‘শোওয়ার ঘরের দরজা খুলে ঘুমাতে যেতে বলেছিল পুলিশ’

নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ঘরবন্দি বিশিষ্ট সমাজকর্মী গৌতম নাভালাকা৷ ঘরে বাইরে কড়া পাহাড়ায় পুলিশ৷ সবসময় তীক্ষ্ম নজর তাঁর উপর৷ এমনকী ঘুমাতে গেলেও শোওয়ার ঘরের দরজা খুলে রাখতে হচ্ছে৷ এমনই অভিযোগ মানবাধিকার কর্মী গৌতম নাভালাকার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী শুভা হুসেনের৷ পুলিশের অতিসক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ শোনা গেল তাঁর গলায়৷

হুসেন বলেন, ‘‘পুলিশ আমাদের শোওয়ার ঘরের দরজা খোলা রেখে ঘুমাতে যেতে বলে৷ আমি হতভম্ব হয়ে যাই৷ ওদের এই আচরণের জন্য ক্ষমা চাইতে বলি৷ পরে আইনজীবীকে ডেকে এনে এক মহিলা কনস্টেবল সহ তিন পুলিশ কর্মীকে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলি৷’’

দিল্লির নেহরু এনক্লেভের বাড়িতে পুলিশের নজরবন্দিতে আছেন গৌতম৷ কোনও বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় স্বজন কারোর সঙ্গে দেখা করার অনুমতি নেই তাঁর৷ গৌতমকে বাড়িতে নজরবন্দি করে রাখার পর থেকে তাঁর সঙ্গেই আছেন হুসেন৷ জানান, এখানে এসে আরও খারাপ লাগছে৷ সারাক্ষণ পুলিশের নজর তাদের উপর৷ তবে ঘর থেকে ওই তিন পুলিশকর্মীকে বের করে দেওয়ার পর এখন তারা একটু শান্তি পেয়েছেন৷ নইলে আগে ঘরের প্রতিটি কোণায় তাদের ছায়ার মতো অনুসরণ করা হত৷

- Advertisement -

তবে ঘরের ভেতর এখন পুলিশ না থাকলে বাইরে প্রচুর পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে৷ বাড়িটি ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে লাল কাপড় দিয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে৷ যাতে ঘরের ভিতর কী হচ্ছে তা বাইরে থেকে কোনও ভাবেই দেখা না যায়৷ পুলিশ ছাড়া সেই বাড়িতে কারোর ঢোকার অনুমতি নেই৷ তাই বন্ধু বান্ধবদের সঙ্গে দেখা করার জন্য হুসেনকেই বাইরে যেতে হচ্ছে৷ কিন্তু গৌতমকে একা ছেড়ে যেতেও ভয় পাচ্ছেন তিনি৷

নিষিদ্ধ মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ২৮ অগস্ট দিল্লি থেকে গৌতমকে গ্রেফতার করে পুনে পুলিশ৷ ট্রানসিট রিমান্ডে তাঁকে পুনে নিয়ে আসা হয়৷ পরে হাইকোর্ট গৌতমের গ্রেফতারিতে স্থগিতাদেশ দেয়৷ কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট মহারাষ্ট্র পুলিশকে নির্দেশ দেয় গৌতমকে ঘরবন্দি করে রাখার৷ আগামী ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঘরবন্দি থাকবেন তিনি৷

Advertisement
---