স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: পঞ্চায়েত ভোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে সোমবার হাইকোর্টে রয়েছে শুনানি৷ যার জেরে, নববর্ষের আমেজে রবিবার গোটা রাজ্য মেতে উঠলেও, সোমবারের ওই শুনানির দিকেই নজর এখন সব রাজনৈতিক দলের৷

তবে, সোমবার আদালত কোন নির্দেশ দেবে৷ তার জেরে কোন ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে শাসক অথবা বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে৷ সে সব নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিভিন্ন ধরনের চর্চা জারি রয়েছে৷ সব মিলিয়ে, ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচনের অভূতপূর্ব এই পরিস্থিতিতে রাজনীতি এখন ‘থমকে’ গিয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহলের বিভিন্ন অংশ৷

তার কারণ হিসাবে ওই সব অংশ এমনই মনে করছে, আদালতের নির্দেশে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ জারি হওয়ার পর থেকে অপেক্ষায় রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলি৷ এ দিকে, আদালতের পরবর্তী নির্দেশের জন্য অপেক্ষার এই সময়ে কার্যত থমকে গিয়েছে পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দলের রাজনীতি৷

সোমবার এই ‘থমকে’ যাওয়া পরিস্থিতির বদল হতে পারে বলেও মনে করছে ওই সব মহল৷ গত ১২ এপ্রিল হাইকোর্ট জানিয়ে দেয় ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত সমস্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হবে৷ আদালতের এই নির্দেশে খুশি হয় বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল৷ গণতন্ত্রের জয় বলেও এই নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল৷

তবে, হাইকোর্টের এই নির্দেশে শাসকদলের কপালে ভাঁজ ফেলেছে বলে মনে করছে বিভিন্ন মহল৷ ওই সব মহল এমনও মনে করছে, ফের যদি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন বাড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত, তা হলে সমস্যা বাড়তে পারে শাসকদলের৷ কারণ, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রথম দিন থেকেই শাসকদলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ করছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি৷ কমিশনের কাছেও দফায় দফায় নালিশও জানিয়েছে৷

এ দিকে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন একদিন বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্য নির্বাচন কমিশন৷ কিন্তু, ওই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়৷ স্বাভাবিক কারণে, ফের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় বাড়ানো হলে বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল খুশি হবে বলেও মনে করছে বিভিন্ন মহল৷ কিন্তু, সোমবার কী হবে? কোন প্রত্যাশায় রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলি?

ফাইল ছবি

তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ স্তরের এক নেতার কথায়, “সোমবার কী হতে পারে তা নিয়ে আগে থেকে কোনও মন্তব্য করব না৷ ভোট পিছোবে কি না, বলতে পারছি না৷ তবে পিছোনোর সম্ভাবনা বেশি৷ আমি আমার রাজনৈতিক কেরিয়ারে এমন ঘটনা দেখিনি৷”

এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বাম পরিষদীয় দলের নেতা সুজন চক্রবর্তীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “দেখি, কাল আদালত কী রায় দেয়৷ তার পর যা বলার বলব৷” এই বিষয়ে জানতে চেয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীর সঙ্গে৷ তবে, তাঁর বক্তব্য মেলেনি৷ তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়৷ তাঁর বক্তব্যও মেলেনি৷

এ দিকে, বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা জানিয়েছিলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার পরেও রাজ্য নির্বাচন কমিশন যেভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়টি জারি রেখেছিল, সোমবার আদালতে তা তোলা হবে৷ এ দিন রাহুল সিনহার সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়৷ ফোন না ধরায়, তাঁরও কোনও বক্তব্য মেলেনি৷

কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবীদের কর্মবিরতি চলছে৷ জানা গিয়েছে, সোমবার তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে থাকছেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়৷ আর, কংগ্রেসের পক্ষে সওয়াল করছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী৷ আইনি লড়াইয়ের এই পর্বে বিজেপির হয়ে রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় থাকছেন৷ আগের শুনানিতে তিনি সওয়াল করেছিলেন৷ অন্যদিকে, রাজ্য নির্বাচন কমিশনের হয়ে সওয়াল করতে চলেছেন সচিব নীলাঞ্জন শাণ্ডিল্য৷

©Kolkata24x7 এই নিউজ পোর্টাল থেকে প্রতিবেদন নকল করা দন্ডনীয় অপরাধ৷ প্রতিবেদন ‘নকল’ করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে ----
----