ভোটের আগে রীতি ভেঙে মোদীর পতাকা উত্তোলনে রাজনীতির গন্ধ!

নয়াদিল্লি: বছরে এই নিয়ে ২য় বার লাল কেল্লায় পতাকা উত্তোলন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ প্রথা অনুযায়ী ভারতের স্বাধীনতা দিবস ১৫ অগস্টের দিনই এখানে পতাকা উত্তোলন করেন প্রধানমন্ত্রী৷ ১৯৪৩ সালের ২১ অক্টোবর নেতাজি সিঙ্গাপুরে আজাদ হিন্দ সরকার গঠন করেন। আর এই আজাদ হিন্দ সরকারের ৭৫তম বর্ষে সম্মান প্রদর্শনে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় লাল কেল্লায়৷ সেখানেই রবিবার সকালে লাল কেল্লায় তেরঙ্গা উত্তোলন করলেন তিনি৷

পাশাপাশি দেশের জন্য যাঁরা আত্মত্যাগ করেছেন তাঁদের প্রতি পূর্ববর্তী সরকার কোনও সম্মান প্রদর্শন করেনি বলেও তোপ দেগেছেন প্রধানমন্ত্রী৷ তবে বিজেপির আমলে ছবিটা যে অন্যরকম হবে তার আভাস আগেই দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ সেই মতো ২১ অক্টোবর পতাকা উত্তোলন করতে দেখা গেল তাঁকে৷

পড়ুন: আজাদ হিন্দ সরকারের ৭৫, লালকেল্লায় তেরঙা ওঠানোর প্রশ্নে চুপ মোদী

প্রসঙ্গত, আজাদ হিন্দ সরকারের ৭৫ বর্ষপূর্তিতে লালকেল্লার মাথায় উঠুক জাতীয় পতাকা, আজাদ হিন্দ ফৌজের সম্মানে মোদী সরকারের কাছে এই আবেদন জানান রাজ্য বিজেপির এক নেতা৷ রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি চন্দ্রকুমার বসু, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর প্রপৌত্র৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কয়েকবার চিঠি লিখে চন্দ্রকুমার বসু জানিয়েছিলেন, আজাদ হিন্দ বাহিনীর সম্মানে ২১ অক্টোবর লালকেল্লার মাথায় উঠুক তেরঙা৷ কারণ ওইদিনই সংয়ুক্ত ভারতের প্রথম সরকারের ৭৫ বছর হবে৷ ওই স্মরণীয় দিনে লালকেল্লার মাথায় তেরঙা ওঠা উচিত৷

যদিও নেতাজির এই প্রপৌত্র এও মনে করেন, আজাদ হিন্দ সরকারের ৭৫ বর্ষপূর্তি লালকেল্লায় উদযাপন করার জন্য কোনও সরকারেরই অনুমতি প্রয়োজন নেই৷ ২১ অক্টোবর আজাদ হিন্দ বাহিনীর ১২ জন সেনা লালকেল্লায় আজাদ হিন্দ সরকারের ৭৫ বর্ষপূর্তি পালন করবে৷৷ তিনি ছাড়াও উদ্যোক্তাদের মধ্যে থাকার কথা ছিল মেজর জেনারেল জি ডি বকসি৷ চন্দ্রকুমার বলেছিলেন, ‘‘আমরা চাইবো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেই সেদিন পতাকা উত্তোলন করুন৷ উনি না এলে,১২ জন সেনা লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন, ঠিক যেমন নেতাজি চাইতেন৷’’

পড়ুন: রাজধানীতে আজাদ হিন্দ বাহিনীর সংবর্ধনা

রবিবার সকালে ছবিটা যেন একটু অন্যরকমভাবেই ধরা পড়ল৷ নেতাজি এবং তার আজাদ হিন্দ সরকারের সম্মানে পতাকা উত্তোলন করে বক্তব্য পেশ করেন মোদী৷ যদিও এই রীতি ভেঙে মোদীর এই সম্মান প্রদর্শনকে অনেকেই সহজভাবে নিচ্ছে না৷ আগামী বছরেই লোকসভা নির্বাচন৷ তার আগে মোদীর এই দেশপ্রেম এবং আজাদ হিন্দ সরকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আবেগকে ভোটের আগে গেরুয়া শিবিরের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের অনেকেই৷

----
-----