ভোপাল: অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে স্ত্রী’র মৃতদেহ কাঁধে হাঁটতে হয়েছিল ওড়িশার দানা মাঝিকে। সেই দৃশ্য দেখে কেঁপে উঠেছিল গোটা দেশ। ফের এক ভয়ঙ্কর ঘটনার সাক্ষী হল মানুষ। গর্ভবতী অবস্থায় হেঁটে হাসপাতাল যাওয়ার সময় পথেই প্রসবের পর মৃত্যু হল সদ্যজাতের। ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের কাটনি জেলায়। প্রসবের জন্য ২০ কিলোমিটার পথ হেঁটে যেতে হত ওই মহিলাকে। আর সেটা ওই অবস্থায় প্রায় অসম্ভব ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও পাওয়া যায়নি অ্যাম্বুলেন্স। ছবি দেখে শিহরিত গোটা ভারত৷

Advertisement

মঙ্গলবার সকালেই লেবার পেন শুরু হয় কাটনি জেলার বারমানি গ্রামের বাসিন্দা বীনার। কাছেপিঠে কোনও হেল্থ সেন্টার না থাকায় তিনি হাঁটতে শুরু করেন। ২০ কিলোমিটার পথ গিয়ে বারহি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছতে হত তাঁকে। অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ফোন করে কোনও সদুত্তর মেলেনি বলেই জানিয়েছেন বীনার পরিবারের লোক। তাই হেঁটে যাওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না।

অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিলেন। বারহি টাউন পর্যন্ত পৌঁছে যান। কিন্তু স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অনেক আগে থানার কাছেই প্রসব করেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, মাটিতে পড়ে মৃত্যু হয় সদ্যজাত শিশুকন্যার। রক্তাক্ত বাচ্চার ছবি দেখে কেঁপে গেছে গোটা দেশ৷ রাস্তায় বসে যন্ত্রণাকাতর মা৷ সামনে মৃত সন্তান৷ রক্তের ধারা গড়িয়ে পড়েছে রাস্তায়৷ চোখ বন্ধ করেছে ভারতবাসী৷

যদিও ওই জেলার চিফ মেডিক্যাল অ্যান্ড হেল্থ অফিসার অশোক আভাধিয়া জানিয়েছেন, ওই সদ্যজাতর বেঁচে থাকার কোনও সম্ভাবনা ছিল না, কারণ মাত্র সাত মাসেই অপরিণত অবস্থায় জন্ম হয়েছিল ওই শিশুর। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া গেল না কেন? অফিসারের উত্তর, অ্যাম্বুলেন্স ছিল না। আর গর্ভবতী মহিলাদের জন্য বিশেষ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ‘জননী এক্সপ্রেস’ তাঁদের অধীনে নেই, সবটাই কন্ট্রোল করা হয় রাজধানী ভোপাল থেকে। সুতরাং এইভাবে দায় ঘাড়ে চাপিয়ে আর কত মৃত্যুর অজুহাত তৈরি হবে সেই প্রশ্নের উত্তর জানে না কেউ৷

----
--