ফাইল ছবি৷

বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: বঙ্গ-বিজেপি এখন বিভ্রান্ত৷ একই সঙ্গে গেরুয়া শিবিরের বড় একটি অংশ এখন হতাশ-ও৷ তবে, বেঁচে ওঠার জন্য আবার মরিয়া প্রচেষ্টাও জারি রয়েছে৷ এবং, যে কারণে, কার্যত এমনও দাবি, বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচাগ্র মেদিনী!

বিভ্রান্ত এই কারণে যে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রেসিডেন্ট হিসেবে রাহুল সিনহা দুই দফার মেয়াদ সম্পূর্ণ করার পরেও, এখনও তিনি পদে রয়ে গিয়েছেন৷ এবং, এ রাজ্যে ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচন পর্ব সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত রাহুল সিনহাকে প্রেসিডেন্ট পদে রেখে দেওয়া হবে বলেই জানেন বঙ্গ-বিজেপির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের বড় একটি অংশ৷ তার কারণ হিসেবে ওই সব অংশের যুক্তি, ২০১৬-র নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের প্রেসিডেন্ট পদে বদল ঘটানো হবে না বলে কয়েক মাস আগে রায়চকে বিজেপির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেছিলেন কেন্দ্রীয় স্তরের নেতা সিদ্ধার্থনাথ সিং৷ যদিও, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওই বার্তার পরেও বিভিন্ন সময় গেরুয়া শিবিরের বিভিন্ন অংশের নেতৃত্বের মন্তব্যে আবার এই বিষয়টিও উসকে দেওয়া হয়েছে যে, তা হলে কি রাহুল সিনহার বদলে অন্য কাউকে প্রেসিডেন্ট পদে আনা হতে পারে?

এবং, প্রেসিডেন্ট পদ নিয়ে ফের বঙ্গ-বিজেপির বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন ধরনের জল্পনা শুরু হয়েছে৷ তার সঙ্গে আবার যুক্ত হয়েছে বঙ্গ-বিজেপির বিভিন্ন অংশের তরফে রাহুল সিনহার প্রতি বিরোধিতার বিষয়টিও৷ যার প্রভাব পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়া, ফেসবুকেও৷ যে কারণে, গেরুয়া শিবিরের তরফে বর্তমান রাজ্য প্রেসিডেন্টের বিরোধিতায় বিভিন্ন ধরনের মন্তব্যও প্রকাশ পাচ্ছে ফেসবুকে৷ এ দিকে, আর কয়েক মাস পরে এ রজ্যের পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচন৷ অথচ, যেভাবে রাহুল সিনহার বিরোধিতা ফের মাথাচাড়া দিয়েছে, তাতে খোদ বঙ্গ-বিজেপির-ই অন্তর্দ্বন্দ্ব ফের প্রকাশ্যে এসে পড়েছে৷ এবং, ওই অন্তর্দ্বন্দ্ব আবার উসকে দিয়েছে বঙ্গ-বিজেপির-ই একটি অংশের অবস্থান বিক্ষোভ এবং অনশন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে৷ ‘পশ্চিমবঙ্গ বিজেপিকে বাঁচাতে রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহার অপসারণের দাবিতে সারা বাংলার আদর্শবাদন বিজেপি কর্মী এবং নেতাদের রাজ্য দফতরের সামনে অবস্থান এবং অনশন কর্মসূচি’তে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে৷ ২৭ নভেম্বর, শুক্রবার বেলা একটায় ওই কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা৷image.02

বঙ্গ-বিজেপির জেলা স্তরের এক নেতার কথায়, ‘‘এই কর্মসূচিতে আমারও অংশ নেওয়ার কথা৷ তবে, এই কর্মসূচিতে কলকাতা এবং আশপাশ অঞ্চল সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে অংশ নেবেন অনেকে৷’’ রাজ্য প্রেসিডেন্ট বদলের সম্ভাবনা এখনও রয়েছে? ওই নেতার কথায়, ‘‘আমরা হতাশ৷ ২০১৬-র নির্বাচনের আগে এখন আর প্রেসিডেন্ট পদে বদলের কোনও সম্ভাবনা দেখছি না৷ তার উপর, এখন প্রেসিডেন্ট বদল করেও সেভাবে এগোতে পারবে না দল৷ সময় খুব কম৷ এই বিষয়টি যাঁদের দেখার কথা ছিল, তাঁরাই দেখলেন না৷ কী আর হবে!’’ ওই নেতাও বলেছেন, ‘‘রাজ্য প্রেসিডেন্ট বদলের বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দেখেন৷’’ তা হলে, বঙ্গ-বিজেপির এমন বিষয় সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব? ওই নেতার কথায়, ‘‘কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জানেন৷ কিন্তু, কেন এ রাজ্যের বিজেপিকে বাঁচাতে প্রেসিডেন্ট পদের বদল ঘটানো হল না, সেই বিষয়টি খুবই আশ্চর্যের৷ ২০১৬-য় আমাদের আর করার কিছু থাকলো না৷’’

