বুম্বাদার নতুন লুকে কুপোকাত টলিপাড়া

কলকাতা : টেবিল ভরতি কাগজ, খাতা৷ চেয়ারের ওপর বসে বুম্বা দা৷ ফাইলপত্র খুলে মন দিয়ে তাকিয়ে রয়েছেন সেদিকে৷ এক মুহূর্তের জন্যও বিরক্ত করা চলবে না তাঁকে৷ তবে আশপাশটা কেমন অন্যরকম লাগছে৷ তাঁর পোশাক, চশমার ফ্রেম, সবেতেই কোথায় যেন খটকা লাগছে৷ না! আশপাশের প্রতিটি আসবাব সত্তর দশকের৷ এমনকি প্রসেনজিৎের পোশাক, চুলের স্টাইল সবকিছুই পুরনো দিনের৷ এরমই একটি ছবি ভাইরাল হয়এছে নেটদুনিয়ায়৷ কোনও ক্যানডিড ফোটোগ্রাফির ছবি এটা নয়৷ অভিনেতার আসন্ন ছবি ‘মহালয়া’য় এই লুকে দেখা যাবে অভিনেতাকে৷

বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের জায়গায় উত্তমকুমারের মহালয়া সম্প্রচারণা নিয়ে চারিদিক সমালোচনায় ঙরে গিয়েছিল৷ সেই ঘটনাকে সেলুলয়েডের রূপ দিতে চলেছেন পরিচালক সৌমিক সেন৷ ছবির নাম ‘মহালয়া’৷ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং যীশু সেনগুপ্ত বেশ কিছু সময় পর আবারও একসঙ্গে এই ছবিতে কাজ করতে চলেছেন৷ প্রসেনজিৎ ছবির সম্বন্ধে জানিয়েছেন, ছবিটির গল্প সেই সময়ের জনগণের প্রতিক্রিয়াকে কেন্দ্র করে৷ উত্তম কুমারকে কীভাবে শ্রোতারা নিয়েছিলেন, সেই নিয়েই তৈরি চিত্রনাট্য৷ উত্তম কুমারের চরিত্রে থাকছেন যীশু সেনগুপ্ত৷ শুভাশিষ মুখোপাধ্যায় অভিনয় করবেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চরিত্রে৷ শুভময় চট্টোপাধ্যায় থাকছেন পঙ্কজ মল্লিকের চরিত্রে৷ প্রসেনজিৎের চরিত্রের সম্বন্ধে এখনও তেমন কিছু জানা যায়নি৷ তাছাড়া রুদ্রনীল ঘোষ, কাঞ্চন মল্লিক এবং সপ্তর্ষি রায়ও রয়েছেন ছবিতে৷ সিনেমার সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন দেবজ্যোতি মিশ্র৷ ১৪ ই মার্চ মুক্তি পাবে ছবিটি৷

আরও পড়ুন: ভিভিয়ানের প্রতি সুর নরম করলেন অভিনেত্রী

- Advertisement -

পুজো মানেই বাঙালির সবচেয়ে বড়ো উৎসব৷ সপ্তমী থেকে পুজো শুরু হলেও বাঙালিদের মনে পুজো শুরু হয় মহালয়া থেকে৷ তবে মহালয়া তখনই সম্পূর্ণ হয় যখন ভোরবেলা রেডিওতে মহিষাসূরমর্দিনীর সুর ভেসে আসে৷ ভোর চারটের সময় রেডিও চালিয়ে সপরিবারে বসে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মহালয়া না শুনলে যেন মনেই হয়না পুজো আসছে৷ বাঙালিয়ানার সঙ্গে ওতপ্রতভাবে জড়িত বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের এই মহিষাসূরমর্দিনীর শ্লোকপাঠ৷ একবিংশ শতকে এসেও একইরকমভাবে বেতার অনুষ্ঠানটির জন্য অধীর আগ্রহে বসে থাকে প্রত্যেকে৷

আরও পড়ুন: ধোঁয়ায় ঢাকল দীপিকার বাড়ি

১৯৭৫ সালে সরকারিভাবে ঘোষণা রৃকরা হয়েছিল বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের জায়গা নিতে চলেছেন মহানায়রক উত্তম কুমার৷ ১৯৩১ সাল থেকে মহিষাসূরমর্দিনী অনুষ্ঠানটি মহালয়ার দিন ভোর চারটের সময় কলকাতার আকাশবাণী থেকে সম্প্রচারিত হয়। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ এই অনুষ্ঠানের ভাষ্য ও শ্লোকপাঠ করেছেন। মহিষাসূরমর্দিনী, অনুষ্ঠানটি লিখেছিলেন বাণীকুমার এবং সঙ্গীত পরিচালনা করেছিলেন পঙ্কজকুমার মল্লিক৷ সেই ঘোষণার পর পরই এক একজন এক এক রকমের প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন৷ এনেকেই মেনে নিতে পারেননি এই প্রতিস্থাপন অধিকাংশ শ্রোতা৷ উত্তমকুমারের সম্প্রচারণা মেনে নিতে পারেনি কেউই৷ উত্তমকুমারের ভক্তদের অভাব আজও নেই ঠিকই, সেই সময়ও ছিল না৷ তবে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের জায়গায় উত্তম কুমারকে পেয়ে হাতাশ হয়েছিল বাঙালি৷

Advertisement ---
-----