স্টাফ রিপোর্টার: ২৯ জুলাই, মোহনবাগানের ইতিহাসে সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনাটি ঘটেছিল এই দিনেই৷ ১৯১১-র আজকের দিনেই শিল্ড ফাইনালে ইংল্যান্ডের ইস্ট ইর্য়কশায়ারকে হারিয়ে ছিল বাগান একাদশ৷ ১০৭ বছর আগের অমর একাদশের সেই স্বীকৃতির স্মরণেই প্রতিবছর ক্লাব তাঁবুতে ২৯শে জুলাই পালিত হয় ‘মোহনবাগান দিবস’ হিসেবে৷

বিশেষ এই দিনে মোহনবাগান রত্ন সম্মান দেওয়া হল প্রদীপ চৌধুরিকে৷ গোলাপের মালা ও উত্তরীয় পড়িয়ে বরণ করা হয় তাঁকে৷ তুলে দেওয়া হয় এক লক্ষ টাকা ও মোহনবাগান রত্ন সম্মান৷ বাগানের ১৮তম রত্ন হলেন প্রদীপ৷শেষবার এই সম্মান পেয়েছিলেন সুব্রত ভট্টাচার্য৷ মোহনবাগান রত্ন ছাড়া এদিন বর্ষসেরা ফুটবলার হলেন বাগানের বর্তমান অধিনায়ক শিল্টন পাল৷ তেকাঠির নিচে শেষ মরশুমটা দারুণ গিয়েছে শিল্টনের৷ ছেলের এই স্বীকৃতিতে মঞ্চে ছিলেন শিল্টনের মা৷ শিল্টনের পাশাপাশি তাঁর মায়ের হাতেও পুষ্পস্তবক ও স্মারক তুলে দেওয়া হয়৷ বর্ষসেরা ক্রিকেটার হয়েছেন সুদীপ চট্টোপাধ্যায়৷ সেরা উঠতি ফুটবলার হয়েছেন সৌরভ দাস৷ অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ খেলার জন্য বিশেষ সম্মান পেলেন রহিম আলি৷ দেশে না থাকায় তাঁর বাবার হাতে তা তুলে দেওয়া হয়৷

Advertisement

এদিন বাগানের অতীত ও বর্তমান অধিনায়কদের জন্য বিশেষ গোল্ড কার্ড উপহার দিল মোহনবাগান৷ ক্লাব সচিব অঞ্জন মিত্র প্রথম গোল্ড কার্ডটি বাগানের প্রাক্তন অধিনায়ক চুনী গোস্বামীর হাতে তুলে দেন৷ এরপর একে একে বিভিন্ন প্রজন্মের অধিনায়কদের বিশেষ সুবিধাজনিত এই কার্ড তুলে দেওয়া হয়৷ নঈমুদ্দিন, শ্যাম থাপার পাশাপাশি এই প্রজন্মের দেবজিৎ ঘোষ, মেহেতাব, শিল্টনদের হাতেও কার্ড তুলে দেওয়া হয়৷বিশেষ কার্ড দেখিয়ে ভিআইপি বক্সে মোহনবাগানের যাবতীয় খেলা দেখতে পারবেন ফুটবলাররা৷ ১৯৬০ থেকে বর্তমান অধিনায়কদের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে৷বিদেশি অধিনায়কদের মধ্যে ব্যারেটো, ওডাফারাও গোল্ড কার্ড পেয়েছেন৷

জমকালো অনুষ্ঠানে ক্লাবের ফুটবলারদের উত্তরীয় পড়িয়ে দেওয়া হয়৷ বিশেষ দিনে অবশ্য দলের সঙ্গে ছিলেন না কোচ শংকরলাল চক্রবর্তী ও গোলকিপার কোচ অর্পন দে৷ বাগানের জীবনকৃতি পুরস্কার পেলেন অরুণ লাল ও গুরবক্স সিং৷ দুজনে শহরে না থাকায় তাঁদের কাছে পুরষ্কার পাঠিয়ে দেওয়া হবে৷ মঞ্চে যদিও এই সম্মান প্রাপকদের কোনও উল্লেখ না করায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে৷

বিশেষ দিনে চালু করা হল মোহনবাগানের নিজেস্ব ওয়েবসাইট৷ http://www.mohunbaganac.org/ এই লিঙ্কেই এখন মোহনবাগান সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য পাওয়া যাবে৷

বাগানের বিদায়ী কর্তা সৃঞ্জয় বসু ও দেবাশিস দত্ত মোহনবাগান দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠিত থাকলেও স্ত্রী অসুস্থ থাকায় সভাপতি টুটু বসু এদিন আসতে পারেনি৷ উপস্থিত ছিলেন না বাগানের ঘরের ছেলে সুব্রত ভট্টাচার্য, সত্যজিৎ চট্টপাধ্যায়রা৷

----
--