কেমন আছে সোদপুরের ওভারব্রিজ, দেখতে গেলেন বিধায়ক

উত্তর ২৪ পরগনা: মাঝেরহাট সেতুভঙ্গের পরই নড়েচড়ে বসল প্রশাসন৷ খতিয়ে দেখা হল সোদপুর রেলওয়ে ওভারব্রিজের বর্তমান অবস্থা৷ বৃহস্পতিবার পরিদর্শনে আসেন বিধানসভার মুখ্য সচেতক ও পানিহাটি বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ৷ ছিলেন রাজ্য পূর্তদফতরের বাস্তুকারদের একটি বিশেষ প্রতিনিধিদল ও পুরসভার আধিকারিকরাও৷

শিয়ালদহ মেইন শাখার সোদপুর রেলওয়ে ওভারব্রিজের বর্তমান অবস্থা নিয়ে শঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা৷ এই ওভারব্রিজের রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব যৌথভাবে রেল প্রশাসন এবং রাজ্য পূর্তবিভাগের৷ রেললাইনের উপর ব্রিজের অংশ-সহ এই ব্রিজের বেশিরভাগটাই রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব রেলকর্তৃপক্ষের৷

আরও পড়ুন: ‘বনমালি তুমি এজনমেই আমার রাধা’

- Advertisement -

স্থানীয় সূত্রে খবর, তিন বছর আগে ব্রিজটি পরিদর্শনের পর রেলের বাস্তুকাররা এটিকে ফিট সার্টিফিকেট দেন৷ কিন্তু এরপর মাঝের এতগুলো দিন কিন্তু একবারের জন্যও ব্রিজের অবস্থা দেখতে যাননি কেউ৷ মাঝেরহাট ব্রিজ ভেঙে পড়ার পর টনক নড়ল৷ বৃহস্পতিবারই তড়িঘড়ি ব্রিজের হালহকিকৎ দেখতে ছুটে আসেন রাজ্য বিধানসভার মুখ্য সচেতক-সহ পূর্ত দফতর ও পানিহাটি পুরসভার পদাধিকারীরা৷

সোদপুর রেল লাইনের উপরের এই সেতু সড়কপথে মধ্যমগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ এই ব্রিজের উপর দিয়ে প্রতিদিন ১০ থেকে ৪০ হাজার টন পর্যন্ত পণ্যবাহী গাড়ি যাতায়াত করে৷ এছাড়া অন্যান্য গাড়ি তো রয়েছেই৷

আরও পড়ুন: মহানন্দা সেতুর ফাটল ভাবাচ্ছে নিত্যযাত্রীদের

স্বভাবতই ব্রিজটি শক্তপোক্ত না হলে যথেষ্ট ঝুঁকির ব্যাপার৷ এমনিই আবহাওয়ার তারতম্য কংক্রিকেটর এইসব ব্রিজকে দুর্বল করে দেয়৷ তারমধ্যে আবার এত ভারী ভারী গাড়ির যাতায়াত৷ এই বর্ষাতেই ব্রিজের বেশ কিছু জায়গায় মাথাচাড়া দিয়েছে খানাখন্দ৷ জমেছে জল৷ সেই জল চুঁইয়ে পড়েছে ব্রিজের তলায়৷ মাঝেরহাটের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই আতঙ্ক বেড়েছে এলাকাবাসীর৷

এদিন ব্রিজটি পরিদর্শন করে নির্মল ঘোষ বলেন, ‘‘২০১৫ সালে এই রেলওয়ে ওভারব্রিজকে রেল দফতর ফিট ঘোষনা করেছিল৷ তিনবছর পরে সেই ব্রিজের অবস্থা মোটেই আগের মত নেই৷ পণ্যবাহী গাড়ি গেলেই ব্রিজটি কাঁপে৷ আমি রেলের এবং পূর্ত দফতরের ইঞ্জিনিয়ারদের বলব এই ব্রিজটি তাঁরা নিজেদের মতো করে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করুক৷’’

আরও পড়ুন: জিও ২ তৃতীয় ফ্ল্যাশ সেলেও বুকিংয়ের হুড়োহুড়ি

এরপরই নির্মলবাবু বলেন, ‘‘বেশিরভাগ দায়িত্বটাই কিন্তু রেলের৷ তাই রেলকর্তাদের ব্রিজটি সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে৷ এই ব্রিজটি কোনওভাবে যদি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে সড়কপথের যোগাযোগ ব্যবস্থাও কিন্তু ভেঙে পড়বে৷ খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই রেলব্রিজের উপর দিয়ে রোজ ১০ হাজারেরও বেশি গাড়ি চলাচল করে৷ অতিরিক্ত চাপের ফলেই এই ব্রিজ বেহাল৷’’ ব্রিজটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলবেন বলে জানান পানিহাটির বিধায়ক৷

Advertisement ---
---
-----