প্রতীকী ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: পচা মুরগির মাংস বিক্রির অভিযোগে প্রথমে দু’জনকে, পরে আরও ছ’জনকে গ্রেফতার করল এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ৷

ধৃতরা হল মহম্মদ নাসিরুদ্দিন৷ বাড়ি উত্তর ২৪ পরগণার বারাসাতে৷ দ্বিতীয়জন জনার্দন সিং৷ বাড়ি গোরাবাজার এলাকায়৷ তাদের জেরা করে আরও ছ’জনের নাম উঠে আসে৷ তাদের নিউ টাউন থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷
মহম্মদ নাসিরুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে জনার্দন সিংকে পচা মুরগির মাংস বিক্রি করে৷ প্রথমে এই খবর পান বিমানবন্দর এলাকার বাসিন্দারা৷ তাঁরাই দু’জনকে আটক করে এয়ারপোর্ট থানায় খবর দেন৷ পুলিশ এসে ওই দু’জনকে জেরা করে৷

Advertisement

জেরায় আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে৷ মহম্মদ নাসিরুদ্দিন পুলিশকে জানায় নিউ টাউনের সিটি সেন্টারের পিছনে ন’পাড়াতে রমরমিয়ে চলছে পচা মুরগির মাংসের কারবার৷ খবর পেয়ে নিউ টাউন থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে হানা দেয় এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ৷ উপস্থিত হন বিধাননগর কমিশনারেটের উচ্চপদস্থ আধিরাকিররা৷

ঘটনাস্থলে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ৷ গোটা এলাকা মরা মুরগির গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে৷ গন্ধের জেরে সেখানে টেকাই দায় হয়ে পড়ে পুলিশের৷ ঘটনাস্থল থেকে ছ’জনকে গ্রেফতার করে নিউ টাউন থানার পুলিশ৷ ধৃতরা হল, মহম্মদ শাহনুর রহমান মোল্লা (৩৯), আলি সর্দার (৩৬), অতিসিন মল্লিক(২৫), সফিদুদ্দিন গাজি(২৬), মহম্মদ সোহরাব মল্লিক(৪০) এবং রেজাউল মোল্লা(১৯)৷ তাদের গ্রেফতার করতেই আরও বড় চক্রের উপর থেকে পর্দা ফাঁস হয়৷

পুলিশ জানিয়েছে রীতিমত আঁটঘাট বেঁধে এই কাজে নেমেছিল ধৃতরা৷ সেখানে পাঁচটি ফ্রিজার রাখা ছিল৷ প্রত্যেকটি ফ্রিজারে টন টন মরা মুরগির মাংস প্লাস্টিকে মুড়িয়ে রাখা ছিল৷ প্রাথমিক জেরায় তারা জানিয়েছে, এখান থেকে মাংসগুলি সরাসরি শহরের বেশ কয়েকটি নামী রেস্তোরাঁয় বিক্রি করা হত৷ এছাড়া অনেক ছোট-বড় মাংসের দোকান এখান থেকে মাংস কিনে বাজারে বিক্রি করত৷ সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়৷ ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং ফুড সেফটি অ্যাক্টের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে৷ আগামিকাল তাদের আদালতে তোলা হবে৷

----
--