটি নিয়ে চরম ব্যস্ত অভিনেত্রী পিয়া দেবনাথ৷ ‘জয়কালী কলকাত্তাওয়ালী’ সিরিয়ালের নয়া গল্পে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন তিনি৷ এর মাঝেই ‘ভার্জিন মোহিতও’-র সাকসেস, কেরিয়ার, এবং তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আড্ডা দিলেন অভিনেত্রী৷

কলকাতা ২৪x৭: ‘ভার্জিন মোহিতও’ নিয়ে কী রকম রেসপন্স পাচ্ছো?
পিয়া: সত্যিকথা বলতে খুবই ভালো এবং পসিটিভ রেসপন্স পাচ্ছি৷ এখনও অবধি সেরকম নেগেটিভ কোন কমেন্ট পাইনি৷ কারণ চিত্রনাট্যটা এতটাই ইউনিক যে দর্শকরা কৌতূহল নিয়ে দেখছে৷ ফলে ফিডব্যাক দারুন৷ প্রচুর চেনা মানুষ কল করে ফিডব্যাক দিয়েছেন৷ তবে মিথ্যা বলব না অনেক সিনিয়র ডিরেক্টর, অ্যাক্টররা ফোন করে কিছু ভুল, ত্রুটি ধরে আমায় অ্যাডভাইসও দিয়েছেন৷ খানিকটা থেমে…তবে আমার একটা সুপ্ত ইচ্ছা আছে, আমার পছন্দের অভিনেতা আবীর চট্টোপাধ্যায় আমার এই কাজ দেখে কিছু একটা ফিডব্যাক দিক৷

আরও পড়ুন: রাজ-শুভশ্রীর ভালোবাসার ভিডিও দেখলে চোখ জুড়বে আপনার

কলকাতা ২৪x৭: ক্যামেরার সামনে এই ছবিতে তোমরা একটা লেডি গ্যাং৷ ক্যামেরা পেছনে সবার সঙ্গে সম্পর্ক কেমন?
পিয়া: না, এমন নয় যে আমাদের মধ্যে সবসময় দেখা হয় বা কথা হয়৷ তবে সবার মধ্যে একটা ভালো কেমিস্ট্রি তৈরী হয়েছে৷ আসলে সবাই নিজের কেরিয়ার নিয়ে এতটাই ব্যস্ত যে সবসময় এগুলো পসিবেল নয়৷ কিন্তু আমরা প্ল্যান করছি খুব শিগগিরি দেখা করে একটা গার্লস পার্টি করব৷

কলকাতা ২৪x৭: ‘ভার্জিন মোহিতো’-র প্রমোশনের সময় তোমার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটা ভিডিও দেখেছিলাম৷ সেখানে তুমি ওয়েব সিরিজের একটা গান করেছিলে৷ কখনও গান শিখেছো?
পিয়া: জোরে হেসে…এ বাবা, না না, আমি কোন ট্রেনড সিঙ্গার নই গো৷ তবে তুমি নোটিশ করেছো তাঁর জন্য ধন্যবাদ৷ যদিও আমার গলায় গান শুনে একজন কমেন্ট করেছিলেন৷ তিনি হলেন সুদেষ্ণাদি৷ তিনি বলেছিলেন, “ইউ অ্যাকচুয়েলি স্যাং রিয়েলি ওয়েল৷”

কলকাতা ২৪x৭: অভিনয়কে কেরিয়ার হিসাবে বাছার জন্য পরিবারকে কতটা পাশে পেয়েছো?
পিয়া: আমি একদমই কারোর রেফারেন্সে এই ইন্ডাস্ট্রিতে আসিনি৷ প্রচন্ড স্ট্রাগেল করে আমায় এই জায়গায় আসতে হয়েছে৷ যখন নবম বা দশম শ্রেনীতে পড়ি, তখন থেকেই অভিনয় সম্পর্কে একটা ভালোলাগা সৃষ্টি হয়৷ আমার স্কুলিং লাইফ কেটেছে নৈহাটিতে৷মাধ্যমিক পরীক্ষার পরে মাঝেমধ্যেই একা একা কলকাতায় এসে অডিশন সম্পর্কে খোঁজখবর নিতাম৷ এরপরেই আমার কেরিয়ারে প্রথম সিরিয়াল ‘দাসী’তে কাজ পাই৷ একটা ছোট্ট রিপোর্টারের চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম৷ তবে দু’মাস কাজ করে আবার আমায় ফিরে যেতে হয় নৈহাটিতে৷ কারণ উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষা ছিল৷পরীক্ষা শেষের পর আবার সেই স্ট্রাগলিং লাইফ৷ অবশেষে ‘পটলকুমার গানওয়ালা’-র জন্য অডিশন দিই৷ ওটাই থেকেই আমার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট৷

আরও পড়ুন: কুইনের সময় খারাপ!

