ভারতের উপকূলে ভেসে উঠছে PNS গাজীর ধ্বংসাবশেষ

বিশাখাপত্তনম: ১৯৭১-এর যুদ্ধের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হল পাকিস্তানের সাবমেরিন পিএনএস গাজীর সলিল সমাধি। এটাই ছিল পাকিস্তানের প্রথম ফাস্ট-অ্যাটাক সাবমেরিন। ভারতীয় নৌবাহিনীর আক্রমণে ডুবে যায় সেটি। এবার সেই ঐতিহাসিক সাবমেরিনের ধ্বংসাবশেষ ভেসে উঠছে বিশাখাপত্তনম বন্দরের কাছে।

১৯৭১ ছাড়াও বেশ কয়েকটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল পাকিস্তানের এই গুরুত্বপূর্ণ ডুবোজাহাজ। কিন্তু ভারতের হাতে শেষ রক্ষা হয়নি। বিশাখাপত্তনম বন্দরের কাছে ডুবে গিয়েছিল সেই জাহাজ। এই জাহাজের ডুবে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে রহস্যও কম নেই। ঠিক কি কারণে ডুবে গিয়েছিল ওই জাহাজ, তা নিয়ে দ্বিমত রয়েছে।

বিশাখাপত্তনম বন্দরে প্রবেশের মুখে ওই পিএনএস গাজীর ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গিয়েছে। সমুদ্রের ২৪ মিটার গভীরে মিলেছে সেগুলি। ভারতীয় নৌসেনার সদস্যরা যখন রুটিনমাফিক জলের তলায় ডুব দিচ্ছিলেন, সেইসময় এগুলি চোখে পড়ে। এই ধ্বংসাবশেষ পর্যটনের কাজে লাগানো যাবে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর বঙ্গোপসাগরের বুকে সলিল সমাধি হয়েছিল পিএনএস গাজীর৷ সেইসঙ্গে কোণঠাসা হতে থাকা পাকিস্তানের সব আশা শেষ হয়ে যায়৷ পিএনএস গাজীর সলিল সমাধির এগারো দিন পরই ৯০ হাজারের বেশি পাকিস্তানি সেনা ঢাকায় ভারতের সামনে আত্মসমর্পণ করে৷ তৈরি হয় বাংলাদেশ৷

আইএনএস বিক্রান্ত অবস্থান করছিল বিশাখাপত্তনম বন্দরে৷ তাকে ধ্বংস করাই ছিল গাজীর লক্ষ্য৷ অবশেষে পাক সাবমেরিনটি বিশাখাপত্তনমের কাছে পৌঁছে যায়৷ গাজী থেকে পাঠানো বিশেষ কোড ভেঙে সতর্ক হয় ভারতীয় নৌসেনা৷ দ্রুত বিক্রান্ত-কে সরিয়ে দেওয়া হয়। গাজীকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা নেয় ভারতীয় নৌ বাহিনী৷ কৌশলে বিক্রান্তের ছদ্মনামে একটি ভুয়ো কোড মেসেজ পাঠানো হয়৷ গাজীর ট্রান্সমিটারে ধরা পড়ে সেই বার্তা৷ তবে সেই মতো কাজ হয়নি৷ এরপরেই গাজীকে শেষ করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়৷ নিযুক্ত করা হয় ভারতীয় নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ‘আইএনএস রাজপুত -কে৷

----
-----