‘দিদি’র প্রতি মোদীর খাতিরে দিল্লিতে জমি তৃণমূলের!

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা আসলে নাটক!! যে কারণে, প্রকাশ্যে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা চললেও, আসলে ‘দিদি’র প্রতি খাতির বাড়ছে মোদীর!! এবং, যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার ওই নাটকের আড়ালে চলা খাতিরদারির জন্যই দিল্লির কেন্দ্রস্থলে জমিও পাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস!!

আরও পড়ুন: বিশ্বাসযোগ্যর নামে ভোটারদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা!

বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে এ ভাবেই এ বার রাজনৈতিক আক্রমণ করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী৷ রবিবার সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক এবং টুইটারে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির মন্তব্য, ‘‘দিদি’র প্রতি মোদীর খাতির বাড়ছে৷ তাই বলতে না বলতেই তৃণমূল পার্টির জন্য দিল্লিতে অফিস বানানোর জায়গা বরাদ্দ হল৷ ‘দিদি’ মোদির যুদ্ধ যুদ্ধ নাটকের অন্তরালে খাতিac.fbরদারি প্রশ্ন তুলছে!!!’

আরও পড়ুন: অনেক ছেলেবন্ধু থাকলেই কোনও মেয়ে খারাপ কেন!!

রাজনৈতিক মহলের বিভিন্ন অংশ-ও এমন মনে করছে যে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখন যেনতেন প্রকারে সন্তুষ্ট করার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার৷ তার অন্যতম কারণ, জিএসটি বিল৷ তবে, শুধুমাত্র এই বিল-ও নয়৷ জিএসটি বিল পাস করানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ইস্যুতে যাতে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থন পেতে পারে বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকার, তারই চেষ্টায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সন্তুষ্ট করতে চাইছেন নরেন্দ্র মোদী! যে কারণে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির সঙ্গে বৈঠকের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সন্তুষ্ট করার বার্তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার! যার জেরে, কেন্দ্রীয় রাজস্ব থেকে পশ্চিমবঙ্গকে ৪২ শতাংশের বেশি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি!

আরও পড়ুন: ‘তোমাকে চাই’-এর আইডল এখন ডল হয়ে গিয়েছেন!

পশ্চিমবঙ্গের মতো কেরল এবং অন্ধ্রপ্রদেশের জন্যেও অবশ্য এ ভাবে বিশেষ অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি জানানো হয়েছে৷ যদিও, চতুর্দশ অর্থ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী আগেই স্থির হয়েছে যে, রাজস্ব থেকে ৪২ শতাংশ রাজ্যকে প্রদান করা হবে৷ এ দিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও দাবি, পশ্চিমবঙ্গের যেটা প্রাপ্য, সেটা কেন্দ্রীয় সরকারকে দিতে হবে৷ কিন্তু, এ ভাবে বিশেষ অর্থ বরাদ্দের পিছনে কেন্দ্রীয় সরকারকে সমর্থনের বিষয়টি কম গুরুত্বপূর্ণ নয় বলেও মনে করছে রাজনৈতিক মহলের বিভিন্ন অংশ৷ যদিও, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তিন বছরের জন্য ঋণ পরিশোধের দায় থেকে রাজ্যকে ছাড় দেওয়া হোক৷ এই দাবি অবশ্য এখনও মানেনি কেন্দ্রীয় সরকার৷ যে কারণে, বিশেষ বরাদ্দ প্রদান করে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যকে কিছুটা সন্তুষ্টির বার্তা দিতে চাইল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের বিভিন্ন অংশ৷

আরও পড়ুন: মহাশ্বেতা দেবী জানতেন তসলিমাকে ফেরানো অসম্ভব!

তবে, শুধুমাত্র আবার বিশেষ অর্থ বরাদ্দের বিষয়টিও নয়৷ এমনই জানা গিয়েছে যে, দিল্লির কেন্দ্রস্থলে যাতে আধুনিক পার্টি অফিস তৈরি করতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস, তার জন্য প্রায় দেড় বিঘা জমি দিচ্ছে কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রক৷ তৃণমূল কংগ্রেসকে যাতে দ্রুত জমি দেওয়া যায়, তার জন্য নগরোন্নয়ন মন্ত্রী বেঙ্কাইয়া নাইডু স্বয়ং তাঁর মন্ত্রককে বলেছেন বলেও জানা গিয়েছে৷ আর, তারই জেরে, পার্টি অফিস করার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকে তিনটি জমির কথা জানানো হয়েছে৷ ওই তিনটির মধ্যে কোন জমি পছন্দ, সেই বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারকে জানানোর পরেই দ্রুত জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলেও জানা গিয়েছে৷ রাজনৈতিক মহলের বিভিন্ন অংশ মনে করছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুশি করতে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার৷

আরও পড়ুন: সারদাকাণ্ডে এক সাংবাদিকের আত্মহত্যা এবং মিডিয়া

দিল্লির কেন্দ্রস্থলে প্রায় দেড় বিঘা জমির দাম কয়েক কোটি টাকা৷ তবে, রাজনৈতিক দলকে দেওয়া হচ্ছে বলে ওই জমি অনেক কম দামে পাবে তৃণমূল কংগ্রেস৷ এ দিকে, এমনও জানা গিয়েছে যে, জমির জন্য কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রকে তৃণমূল কংগ্রেস ২৫ লক্ষ টাকা জমা দিয়েছে৷ জমির দাম স্থির হওয়ার পরে বাকি টাকাও দলের তহবিল থেকে দেওয়া হবে৷ এবং, তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এমন জানানো হয়েছে, লোকসভা আর রাজ্যসভার সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী দিল্লিতে পার্টি অফিসের জন্য অনেক আগেই জমি পাওয়ার কথা৷ কিন্তু, এতদিন এই জমি দেওয়া হয়নি৷ সংসদ ভবনেও তৃণমূল কংগ্রেসের  কোনও অফিস ঘর ছিল না৷ সম্প্রতি সংসদ ভবনের এক তলায় বড়সড় ঘর দেওয়া হয়েছে পার্টি অফিসের জন্য৷ যদিও, দিল্লিতে পার্টি অফিস করার জন্য প্রতিটি দলকে জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইউপিএ সরকার৷

__________________________________________________________________
আরও পড়ুন:

(০১) এলিয়েনের কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাইবে লুপ্তপ্রায় মানুষ!
(০২) ভালো বাসা-র তুলনায় ইলিশ যে বেশি ভালোবাসার!
(০৩) প্রথার নামে প্রকাশ্যে গণধর্ষণ যেখানে এখন এক খেলা!
(০৪) ভালোবাসার অধিকার প্রাপ্তির জন্য আর্জি প্রধানমন্ত্রীকে
(০৫) সন্তানের পরিচয় জানাতে প্রথমেই আসুক মায়ের নাম!
(০৬) ৪.৫ কোটি ভুক্তভোগীতেও চাপা পড়ে যাবে সারদাকাণ্ড!

__________________________________________________________________

Advertisement
----
-----