প্রিয়াঙ্কার সাহসের কাহিনি তুলে ধরে ‘সুকন্যা’র প্রচার মন্ত্রীর

স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়: মেয়েটির নাম প্রিয়াঙ্কা সিংহ রায়৷ আর পাঁচটা সাধারণ ঘরের মেয়ের মতোই৷ সাদা-সিধে, ঘরোয়া৷ কিন্তু, সাধারণ ঘরের হালকা চেহার মেয়েটি এক মুহূর্তেই ‘দুর্গা’ হয়ে উঠতে পারেন, তা স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি তিন ইভটিজার৷

পাড়ার তিনমাথার মোড়ে দাঁড়িয়ে প্রিয়াঙ্কার মার্শাল আর্টের তীক্ষ্ণ গুঁতোয় কুপোকাত তিন যুবক৷ প্রিয়াঙ্কার সৌজন্যেই তিন ইভটিজারের ঠিকানা এখন হাজতেই৷ প্রিয়াঙ্কার এই মার্শাল আর্টের গুঁতো বিদ্যুতের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল দুনিয়ায়৷ এতক্ষণে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে গিয়েছে প্রিয়াঙ্কার কর্মকাণ্ড৷

সাত-সকালে বীরভূমের এই বীরাঙ্গনার কাহিনী মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে, অনেকটা কাকতালীয়ভাবে সেদিনই ২৮ মার্চ বুধবার সন্ধ্যায় রাজ্য সরকারের ‘সুকন্যা’ প্রকল্পে হাওড়া, বিধাননগর ও ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের স্কুল ছাত্রীদের শংসাপত্র বিতরণ করা হল৷

- Advertisement -

হাওড়ার শরৎ সদনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাজ্যের দুই মন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রায় সব বক্তাই এইসব ‘সুকন্যা’দের প্রিয়াঙ্কার কাহিনী তুলে ধরে অন্যায়ের প্রতিবাদে রুখে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিলেন৷

কলকাতায় ২০১৪ সালে এই প্রকল্প শুরু হলেও গত ২০১৭ সালের ১৮ জুলাই হাওড়া, বিধাননগর ও ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটে শুরু হয় এই সুকন্যা প্রকল্প৷ এর আওতায় এই তিন কমিশনারেটের প্রায় ২০০টি স্কুলে ১৫ হাজার ছাত্রী এই মার্শাল আর্টের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে৷

বুধবার সন্ধ্যায় প্রথম পর্যায়ে কয়েকটি স্কুলের ছাত্রীদের শংসাপত্র দেওয়া হয়৷ হাওড়ায় এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, রাজ্যের মহিলা ও শিশু বিকাশ এবং সমাজ কল্যাণ দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী ড: শশী পাঁজা, ওই দফতরের সচিব সংঘমিত্রা ঘোষ, ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন দয়মন্তী সেন, হাওড়ার জেলাশাসক চৈতালি চক্রবর্তী, মেয়র ডা: রথীন চক্রবর্তী, কমিশনার ডি.পি.সিং, জ্ঞানবন্ত সিং সহ পুলিশ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা৷

চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘আমরা স্কুল-জীবনে যা করতে পারিনি পরের প্রজন্মের ছাত্রীরা সেটা করে দেখাতে পারছে সেটা ভাল লাগছে৷ এরা নিজেরা স্কুলে এই প্রশিক্ষণ নিয়ে শুধু নিজেরা নিজেদের সুরক্ষা করতে পারছে তাই নয় এরা সমাজের সুরক্ষা দিচ্ছে৷ মার্শাল আর্টের হাত ধরে ক্যারাটে, জুডো, তাইকুন্ডুর প্রশিক্ষণ নিয়ে এরা মানসিকভাবেও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারছে৷’’

ড: শশী পাঁজা বলেন, ‘‘আমরা সাক্ষী হয়ে রইলাম, যে আমাদের রাজ্যের সুকন্যারা বিপদের হাত থেকে শুধু নিজেদেরই রক্ষা করবে না, অপরকেও বিপদের হাত থেকে রক্ষা করবে৷ মুখ্যমন্ত্রীর এই ভাবনায় আমরা গর্বিত৷’’ এদিন হাওড়ায় শরৎ সদনের মঞ্চে মার্শাল আর্টের বিভিন্ন কলাকুশলী প্রদর্শন করে দেখায় তিন কমিশনারেটের বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রীরা৷

Advertisement
---