ভগ্ন স্কুলে একটি ঘরে প্রথম-অষ্টম

ফৈজাবাদ: হঠাৎ দেখলে মনে হবে ধ্বংসস্তুপ৷ ভাঙাচোরা ভুতুরে ঘরও মনে হতে পারে৷ সামনে আসলে বোঝা যাবে বাড়িটি আসলে একটি স্কুল৷ উত্তরপ্রদেশের ফৈজাবাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থা ঠিক এতটাই শোচনীয়৷ সবমিলিয়ে একটিই ঘর তুলনামূলক ভালো৷ আর সেখানেই চলছে পড়াশুনা ৷ প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণির ক্লাস হচ্ছে ওই একই ঘরে৷ হিমশিম খাচ্ছেন শিক্ষকরা৷

ক্লাসে ঠাসাঠাসি ৫৫ পড়ুয়া৷ শিক্ষক একজনই৷ তিনিই প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির সমস্ত বিষয় পড়ান৷ অসাধ্য সাধন করেই চলছে ক্লাস৷ কামাইও নেই৷ পড়ুয়াদের অদম্য ইচ্ছে ভগ্ন স্কুলকে বাঁচিয়ে রেখেছে বলে জানাচ্ছেন স্কুলের একমাত্র শিক্ষক মুকেশ কুমার যাদব৷ শিক্ষকের কথায় ‘আমি একটা ঘরেই বাচ্চাদের পড়াই, আর কোনও ঘরই পড়ানোর মত নয়৷ এমনকি দাঁড়িয়ে থাকার মতো নয়৷ ৫৫ পড়ুয়া বিভিন্ন শ্রেণির৷ তাই খুব কষ্ট করেই চলে পড়াশুনা৷’

স্কুলে নেই শৌচালয়, নেই পানীয় জলের ব্যবস্থা৷ জঙ্গলের ভেতরে নিস্তব্ধ স্কুল৷ হয় না নিত্যদিনের প্রার্থনা৷ নেই স্কুল ইউনিফর্ম৷ চারিদিক জঙ্গল থাকায় রয়েছে সাপের উৎপাতও৷ সবমিলিয়ে ধুকতে থাকা স্কুল শিক্ষকের চেষ্টায় কোনওরকমে এগোচ্ছে৷ কিন্তু কেন সরকারি স্কুলের এই ভগ্ন দশা?

- Advertisement -

যাদব জানাচ্ছেন, গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উপর সরকারের নজর কম৷ শিক্ষক নিয়োগের উপরও নজর দেওয়া হয় না৷ প্রথমে স্কুলের বিদ্যুৎ সংযোগ চলে যায়৷ ধীরে ধীরে পানীয় জল থেকে শৌচালয় সবটাই অব্যবস্থা, অপরিচ্ছন্নতার গ্রাসে পড়ে৷

প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি৷ সরকারি স্কুলগুলির অবস্থা খারাপ হওয়া সত্ত্বেও নির্বিকার প্রশাসন৷ নিজের উদ্যোগেই তাই ভগ্ন স্কুলে ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছেন যাদব৷ শিক্ষক হিসেবে যে কোনও পরিস্থিতিতেই স্কুল চালানো তাঁর কর্তব্য বলেই জানালেন তিনি৷

Advertisement ---
---
-----