লখনউ: ৩৮-৩৮ ফর্মুলাতে অখিলেশ ও মায়াবতীর জোটে সিলমোহর পড়ল৷ ৮০টি আসন বিশিষ্ট উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজ পার্টি সমসংখ্যাক অর্থাৎ ৩৮টি করে আসনে প্রার্থী দেবে বলে জানিয়েছে৷ বাকি চারটি আসন কংগ্রেস ও অন্যান্যদের ছাড়া হয়েছে৷ তবে সপা ও বসপা’র জোটে জায়গা পায়নি কংগ্রেস৷ দেশের প্রধান বিরোধী দলের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে মায়াবতী বলেন, জোটে কংগ্রেসের থাকা অর্থহীন৷

লোকসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে পুরানো শক্রুতা ভুলে হাত মেলাল সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজ পার্টি৷ শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে সপা’র দ্বিতীয় সুপ্রিমো ও বসপা নেত্রী মায়াবতী জোটে যাওয়ার কথা ঘোষণা করলেন৷ তবে সেই জোটে জায়গা হয়নি কংগ্রেসের৷ বসপা নেত্রী মায়াবতী যুক্তি খাড়া করে বলেন, ‘‘জোটে কংগ্রেসকে রেখে কোনও লাভ নেই৷ কারণ অতীত অভিজ্ঞতা বলছে কংগ্রেসের ভোট জোটের খাতায় এসে জমা হবে না৷ কিন্তু জোটের ভোটব্যাংকের সুবিধা পাবে তারা৷ অন্যদিকে কংগ্রেসের ভোট গিয়ে পড়বে বিজেপির ঝুলিতে৷ ১৯৯৬ সালে একই ঘটনা ঘটেছে৷ ২০১৭ সালে বিধানসভা ভোটের আগে সমাজবাদী পার্টিও কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে গিয়ে লাভবান হননি৷’’

কংগ্রেসের কপালে চিন্তার ভাজ বাড়িয়ে দলিত নেত্রীর ঘোষণা, শুধু উত্তরপ্রদেশ নয়, গোটা দেশের কোথাও তারা কংগ্রেস এবং কংগ্রেসের মতো দলের সঙ্গে জোটে যাবেন না৷ কারণ কংগ্রেসের ভোট জোট পাবে না৷ বরং উত্তরপ্রদেশে উপনির্বাচনের সময় সপা ও বসপার জোটে ধরাশায়ী হয় বিজেপি৷ সেই কথা মাথায় রেখে বিজেপিকে হারাতে লোকসভা ভোটের আগে এককাট্টা হল একদা দুই পরস্পরবিরোধী দল৷ মায়াবতীর এই ঘোষণায় সদ্য জেতা মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থান নিয়ে চিন্তায় কংগ্রেস৷ কারণ এই দুই রাজ্যে মায়াবতী ও অখিলেশের সমর্থনে সরকার গড়েছে কংগ্রেস৷ অবশ্য মায়াবতী সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলেও সরকার পড়ে যাওয়ার বিশাল ভয় নেই৷ কারণ ম্যাজিক সংখ্যার কাছাকাছি আছে তাদের বিধায়ক সংখ্যা৷

মায়াবতী এদিন যত না বিজেপির বিরুদ্ধ সোচ্চার ছিলেন তার চেয়ে বেশি ছিলেন কংগ্রেসের বিরুদ্ধে৷ তিনি বলেন, দুই দলই প্রতিরক্ষা চুক্তির দুর্নীতিতে জড়িত৷ দেশে এখন যা অবস্থা চলছে তা জরুরি অবস্থার চেয়ে কম কিছু নয়৷ ফারাক শুধু একটাই৷ দেশে এখন অঘোষিত জরুরি অবস্থা চলছে৷ জোটের কথা ঘোষণা করার কিছু পরেই বিজেপি কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের ছবি ট্যুইট করে৷ ছবিতে মায়াবতী ও সোনিয়া গান্ধীকে পাশাপাশি হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে৷ সেই ছবি ট্যুইট করে বিজেপির খোঁচা, তখন দুই নেত্রী একে অপরকে জড়িয়ে পোজ দিচ্ছিল ক্যামেরার সামনে৷ আর এখন নিজেদের কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি করছে৷

--
----
--