কলকাতা ২৪x৭: ওয়েব সিরিজ করে আবার সিরিয়াল৷ পছন্দের প্লাটফর্ম কোনটা?
পিয়া: অবশ্যই দুটোই৷ কারণ দুটো পুরোপুরি ভিন্ন ধরনের জায়গা৷ আমি কোনদিনও অস্বীকার করতে পারব না যে সিরিয়াল আমায় পরিচিতি দেয়নি৷ আবার ওয়েব সিরিজ আমায় অন্যভাবে দর্শকদের সামনে প্রেজেন্ট করেছে৷ তবে মাঝেমধ্যে সিরিয়াল একঘেঁয়ে হয়ে যায়৷ একই চরিত্র, একই সেট, একটানা শ্যুট অনেকেই অধৈর্য হয়ে পড়েন৷ তবে ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে গেলে সবকিছুতে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে৷

কলকাতা ২৪x৭: ইদানিং তুমি নিশ্চয় শুনেছো সিরিয়ালে কাজ একটানা কাজ করে অনেকেই ফাসট্রেডেট হয়ে সুইসাইড করছে৷ তোমার মধ্যে কখনও ফাসট্রেশন আসেনি?
পিয়া: সত্যি কথা বলতে অধৈর্য অনেকেই হয়ে পড়ে৷ আমিও ঘেঁটে গিয়েছিলাম একটাসময়৷ একটানা একই জিনিস করে যাওয়া৷ বিশেষত একজন অভিনেতার কিন্তু চরিত্রের ক্ষিদে সবসময়ই থাকে, ফলে চরিত্রের যদি শেড না থাকে ফাসট্রেশন আসবেই৷ আমারও এসেছিল৷ তবে আমার জীবনে অতিরিক্তমাত্রায় কিছুই হয়নি যার জেরে আমি সুইসাইড করব৷

কলকাতা ২৪x৭: তাহলে তুমি নৈহাটির মেয়ে?
পিয়া: না, আমি নৈহাটির মেয়ে নই৷ আসলে আমার স্থায়ী ঠিকানা সেরকম কিছু নেই৷ ছোটবেলাটা আমার কাটে সোনারপুরে৷ ওখানে নিজেদের বাড়ি৷এরপর বাবার চাকরির জন্য আসতে হয় নৈহাটিতে৷ সেখানেও বাড়ি আছে৷ আবার এখন কলকাতায় বাঘাযতিন একটা ফ্ল্যাটও রয়েছে৷

আরও পড়ুন: অষ্টমঙ্গলায় গেলেন ‘রাজশ্রী’, কী কী হল সেখানে?

কলকাতা ২৪x৭: আচ্ছা যদি তুমি অভিনেতা না হতে তাহলে কি হওয়ার ইচ্ছে ছিল?
পিয়া: আমি অভিনেতা না হলে অবশ্যই নাচ নিয়ে কিছু করতাম৷ আসলে কর্পোরেট দিকে আমার ঝোঁক ছিল না৷ বরাবরই ক্রিয়েটিভ ফিল্ডেই কিছু করার ইচ্ছে ছিল৷

কলকাতা ২৪x৭: ওয়েব সিরিজে পলা একজন ছোট শহরের মেয়ে, কলকাতায় পড়াশুনো করতে এসে নতুন বন্ধু, ননভেজ জোকস এসবে জড়িয়ে পরা৷ পিয়ার জীবনেও কী এরকম কিছু ঘটেছে?

পিয়া: না, দুঃখের বিষয় আমার জীবনে এরকম কিছুই ঘটেনি৷ কারণ আমার জিগড়ি দোস্ত টাইপের কোন বন্ধুই এখনও হয়নি, যার সঙ্গে মন খুলে সবরকম কথা বলব৷ কলকাতা কালচারে্র মেয়ে হয়েও আমার স্কুলজীবনটা যেহেতু নৈহাটিতে কাটে৷ ফলে বন্ধুমহলটাও ওখানে৷ তাঁরা কিন্তু আবার ভার্জিন মোহিতও দেখলে একটু নাক শিঁটকোবেই৷ ফলে ওইরকম জোকস বা আলোচনা কখনই নৈহাটিতে থেকে আমার হয়নি৷ সেই অর্থে আমার জীবনে ক্লোজ ফ্রেন্ডের খুব অভাব৷ এখনও আমি হন্যে হয়ে খুঁজছি এমন কাউকে যাকে আমি বেস্ট ফ্রেন্ড বলতে পারব৷

কলকাতা ২৪x৭: আর রিলেশনসিপ স্টেটাস…?
পিয়া: সিঙ্গেল…তবে বন্ধু খুঁজতেই আপাতত বেশী আগ্রহী৷

কলকাতা ২৪x৭: বিয়ের প্ল্যানিং কিছু নেই?
পিয়া: জোরে হেসে…সবে আমি ২১৷ এখনও অনেক দূরে৷ তবে সবথেকে চাপের প্রশ্ন কিন্তু এটাই!