জ্যোতিপ্রিয় ব্রাজিল, অধীর জার্মানি, রবীন রোনাল্ডো, ক্ষিতি মেসি …

দেবময় ঘোষ, কলকাতা: সারা বছর বিরোধীরা কী চক্রান্ত করছে সে খোঁজেই ব্যস্ত থাকেন ওরা৷ বিরোধীরাও ব্যস্ত থাকেন রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে সুস্থ রাখার নিরন্তর চেষ্টায়৷ তবে বিধানসভায় তর্ক-বিতর্ক, যুক্তি বা পালটা যুক্তি খোঁজার ফাঁকে কখনও সময় পেলে খবরের কাগজের শেষ পাতাতেও চোখ বুলিয়ে নেন রাজ্যের শাসক-বিরোধী নেতারা৷

বিশ্বকাপ এসে গিয়েছে৷ আর, বাংলায় বিশ্বকাপ মানেই ফুটবল৷ শাসক তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিরোধী কং-বাম-বিজেপি নেতারা রাজনৈতিক ময়দানের পাশাপাশি এবার রাশিয়ার মাঠেও চোখ রাখবেন৷ সারা বছর যাঁদের দিকে বিধানসভা কক্ষে তথ্যের ভিত্তিতে পালটা যুক্তি ছুঁড়ে দিয়েছেন, তাঁদের সাথে এবার ফুটবল-আলোচনাতেও তর্ক বাধতে বাধ্য৷ কখনও বা দুই বিপরীত মেরুর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মধ্যে হতে পারে অবাক বন্ধুত্ব৷ শুধু কেন তর্ক? মেলাতেও পারে বিশ্বকাপ ফুটবল৷

রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ফুটবল-প্রেম অনেকদিনের৷ ম্যাচ দেখবেন বন্ধুদের সঙ্গে৷ সামনে থাকবে ৫২-ইঞ্চি টিভি৷ সারা বছর ধান চালের দর নিয়ে ব্যস্ত জ্যোতিপ্রিয় বিশ্বকাপ নিয়ে রীতিমতো উত্তেজিত৷ ‘‘ফুটবল আবেগে নিয়ন্ত্রণ করতে কষ্ট হয়৷ বিশ্বকাপের সময় বিশ্বকাপ ছাড়া আর অন্য কোনও কথা নয়৷ বন্ধুবান্ধব নিয়ে খেলা দেখা আর খাওয়া-দাওয়া৷’’ পছন্দের দলটা কী? খাদ্যমন্ত্রীর অকপট জবাব,‘‘অবশ্যই ব্রাজিল৷ আর খেলোয়াড় যদি বলেন, তবে মেসি৷ ওকে দেখার জন্যই আর্জেন্টিনার খেলায় চোখ থাকবে৷’’

- Advertisement -

সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী হলেন বিধানসভায় বাম পরিষদীয় দলনেতা৷ নিজের কেন্দ্রে নির্বাচনের প্রচারে নেমে পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলায় মেতেছিলেন৷ দীর্ঘদিন ফুটবল প্রশিক্ষণও দিয়েছেন৷ সুজনের কথায়, ‘‘হ্যা, বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনা তো থাকবেই৷ তবে নির্দিষ্ট দলের হয়ে গলা ফাটানোর তালিকায় আমার নাম নেই৷ শুধু ভালো ফুটবল দেখতে চাইছি৷’’ কোন তারকার দিকে নজর থাকবে? সুজন জানান, ‘‘আমি ল্যাটিন আমেরিকার ফুটবল শৈলীর ভক্ত৷ তবে ইউরোপের পাওয়ার ফুটবলও শক্তিশালী৷ কোনও বিশেষ তারকা নয়৷ দেখি কাকে চোখে পড়ে৷’’

