বাংলা শিক্ষক চেয়ে প্রাণ হারালে, শহিদের মর্যাদা জুটবে না!

তুই বললেই হবে
উল্টাবে কাজ পৃথিবীর আজ
দারুন অসম্ভবে ……

সূর্য উঠবে অস্ত যাবে না
রাত্তির আর পাত্তা পাবে না
এই তো সকাল সবে ….
তুই বললেই হবে ।

সুমন্ত্র মাইতি (যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী, তথ্য প্রযুক্তি কর্মী)

- Advertisement -

খুব সংক্ষেপে, কবীর সুমনের এই গানটাই আজকের বাংলার রাজনীতির মূল নির্যাস। যাত্রী প্রতীক্ষালয় থেকে সুলভ শৌচালয় , সবই যার “অনুপ্রেরণায়” , তার রাজত্বে গণতন্ত্রের এইটাই মূলমন্ত্র – “ তুই বললেই হবে “।

এই তুই-টা কারা ? যারা সংখ্যায় ৩০ শতাংশ ( দুষ্টু লোকেরা বলে আরও বেশি )। যারা দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ না বলে নিজেদের সংখ্যালঘু বলতে ভালবাসে। যাদের গোঁসা হবে বলে সিলেবাসে রামধনু কেটে রংধনু করতে হয় এবং যাদের উতসবের দিনের সাথে অন্যের উৎসবের ডেট ক্ল্যাশ করলে বাকি সব আচার অনুষ্ঠান স্থগিত রাখার সরকারী নির্দেশ জারি করা হয়।

ইন শর্ট , এরাই হলেন কবি বর্ণিত তুই।

মুশকিল হল যে এই ভারসাম্যহীনতার প্রতিবাদ করলেই জুটবে সাম্প্রদায়িকের তকমা। সত্যিই তো, বাঙালী কেনই বা সাম্প্রদায়িকের তকমা জোটাবে খামোকা ? বাঙালী বিশ্বমানব , আন্তর্জাতিক। বাঙালী বিশ্বপ্রেমিক। অতএব যদি উর্দু ভাষা শিখতেই হয়, ছাত্রদের সেটা নতমস্তকে মেনে নেওয়া উচিত। এর প্রতিবাদ করলে তো গুলি খেতেই হবে।

আজ্ঞে হ্যাঁ, এটাই মেনে নেওয়াই ভাল। ইসলামপুরের আসল ঘটনা খুব সুকৌশলে চেপে যাওয়া হচ্ছে। ঘটনার সূত্রপাত শুরু হয় যে অনেক বিষয়ে শিক্ষক না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র সংস্কৃত আর উর্দুর শিক্ষকই নিয়োগ করা হয়। স্কুলের কোন ছাত্রেরই এই দুটি বিষয়ের একটিও পাঠ্যক্রমে না থাকার দরুণ তারা ডেপুটেশন দেয় এবং কর্তৃপক্ষের কাছে আশ্বাস জোগাড় করে যে এই উর্দু কিংবা সংস্কৃত, কোন বিষয়েই শিক্ষক নিয়োগ হবে না।

এতদূর পর্য্যন্ত সবই ঠিক। কিন্তু আশ্বাস সত্ত্বেও সেই উর্দু শিক্ষক নিয়োগ হলেন। অনেকে যেমন সংস্কৃত শিক্ষকের নিয়োগ নিয়ে মিথ্যে প্রচার চালাচ্ছেন , সেরকম কিছু হয় নি , কারণ সংস্কৃত শিক্ষক নিয়োগই হননি।

প্রশ্ন থেকেই যায় যে প্রশাসনের আশ্বাস সত্ত্বেও কেন উর্দু শিক্ষক নিয়োগ হল। যেখানে কিনা উর্দু সেই স্কুলে কারোর বিষয়ই নয়। সরকারেরই বা এত ততপরতা কিসের। যেখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগ বছরের পর বছর পড়ে আছে আর সেই স্কুলেই উর্দু শিক্ষককে (একজন নয়, দুজন) পুলিশ এসকর্ট করিয়ে নিয়ে আসতে হয়?

এ প্রশ্নের উত্তর চাওয়া বৃথা।
যদি প্রশ্ন করো , রবারের বুলেট কখন যে সীসার হয়ে যাবে কেউ জানে না।

*মতামত সম্পুর্ণ লেখকের ব্যক্তিগত। ছবি সৌজন্যে- রাজশেখর সিংহ 

Advertisement ---
---
-----