সূত্রের খবর, বঙ্গ-বিজেপির রাজ্য স্তরের নেতৃত্বের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিষয় প্রকাশ করে দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে৷ এবং, অভিযোগ, এই ঘটনার জেরে, যে অংশ প্রকাশ করে দিয়েছে, সেই অংশকে বিজেপির রাজ্য স্তরের নেতৃত্বের তরফে বিভিন্ন উপায়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে৷ ওই হুমকির অভিযোগের বিষয়টিও প্রকাশ্যে এসেছে ফেসবুকের সৌজন্যে৷ সেখানে রাহুল সিনহার বিরোধিতা করে, রাজ্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর যোগ্যতা নিয়েও বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য এবং কটাক্ষ প্রকাশ পেয়েছে৷ এ দিকে, সূত্রের খবর, বঙ্গ-বিজেপির এমন অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরে, খোদ রাজ্য প্রেসিডেন্টের তরফে পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়েছে৷ কী বলছেন রাহুল সিনহা? পুলিশে জানানোর বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেননি৷ তবে, তিনি বলেন, ‘‘এই বিষয়ে আমি কিছু বলবো না৷’’ আপনার বিরুদ্ধে ২৭ নভেম্বর অবস্থান এবং অনশনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে৷ বঙ্গ-বিজেপির প্রেসিডেন্ট রাহুল সিনহা বলেন, ‘‘এই বিষয়ে আমি কোনও মন্তব্য করবো না৷’’

গেরুয়া শিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব অবশ্য গোটা বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চাইছেন না৷ বঙ্গ-বিজেপির শীর্ষ স্তরের এক নেতার কথায়, ‘‘দেখুন না, কী হয়৷’’ তবে, গেরুয়া শিবিরের অন্য এক নেতার কথায়, ‘‘২০১৬-র নির্বাচন পর্ব সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত, রাজ্য প্রেসিডেন্ট পদে বদল ঘটানো হবে না বলে রায়চকের বৈঠক শেষে জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব৷ ২০১৬-য় পাঁচটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হবে৷ পশ্চিমবঙ্গ সহ এই পাঁচটি রাজ্যের মধ্যে অসমও রয়েছে৷ সমস্যা দেখা দিয়েছে অসমকে কেন্দ্র করে৷’’ কেন? তিনি বলেন, ‘‘দিন কয়েক আগে অসমের প্রেসিডেন্ট পদে বদল ঘটানো হয়েছে৷ আর, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই, পশ্চিমবঙ্গেও এখন প্রেসিডেন্ট পদে বদলের দাবি উঠছে৷ কোনও কোনও অংশ থেকে বিভিন্ন ধরনের রটনাও হচ্ছে৷ কেননা, অসমের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে৷ কারণ, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের পরেও অসমের প্রেসিডেন্ট পদে বদল ঘটানো হয়েছে৷ এই ধরনের পরিস্থিতিতে গোটা বিষয়টি স্পষ্ট করতে পারেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব৷ অথচ, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখনও বিষয়টি স্পষ্ট করছেন না৷ যে কারণে, বিজেপির বিভিন্ন অংশ এখন বিভ্রান্ত৷’’

_______________________________________________________________

আরও খবর:
(০১) মোবাইলে সিগারেট-তামাক আইনে নজর-বন্দি ভারত
(০২) তসলিমার বিস্ফোরণে নির্লজ্জ বাম-তৃণমূলের কলকাতা!
(০৩) নোয়াখালি-স্মৃতি আঁকড়ে তসলিমাকে ফেরাবে বাঙালি!
(০৪) চিকিৎসকদের নিশানায় ফ্রি চিকিৎসার ভোট-রাজনীতি
(০৫) বাংলার ভোটযুদ্ধে ডিসেম্বরে অমিত-জানুয়ারিতে মোদী
(০৬) প্যারিস-সন্ত্রাসের থাবায় বন্দি এইডস নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য!
(০৭) ফোঁটা পেল বোনদের ভুলে না যাওয়া সারমেয়-ভাই
(০৮) গেরুয়ায় রূপা-জল্পনার অবসানে রাহুল-ই প্রেসিডেন্ট
(০৯) দুগ্ধ পানের পর এ বার গো-সম্পদ রক্ষায় মিছিল-সভা
(১০) তৃণমূলকে রুখতে জোটের পথে বাম-ডান-বিজেপি!
(১১) ক্ষমতা জাহিরে মদন এখন বাংলার বাঘ-সেনাপতি!
(১২) যৌনপল্লির ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার-ব্যারিস্টারে মডেল ঊষা
(১৩) রাহুল-অনাস্থায় ২০১৬-য় ভরাডুবির আশঙ্কায় গেরুয়া
(১৪) রাজনীতির ফাঁদে ইউনানির সরকারি অধিগ্রহণের স্বপ্ন
(১৫) ছোটদের বিয়ে ছোটরা রুখেই নিঃশব্দ বিপ্লবে যৌনপল্লি

_______________________________________________________________

----
--