আরএসপি নেতা ক্ষিতি গোস্বামী রাজ্যের প্রাক্তণ পূর্তমন্ত্রী৷ প্রাণের দল ইস্টবেঙ্গল৷ ফুটবল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বারবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি৷ এখনও তাঁর মনে পড়ে, ‘‘ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ক্লাব হাউসে গিয়েছেন৷ ওটা আমার সময়েই তৈরি৷ পিকে, চুনী খেকে জামসিদ নাসিরি আমার বাড়িতে প্রায়ই আসতেন৷ একসাথে খাওয়া-দাওয়া হত৷ আমার বয়স ৭৭৷ এখনও বিশ্বকাপের সময় ঘুমোতে পারি না৷ সেদিনটা আজও মনে পড়ে, বাড়ির বেড়াল ছানাটার নাম রাখা হল ভুভুজেলা৷’’

ক্ষিতি গোস্বামী ওই ভারতীয়দের মধ্যে একজন যিনি মাঠে বসে দিয়াগো মারাদানার ‘হ্যান্ডস্ ওব গড’এবং তারপর সাতজনকে ড্রিবল্ করে সেই অবিশ্বাস্য গোল দেখেছেন৷ ১৯৮৬ -এর মেস্কিকো বিশ্বকাপে সেই ম্যাচের স্মৃতি সারাজীবন সঙ্গে নিয়েই চলবেন ক্ষিতিবাবু৷ বলছেন, ‘‘ও প্রথমে একটা গোল করল হাত দিয়ে৷ তারপর সেই পাপ ধুয়ে ফেলার জন্য দ্বিতীয় গোলটা করল পাঁচজনকে কাটিয়ে, ঠিক চার মিনিট পর!’’ প্রাক্তণ পূর্তমন্ত্রী ব্রাজিলের সমর্থক তা জানাতে ভোলেননি৷ তবে মেসির খেলা দেখতে নজর রাখবেন আর্জেন্টিনার ম্যাচেও৷

সিপিএম নেতা রবীন দেব আবার ব্রাজিল, জার্মানি, আর্জেন্টিনা আর পর্তুগালের খেলা দেখবেন৷ ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রে নির্বাচনবিধি নিয়ে চর্চা করেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির এই সদস্য৷ রাজ্যে প্রতিটি নির্বাচনে সিপিএমের খুঁটিনাটি নির্বাচন কেন্দ্রীক বিষয়গুলি নিয়ে তিনি পৌঁছে যান নির্বাচন কমিশনের কাছে৷ তবে সেই মানুষ যে ফুটবলের খবরাখবর ভালোই রাখেন, তা কথা বলে জানা গেল৷ রবীন দেব জানান, ‘‘খেলা দেখবো ব্রাজিল, জার্মানি, আর্জেন্টিনা আর পর্তুগালের৷ আর অবশ্যই মেসি, নেইমার আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর৷ তবে বিশ্বকাপ নতুন তারার জন্ম দেয়৷ নজর থাকবে তাঁদের ওপরেও৷’’ গত বছরই ভারতে শেষ হয়েছে যুব বিশ্বকাপ৷ ই তারকাদেরই বিশ্বকাপের আসরে দেখতে চান রবীন৷ তিনি জানান, ‘‘ইংল্যান্ডের যে টিমটা গতবছর কলকাতায় ফাইনাল জিতে গেল, চমৎকার খেলেছিল৷ সেই ফিলিপ ফডেন, রিয়ান ব্রিউস্টারদের মতো তারকাদেরই মাঠে খুঁজবো৷’’

রাজ্য রাজনীতিতে অধীর চৌধুরী বরাবরই ভিন্ন চরিত্র৷ স্পষ্ট বক্তা অধীর ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার মধ্যে আটকে নেই৷ অধীরের মতে, ‘‘আমি বরাবরই জার্মানির সমর্থক৷ ওই কিলার ইনস্টিংক্ট আর কোথাও পাই না৷ হারা ম্যাচে কীভাবে জিততে হয় তা জানে আজকের বিশ্বচ্যাম্পিয়ানরা৷ কীভাবে ম্যাচ নিয়ে ওরা বেরিয়ে যায়, তা বোঝা যায় না৷’’

কার খেলা দেখবেন? ‘‘জার্মানির গোটা টিমটাই তো স্টার৷ কাকে ছেড়ে কার নাম বলব?’’ স্পষ্ট জবাব অধীরের৷

Advertisement ---
---
-----