পশ্চিমি ঝঞ্ঝায় অসময়ের বরফে ঢেকেছে সান্দাকফু

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলে পশ্চিমি ঝঞ্ঝা নামিয়েছে বৃষ্টি৷ একই সঙ্গে সেখানে এই মার্চ মাসের অসময়ের দেখা গিয়েছে তুষারপাত। আর, এর ফলে, উত্তরবঙ্গ দেখছে এখন স্বাভাবিক বৃষ্টি এবং অস্বাভাবিক তুষারপাত৷ সান্দাকফুতে বৃষ্টিপাত হয় সাধারণত ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে। কিন্তু পশ্চিমি ঝঞ্ঝা এই মার্চেও তাকে ডেকে এনেছে।

বৃষ্টির মরশুমে সর্বপ্রথম বর্ষা আসে পাহাড়েই৷ তার পর ধীরে ধীরে বর্ষার মেঘ নেমে আসে সমতলে এবং শুরু হয় বর্ষার বৃষ্টি। কিন্তু বর্ষা বিদায়ের পরেও দেখা যায় উত্তরবঙ্গের পার্বত্য জেলাগুলিতে প্রায়ই বৃষ্টি হয়। উত্তরের জেলা হলেও, বর্ষা কেটে গেলে বৃষ্টি কম হয় ডুয়ার্স ও তরাই অঞ্চলে। কিন্তু এর পরেও পার্বত্য অঞ্চলের ওই বৃষ্টিকে স্বাভাবিক বলে থাকেন আবহবিদরা। উচ্চতার কারণে পাহাড়ের গায়ে মেঘ ধাক্কা খেলেই যে কোনও মুহূর্তে বৃষ্টিপাত হতেই পারে।

পাশাপাশি যদি আবার কোনও সিস্টেম থাকে তা হলে তাকে জড়িয়ে বৃষ্টি আরও শক্তি বাড়িয়ে নেয়। ঠিক সেই বৃষ্টিতেই এই মুহূর্তে ভিজছে উত্তরের পার্বত্য জেলা ও সিকিম। সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা অবধি দার্জিলিঙে বৃষ্টি হয়েছে ১৮ মিলিমিটার, মালবাজারেও ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। গ্যাংটকে বৃষ্টি হয়েছে ৯ মিলিমিটার।

- Advertisement -

কিন্তু তা বলে অসময়ে তুষারপাত? সান্দাকফুতে বরফপাতের স্বাভাবিক সময় ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাস। এই সময়ে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে থাকে এবং মেঘ এলেই তা পাহাড়ে ধাক্কা খায়। হিমাঙ্কের নিচে থাকা তাপমাত্রায় জলকে বরফে পরিণত করে৷ কিন্তু, এই মার্চেও প্রচুর তুষারপাত হল সেখানে। আবহবিদরা যাকে কিছুটা অস্বাভাবিক বলেই মনে করছেন।

এদিক পশ্চিমি ঝঞ্ঝাও এই তুষারপাতের জন্য অনেকটাই দায়ী। আবহবিদরা বলছেন, পার্বত্য অঞ্চলে যে কোনও সময়েই পশ্চিমি ঝঞ্ঝা তৈরি হতে পারে। কিন্তু সব সময় তা তুষারপাত ঘটায় না। এক্ষেত্রে ঝঞ্ঝা সান্দাকফুর তাপমাত্রাও অনেকটা কমিয়ে দেয়। তাপমাত্রা ছিল সর্বোচ্চ ৯.৩, যা পশ্চিমি ঝঞ্ঝা এসে স্বাভাবিকের থেকে পাঁচ ডিগ্রি কমিয়ে দেয়। তার ফলেই আকস্মিক তুষারপাত হয় সান্দাকফুতে। সব মিলিয়ে স্বাভাবিক বৃষ্টি হলেও বাংলার অন্যতম উচ্চ স্থানে এই অসময়ে এখন তুষারপাতের দেখা মিলেছে৷

Advertisement
----
-----