তৃণমূল-সিপিএম সংঘর্ষে জখম ২০জন

সঞ্জয় কর্মকার, বর্ধমান: পুলিশ ক্যাম্প থাকা সত্ত্বেও তৃণমূল-সিপিএম সংঘর্ষে প্রায় ২০ জন জখম হয়েছে৷ সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমানের আউশগ্রামের ভাল্কি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রতাপপুরে৷ জখমদের মধ্যে পাঁচজনকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি রয়েছেন৷ তাঁদের মধ্যে তৃণমূলের সংখ্যালঘু অঞ্চল সভাপতি হাবিবুল মোল্লা-সহ আরও চার সিপিএম নেতা রয়েছেন৷ তাঁদের নাম আবিদার মির্জা, শেখ রবিউল, ঝর্ণা বিবি, গোলেজান বিবি৷ বাকিরা জামতারা এবং মানকর হাসপাতালে ভর্তি৷ এই ঘটনায় পুলিশ পাঁচজনকে আটক করেছে৷

স্থানীয় সূত্রে খবর, গত বেশ কিছুদিন ধরেই এই অঞ্চলে দু’ দলের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল৷ সেই কারণে ওই এলাকায় পুলিশক্যম্পও মোতায়েন করা হয়ছিল৷ সিপিএম কর্মীদের অভিযোগ, প্রায় ১৫ দিন ধরেই তৃণমূলের সঙ্গে একাধিক কারণে তাদের গণ্ডগোল বাঁধছিল৷ ওই গ্রাম পঞ্চায়েতটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন রয়েছে সিপিএমের৷ কিন্তু সেই আসন দখল করতে চাইছে তণমূল৷ এছাড়াও খাদ্যসুরক্ষা তালিকায় নাম তোলা নিয়ে ঝামেলা করছিল তৃণমূল৷ অভিযোগ, শাসকদলে থাকায় নিজেদের ইচ্ছা মত তালিকা বানাচ্ছে তৃণমূল৷ সেখান থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হচ্ছিল দরিদ্র সিপিএম কর্মীদের নাম৷ সেই কারণে পুলিশ মোতায়েনও করা হয়েছিল এলাকায়৷ তাছাড়াও ২৭ তারিখ নবান্ন অভিযানের জন্য সংগঠিত হচ্ছিল সিপিএম৷ এদিন সকালে ২০ থেকে ২৫জন তৃণমূল কর্মী সিপিএম সমর্থকের উপরে আচমকা হামলা চালায়। তাদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৃণমূল ব্লক সভাপতি হায়দার আলি। এমনটাই অভিযোগ সিপিএম কর্মীদের৷

অন্যদিকে জখম তৃণমূল সংখ্যালঘু অঞ্চল সভাপতি অভিযোগ জানিয়েছেন, সিপিএম নিয়ে গত দু’তিন দিনে একাধিকবার পুলিশের উপরে হামলা চালায় সিপিএম৷ একজন সিভিল ভলেন্টিয়ারকে মারধরও করে তারা৷ এদিন সকালেও তারা আবার পুলিশের উপরে চড়াও হলে তিনি খবর পেয়ে বাঁধা দিতে যান৷ তাতেই সংঘর্ষ বাঁধে৷ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় পুলিশ৷ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে৷

Advertisement
---
-----