‘চৌকিদারকে সরাতে একজোট হয়ে শপথ নিয়েছে মমতা’

দুর্গাপুর: একইদিনে ব্যাক টু ব্যাক দুটি সভায় পাওয়ার প্যাকড ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ বেলা ১২টায় ঠাকুরনগরের পর দুপুর ২.৩০মিনিট নাগাদ দুর্গাপুরে রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেসকে বিভিন্ন ইস্যুতে কড়া বার্তা দিলেন তিনি৷ আর সেই বার্তার মধ্যে জায়গা করে নিল মহাজোট বা মহাগটবন্ধন বিষয়টি৷ যে মহাজোট নিয়ে এর আগেও বারবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তোপ দেগেছেন তিনি, এদিনও সেই জোট প্রসঙ্গই ফের একবার তুলে ধরলেন তিনি৷

প্রসঙ্গত, গত ১৯ জানুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেসের ব্রিগেডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একইমঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় স্তরের অন্যান্য বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা৷ দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল থেকে সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব, কংগ্রেসের মল্লিকার্জুন খাড়গে, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব, শত্রুঘ্ন সিনহা, কুমারস্বামী, চন্দ্রবাবু নাইডু, উপস্থিত ছিলেন হেভিওয়েট নেতারা৷

- Advertisement -

এই মঞ্চ থেকেই মোদী সরকার বিরোধী বার্তা দেন তৃণমূল সুপ্রিমো থেকে শুরু করে উপস্থিত ব্যক্তিত্বরা৷ মোদী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশকে রক্ষা করতে এক সুরে সুরে মেলান প্রত্যেকে, যা নিয়ে এই মহাজোটের ব্রিগেডকে নিয়ে মোদী বলেছিলেন, ‘বাংলা থেকে বাঁচাও বাঁচাও ধ্বনি শোনা যাচ্ছে৷ সব দুর্নীতিগ্রস্তরা এক হয়েছে৷’

২২ জানুয়ারি মালদহ থেকে বিজেপির গণতন্ত্র বাঁচাও সভায় কটাক্ষ করেন অমিত শাহ৷ তিনি বলেছিলেন ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী হতে চান৷ কিন্তু ব্রিগেডের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ২৩ জন, যাঁর মধ্যে ৯ জনই প্রধানমন্ত্রী হতে চায়৷ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লাইন পড়ে গিয়েছে৷ নিজের স্বার্থের জন্য এরা দেশে মজবুর সরকার গড়তে চায় যাতে দুর্নীতি চালিয়ে যেতে পারে৷ কিন্তু দেশকে মজবুর নয়, মজবুত সরকার দিতে পারে একমাত্র একজন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ তার নেতৃত্বেই এনডিএ প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে৷’

আর ব্রিগেডের এই জোটকেই ফের একবার ঠাকুরনগরের মঞ্চ থেকে টার্গেট করলেন মোদী৷ তিনি বলেন, ‘যারা একসময় একে-অপরকে জেল পাঠানোর বন্দোবস্ত করেছিল, তারাই আজ গলা মেলাচ্ছে। ছবিতে দেখবেন সবাই কীরকম ভয় পেয়েছে, কারও ছেলে, কারও ভাই, কারও ভাইপো অপরাধী। তাই সবাই কলকাতায় এসেছিল। কীভাবে এই চৌকিদারকে সরাবে তার জন্য একজোট হয়ে শপথ নিয়েছে তারা। চৌকিদার দুর্নীতি ধরে ফেলছে তাই তাকে সরাতে সকলে এক মঞ্চে৷’ পাশাপাশি মোদী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হেলিকপ্টার আটকে, বিজেপিকে জমি না দিয়ে বেশিদিন গেরুয়া শিবিরকে আটকে রাখা যাবে না৷

অন্যদিকে, এক বৈদ্যুতিন চ্যানেলকে দেওয়া বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘মোদী সরকারের বিদায়ঘন্টা বেজে গিয়েছে৷ মোদীর সরকারকে নিয়ে কেউ খুশি নয়৷ বিভিন্ন রাজ্যের বিরোধী দলকে ফ্যাসিস্ট কায়দায়, হিটলারি কায়দায় প্রত্যেকের মুখ বন্ধ করার জন্য এজেন্সি দিয়ে বেঁধে রেখে দিয়েছে৷ …ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত নন মোদী৷ যাদের মানবিকতা নেই তাদের থেকে দানবিক প্রশ্ন শুনব না তো আর কি শুনব?’