সিংগিমারি নদী গর্ভে কোচবিহারের পঞ্চধ্বজি প্রাথমিক বিদ্যালয়

স্টাফ রিপোর্টার, কোচবিহার: নদীর জলের দিকে তাকিয়ে এখন শুধু হাহাকার৷ কয়েক ঘন্টা আগে পর্যন্ত যে স্কুলের অস্তিত্ব ছিল চোখের নিমেষে তা উধাও৷ সিংগিমারি নদীর ভাঙনে তলিয়ে গেল কোচবিহারের ওকরাবাড়ির পঞ্চধ্বজি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশই৷

দিনহাটা এক নম্বর ব্লকের পঞ্চধ্বজি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় ২০০ জন৷ স্কুলবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় তাদের চোখে মুখে ভয়ের ছাপ স্পষ্ট৷ আঁধারে তাদের ভবিষ্যত৷ মাথায় হাত অভিভাবক থেকে স্কুলের শিক্ষকদের৷ ফের কবে চালু হবে পড়াশুনা, এই প্রশ্নেই ঘোর অন্ধকারে সবাই৷ স্কুলের অবশিষ্ট অংশের সামনে দাঁড়িয়ে হতাশার সুরে প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র সাউট জানালেন, ‘‘এই স্কুলে চারটি ঘর ছিল, সোমবার গভীর রাতে সব তলিয়ে গিয়েছে নদীতে, কবে ফের পের ক্লাস শুরু করতে পারব জানি না, এখন স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে৷’’

- Advertisement -

গত কয়েক বছরে সিংগিমারি নদীর পাড় ভাঙনে সমস্যায় জেরবার ওকরাবাড়ির বাসিন্দারা৷ ফলে পাড় ভাঙনের প্রবনতায় স্কুলটি যে তলিয়ে যাবে সেই আশঙ্কা আগেই করেছিলেন স্থানীয়রা৷ পঞ্চধ্বজি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বাঁচানোর জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধও করেছিলেন তারা৷ কিন্তু স্কুল বাঁচাতে কোনও উদ্যোগও নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের৷ স্থানীয় বাসিন্দা আতিয়ার রহমান বলেন, ‘‘এই শিশুগুলির ভবিষ্যত কি হবে জানিনা, যদিও প্রশাসন আগে উদ্যোগী হত তবে স্কুলটি বাঁচান যেত।’’

আরও পড়ুন: বন্ধ ক্লাবের দরজা খুলতেই সামনে এল ভয়ঙ্কর ঘটনা

তবে প্রশাসনিক উদাসীনতার অভিযোগ মানতে রাজি নন দিনহাটা এক নম্বর ব্লকের বিডিও শোভিক চন্দ৷ তাঁর সাফাই, ‘‘পঞ্চধ্বজি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বাঁচাতে গত বছর প্রায় ১০ লক্ষ টাকা খরচ করে নদীর পাড় বাঁধানো হয়েছিল, তার পরেও স্কুলটি বাঁচানো গেলনা।’’ ফের পড়াশুনো চালুর প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘‘, প্রাথমিকভাবে স্থানীয় একটি মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রে এই স্কুলের পঠন পাঠন চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। পরে অন্য জায়গা দেখে নতুন ভাবে স্কুল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।’’

প্রাথমিক স্কুল বাঁচানোকে কেন্দ্র করে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ রয়েছে৷ বিডিও’র আশ্বাস দ্রুত বাস্তবায়িত হলে আঁধার সরিয়ে ফের আলোর মুখ দেখতে পারে কচিকাচার দল৷

Advertisement ---
---
-----