ঘোলার জোড়া খুনের ঘটনায় মূল পাণ্ডা রাজুর অপরাধের পর্দা ফাঁস

স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: অপরাধের বেতাজ বাদশা ঘোলার জোড়া খুনের টিটাগড়ের কুখ্যাত দুষ্কৃতী দাদ্দা রাজুর অপরাধের পর্দা ফাঁস৷ পুরনো অন্য একটি খুনের মূল ষড়যন্ত্রীও সে। পুলিশি জেরায় সে ঘটনার কথা স্বীকার করে নেয়। সুপারির টাকা দিতে অস্বীকার করায় সুপারিকিলারকেও খুন করেছিল কুখ্যাত রাজু।

উত্তর ২৪ পরগণার ঘোলার জোড়া খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে উঠে এল আরও এক নতুন তথ্য। গত ১৪ জানুয়ারি টিটাগড়ের পীরঘাট এলাকায় পুরনো একটি খুনের ঘটনার কিনারা করে ফেলল পুলিশ। সালাউদ্দিন ও প্রকাশ রাও খুনের তদন্তে নেমে পুলিশ মূল অভিযুক্ত দাদ্দা রাজু, তার ভাই মহম্মদ চাঁদ এবং অন্য এক সহযোগী মহম্মদ হাসান ওরফে ছোটকাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা শুরু করেছে।

সেই জেরাতেই পুলিশের হাতে উঠে এল নতুন তথ্য। গত ১৪ জানুয়ারি টিটাগড়ের পীরঘাটে মুন্না নামে এক দুষ্কৃতীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে টিটাগড় থানার পুলিশ। সেই খুনের ঘটনার সঙ্গেও জড়িত এই তিন কুখ্যাত দুষ্কৃতি। ওই দুষ্কৃতীরা সেকথাই পুলিশি জেরায় স্বীকার করেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে৷

- Advertisement -

১৪ জানুয়ারি মুন্নার দেহ উদ্ধারের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ছিল দাদ্দা রাজুর দলেরই দুষ্কৃতী সালাউদ্দিন। দাদ্দা রাজুকে পুলিশ জেরা করে জানতে পেরেছে নিজেদের মধ্যে শত্রুতার জেরে দেড় লক্ষ টাকার সুপারি দিয়ে সালাউদ্দিন মুন্নাকে খুন করে ছিল৷ যদিও খুনের সুপারির মাত্র ৫০ হাজার টাকাই সালাউদ্দিনকে রাজু দিয়েছিল। বাকি ১ লক্ষ টাকা সে দেয়নি।

এই বকেয়া টাকা নিয়ে সালাউদ্দিনের সঙ্গে বিবাদ শুরু হয়েছিল রাজুর। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে সালাউদ্দিন সুপারির বাকি ১ লক্ষ টাকার জন্য রাজুকে চাপ দিচ্ছিল। সেই টাকা নিয়ে রফা করতেই সালাউদ্দিনকে নিজের বাড়িতে ডেকেছিল রাজু। সেখানেই সালাউদ্দিন তার বন্ধু প্রকাশকে নিয়ে পৌঁছে ছিল। এরপর সালাউদ্দিন ও প্রকাশকে আকণ্ঠ মদ্যপান করিয়ে বেহুঁশ করে দুজনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করে রাজু।

মধ্যরাতে সেই জোড়া দেহই রাজু ও তার অন্য সাগরেদরা মিলে কল্যাণী হাইওয়ের পাশে ফেলে দিয়ে আসে। পুলিশি জেরায় অভিযুক্ত দাদ্দা রাজু ও তার সাগরেদরা স্বীকার করে নিয়েছে তারা গত ১৫ দিনের মধ্যে তিনজন দুষ্কৃতীকে নিজেরাই খুন করেছিল। এই তিনজনই নিজেদের মধ্যে বেআইনি কারবার করত। গত ১৪ জানুয়ারি খুন হওয়া মুন্নাও একসময় দাদ্দা রাজুর ঘনিষ্ঠ ছিল।

সেই মুন্নার সঙ্গে শত্রুতার জেরে প্রথমে তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয় রাজু। এরপর সে সুপারি কিলারকে দিয়ে মুন্নাকে খুন করায়৷ সেই সুপারি কিলার ও তার বন্ধুকে সুপারির টাকা না দিতে চেয়ে তাদেরও খুন করে সে৷ এদিকে এই তিনটি খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ দাদ্দা রাজুর আরও দুই সঙ্গী ফরমান খান এবং রাজ ঠাকুরকে গ্রেফতার করেছে টিটাগড় থানার পুলিশ। তাদের জেরা করে দাদ্দা রাজুর অন্য অপরাধগুলো সম্পর্কে খোঁজ খবর নিচ্ছে পুলিশ।