মেয়ে ও স্ত্রীর চাপে পড়ে অনুপ্রবেশ নীতি থেকে সরলেন ট্রাম্প

ওয়াশিংটন: মেক্সিকো সীমান্তে অনুপ্রবেশকারীদের জন্য কড়া নীতি নিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার৷ সেই নীতি থেকে সরে এল তাঁরা৷ আন্তর্জাতিক স্তরে এই নীতি র জন্য সমালোচিত হতে হয় ট্রাম্পকে৷ আগে যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে অনুপ্রবেশকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই ছেড়ে দেওয়া হতো। তবে পরে এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে ট্রাম্প প্রশাসন৷ এছাড়া এসব অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে বিচারের আওতায় আনা হয়।

এরপরেই বিচারের নামে তাদের বিভিন্ন জেলে বন্দী করে রাখা হয়৷ কিন্তু সমস্যা বাধে সেই সব অনুপ্রবেশকারীদের শিশুদের নিয়ে৷ জেলে শিশুদের রাখার আইন না থাকায় ওইসব পরিবারের সঙ্গে থাকা শিশুদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়।

মার্কিন অনুপ্রবেশ দমন মন্ত্রকের আধিকারিকরা জানিয়েছেন ৫ মে থেকে ৯ জুন পর্যন্ত ২ হাজার ২০৬ জন বাবা-মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে ২ হাজার ৩৪২ জন শিশুকে।

- Advertisement -

বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন তাঁর পরিবারের অন্যতম এবং প্রভাবশালী সদস্য মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ও মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পও এই বিচ্ছিন্ন নীতির বিরোধী ছিলেন। সম্প্রতি এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে এই নীতির সমালোচনা করেন মেলানিয়া।

তবে এই নীতি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তাঁর কোনও ক্ষমতা নেই বলে জানান ট্রাম্প৷ এবিষয়ে বৃহস্পতিবার মার্কিন কংগ্রেসে ভোটাভুটির আয়োজন করা হয়৷ সম্মতি মেলে এই নীতি পরিবর্তনের বিষয়ে৷

বুধবার ট্রাম্প দাবি করেন, পরিবারকে এক রাখতে চাই আমরা। আলাদা রাখার দৃশ্য আমার ভালো লাগেনি। ট্রাম্প বলেন, তার স্ত্রী মেলানিয়া ও মেয়ে ইভাঙ্কা তার ওপর এই নীতি থেকে সরে আসার জন্য চাপ দিচ্ছিল। বৃহস্পতিবারই এই নীতির বিরুদ্ধে বিশেষ নির্দেশে সই করেন তিনি৷

উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী কার্সটেন নিলসেন। রিপাবলিকান কংগ্রেস নেতা পল রায়ান বলেছেন, তারা ভোটের মাধ্যমে একটি আইন পাস করবেন। এতে পরিবারের সাথেই থাকতে পারবে শিশুরা।

ট্রাম্পের সই করা নির্দেশে রয়েছে মামলা চলাকালীন অনুপ্রবেশকারীদের পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গেই বন্দী রাখা হবে। এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে। এছাড়া সেইসব পরিবারের শিশুদের ২০ দিনের বেশি আটকে রাখা যাবে না৷ বিবিসি এক রিপোর্টে জানায়, আন্তর্জাতিক সমালোচনার জন্যই এই নীতি থেকে সরে এলেন ট্রাম্প। তবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে এই নীতি থেকে সরে এলেও অবৈধ অনুপ্রবেশের ওপর আগের মতোই কঠোর নীতি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

Advertisement ---
---
-----