‘যোগীর বিভ্রান্তিকর নির্দেশেই গাজিপুরে পুলিশ হত্যা’

লখনউ: ‘মেরে ফেলো’৷ প্রকাশ্য সভা হোক বা চার দেওয়ালের বৈঠক৷ প্রায়শই অপছন্দের কিছু ঘটলেই এই ব্যক্য ব্যবহার করে থাকেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ৷ এবার মুখ্যমন্ত্রীর ব্যবহৃত বাক্যকে হাতিয়ার করেই তাঁর বিরুদ্ধে সরব হলেন সমাজবাদী পার্টি সুপ্রিমো অখিলেশ সিং যাদব৷ জানালেন যোগীর ওই নির্দেশের জন্যই কখনও পুলিশ, আবার কখনও-বা উত্তেজিত জনতা, সবাই বিভ্রান্ত৷ তাই যে যখন যাকে সামনে পাচ্ছে মারছে৷ ঘটে চলেছে মৃত্য৷ নৈরাজ্য রাজ্যজুড়ে৷

বুলন্দশহরের পর গাজিপুর৷ যোগীর রাজ্যে শুক্রবার রাতে ফের জনতার আক্রোশের শিকার এক পুলিশ কর্মী৷ নিহত হেড কমস্টেবলের নাম সুরেশ ভট৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভায় পাহাড়ার দায়িত্বে ছিলেন তিনি৷ সংরক্ষরণের দাবি নিয়ে বিক্ষোভকারীদের ছোঁডা় ইঁটের ঘায়ে নিহত হন ওই পুলিশ কর্মী৷ এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই এদিন মুখ খোলেন অখিলেশ৷ তাঁর মতে হিংসায় প্রতিনিয়ত উস্কানি দিয়ে যান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং৷ ফলে পুলিশ থেকে জনতা সবাই মারমুখী৷ তার জেরেই এই ঘটনা৷

সমাজবাদী পার্টি নেতা বলেন, ‘‘যোগী প্রায়ই বলেন মেরে ফেলো (ঠোক দো)’’৷ এতেই বিভ্রান্ত পুলিশ ও আম আদমি৷ কোথায় কখন এর প্রয়োগ হবে তা বুঝে ওটা দায়৷ ফলে সুযোগ পেলেই তার স্বদব্যবহার করছেন সবাই৷ পরিণামে রাজ্যে ঘটে চলেছে হিংসা৷ মারা যাচ্ছেন মানুষ’’৷ বুলন্দশহর থেকে গাজিপুরে হিংসার জন্য অখিলেশ দায়ী করেছেন বিজেপির অন্যতম পোস্টার বয় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগীকেই৷

আরও পড়ুন: তিন তালাক বিল নিয়ে একই অবস্থান নিল বিজেপি-কংগ্রেস

উল্লেখ্য, গো-হত্যাকে কেন্দ্র করে হিংসার ঘটনায় পুলিশ অফিসার সুবোধ কুমারের খুন নিয়ে এখনও জারি চর্চা৷ তারই মাঝে আরও এক উর্দিধারী খুনের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় উত্তরপ্রদেশে৷ তড়িঘড়ি নিহত পুলিশ অফিসারের পরিবারকে ৪০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করে বিক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা করে যোগী আদিত্যনাথ প্রশাসন৷

আরও পড়ুন: বছরের শেষ ‘মন কি বাত’-এ বিজেপি বিদায়ের ইঙ্গিত মোদীর!

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভায় পাহাড়ার দায়িত্বে ছিলেন সুরেশ ভট সভা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা বাদে মৃত্যু হয় তাঁর৷ পুলিশ বক্তব্য, সংরক্ষণের দাবিতে নিশাদ সম্প্রদায়ের মানুষ হাইওয়েতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন৷ সেখানে ডিউটিতে পাঠানো হয় তাঁকে৷

অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে থাকে৷ একটি পাথর এসে লাগে সুরেশের মাথায়৷ ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিয়ে লুটিয়ে পড়েন তিনি৷ পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়৷ ঘটনায় ৩২ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর হলেও গ্রেফতার করা হয় ১৯ জনকে৷

এই ঘটনায় আইন শৃঙ্খলার অবনতির অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন বিরোধীরা৷ নিহত পুলিশ কর্মীর ছেলেও বাবার মৃত্যুর জন্য দায়ী করেন যোগীর পুলিশ প্রশাসনকে৷ কোনও পুলিশ আধিকারীক মারধরের সময় তার বাবাকে বাঁচাতে আসেনি বলে অভিযোগ তার৷ রাজনৈতিক মহলের মতে এইসব টুকরো অভিযোগই এখন যোগী বিরোধীতায় পুঁজি বুয়া-বাবুয়ার৷