স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: চোরাই মোবাইল বেচে দিব্যি চলছিল তার বেআইনি কারবার৷ বাজারে স্মার্টফোনের আর্বিভাবের জেরে লাঠে উঠেছিল তার সেই ব্যবসা৷

ফলে বিক্রি করতে না পেরে কার্যত কি-বোর্ডের পুরনো মোবাইলের গোডাউনে পরিণত হয়েছিল তার দোকান৷ বুধবার লেকটাউনের দক্ষিণদাঁড়ির একটি মোবাইল সারাইয়ের দোকান থেকে প্রায় ৪ হাজার পুরনো মোবাইল উদ্ধারে এমনই তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের কাছে৷

আরও পড়ুন: প্রেসিডেন্সিতে মুর্তি: ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের দেওয়ালে কালি অশোভনীয়

ধৃত প্রেমশঙ্কর ভগৎকে জেরা করে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে, কলকাতার মোবাইল চোরদের কন্ট্রোল রুম ছিল তার মোবাইল সারানোর দোকান৷ চোরেরা দিনভর রাজপথের পথে ঘাটে ঘুরে মোবাইল চুরি করে সেই মোবাইল নিয়ে আসত তার দোকানে৷ কম দামে সেই মোবাইল কিনে কয়েক’শ টাকা লাভ রেখে প্রেমশঙ্কর চোরাই মোবাইল খদ্দেরের কাছে বেচে দিত৷ কিন্তু বাজারে স্মার্টফোনেক ৪জি সেট চলে আসায় সে বিপাকে পড়ে যায়৷ কারণ, ততক্ষণে তার দোকানে প্রায় হাজার চারেক পুরনো চোরাই মোবাইল৷

জেরায় ধৃত পুলিশকে জানিয়েছে, স্মার্টফোনের জেরে সংশ্লিষ্ট ফোনগুলি বিক্রি করতে না পেরে সে মোবাইলের পাটর্সগুলি যতটা সম্ভব বিক্রি করত৷ কিন্তু বেশিরভাগটাই রয়ে গিয়েছিল৷ তারই জেরে এই মোবাইলের স্তুপ৷ যা দেখে বুধবার চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার জোগাড় পুলিশ কর্তাদের৷

আরও পড়ুন: গঙ্গা পেরিয়ে আজ ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর সুড়ঙ্গ পৌঁছবে এসপ্ল্যানেডে

কীভাবে এই তথ্য সামনে এল গোয়েন্দাদের কাছে? পুলিশ সূত্রের খবর: সম্প্রতি তিনটে মোবাইল চুরি গিয়েছিল উল্টোডাঙা থানার একটি গোডাউন থেকে। তদন্ত শুরু হয়েছিল অভিযোগ পাওয়ার পর। এলাকার আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্তকারী অফিসার দ্রুত চিহ্নিতও করে ফেলেন সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের। যাদের মধ্যে একজন, বেলগাছিয়া রোডের বাসিন্দা সঞ্জীব পাল৷

জেরায় সে অপকর্মের কথা স্বীকারও করে৷ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্রেই পুলিশ প্রেমশঙ্করের হদিশ পায়৷ সাজানো গোছানো দোকানের আড়ালে দিব্যি মোবাইল চোরেদের কন্ট্রোল রুম বানিয়ে ফেলেছিল সে৷ চক্রের সঙ্গে আর কে কে যুক্ত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা৷

আরও পড়ুন: মাধ্যমিকের প্রশ্ন ‘ফাঁস’: পর্ষদের বিশেষ খাম-সার্ভারেই ‘ভূত’

----
--