পুলিশ কাকুকে জড়িয়ে সৎ মায়ের অত্যাচারের কথা বলল ছোট্ট লাবনী

তমলুক: সৎ মায়ের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে দীঘা পালিয়ে এসেছিল ছোট্ট মেয়েটি৷ সদ্য পরিবার ছেড়ে তখনও সমুদ্র সৈকতে একা বসে কাঁদছিল সাত বছরের কিশোরী৷ জানত না, কোথায় গিয়ে উঠবে৷ কী খাবে৷ কোথায় যাবে৷ কিন্তু, এক পরিবার ছেড়ে আরও এক পরিবারে যে তার স্থান মিলবে, স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি বছর আটের লাবনি ভুইঞা৷ পুলিশ কাকুর সহযোগিতাই পরিবার ফেরে পাবে ভাবতেও পারেনি চতুর্থ শ্রেণির ওই ছাত্রী।

সমুদ্র সৈকতে কিশোরীর কান্নার খবর তখন মুহূর্তেই পৌঁছে গিয়েছিল দীঘা থানায়৷ পুলিশ পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে৷ বুঝিয়ে সুজিয়ে আনা হয় থানায়৷ ছোট্ট মেয়েটি পুলিশ কাকু জড়িয়ে ফুঁপিয়ে বলেছিল, তার সৎ মায়ের অত্যাচারের কথা৷ লাবনী  জানিয়ে দিয়েছিল, বাড়িতে ফিরতে চাই না সে৷ লাবনী জানায়, তার মা মীনাক্ষী দু’বছর আগে মারা গিয়েছে। তার এক তিন বছরের বোনও ছিল। বাবা দুই বোনকে দেখভাল করার জন্য আবার বিয়ে করে। সৎ মায়ের নাম গীতা। কিন্তু সৎমা বাড়িতে আসার পর থেকেই দুই বোনের ওপর অত্যাচার শুরু করে৷ ছোট বোনকে মেরে ফেলে৷ এবার তার ওপর অত্যাচার চালিয়ে যাওয়ায় সে বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছে। বাবা ঠিকা কাজের কর্মী৷ কর্ম সূত্রে বাইরে থাকে। রামনগর থানা এলাকার তালকানপুর।

ফুটফুটে মেয়েকে দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেনি দীঘা থানার ওসি বাসুকি বন্দ্যোপাধ্যায়৷ লাবনীকে জুভেনাইল জাস্টিসে পাঠাবে কি না, তা নিয়েও উভয় সঙ্কটে পড়েন তিনি৷ একদিকে দায়বদ্ধতা, অন্যদিকে আবেগ৷ আপাতত থানায় রেখে দেওয়া হয় তাকে৷ পুলিশ কাকুর সহযোগিতা পেয়ে খুশি ছোট্ট মেয়টিও৷ পরিবার হারিয়ে নতুন পরিবার পেয়ে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত লাবনী৷

Advertisement ---
---
-----