মহানায়ক স্মরণে ‘নায়ক’ প্রসেনজিৎ

‘আমি অরুণ চ্যাটার্জি, আমিই ইন্ডাস্ট্রি…’- এ সংলাপ শোনা গিয়েছিল তাঁর মুখেই৷ কিন্তু তিনি নন, আসল অরুণ চট্টোপাধ্যায় তো অন্যজন৷ বাঙালির কাছে যিনি উত্তমকুমার৷ মহানায়কের ৩৫ তম মৃত্যুবার্ষিকিতে তাঁর ‘উত্তমজেঠু’র স্মৃতিচারণা করলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়৷

নিজের ব্লগে প্রসেনজিৎ এদিন জানিয়েছেন , তাঁর ‘অটোগ্রাফ’ ছবিতে এ সংলাপ থাকলেও শুধু উত্তমকুমারের মুখেই সত্যি সত্যি এ সংলাপ যথাযথ হতে পারত৷ সকলের কাছে তিনি মহানায়ক হলেও, প্রসেনজিতের কাছে তিনি একজন অভিভাবক, তাঁর উত্তমজেঠু৷ ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে বহুবার গিয়েছেন তাঁর বাড়িতে৷ মহানায়কও এসেছেন তাঁদের বাড়িতে৷ আর একটা ২৪ জুলাইয়ে দাঁড়িয়ে সেইসব স্মৃতিই ফিরে এল এই সময়ের অন্যতম প্রদান নায়কের মনে৷ বাড়ির সকলে মিলে সেই একসাথে হওয়াকে তখনকার দিনে জলসা বলা হত৷ এখন যা নাম পালটে হয়েছে পার্টি৷ সেই জলসায় ছোট্ট প্রসেনজিৎ বহুবার ড্রাম বাজিয়েছেন৷ আর তাঁর উত্তমজেঠু তাঁকে উৎসাহ দিয়ে গান গেয়েছেন তাঁর সঙ্গে৷ অতবড় মানুষ হলেও তিনি ছিলেন পরিবারের  সকলের খেয়াল রাখতেন৷ তাঁর বাড়িতে গিয়ে কখনও প্রসেনজতের মনে হয়নি যে তিনি নিজের ছাড়া অন্য কারও বাড়িতে গিয়েছেন৷

 তাঁর অভিনয় জীবন শুরুর সঙ্গেও জড়িয়ে ছিলেম মহানায়ক৷ ‘দুই পৃথিবী’ ছবিতে মহানায়কের তরুণ বয়সের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন প্রসেনজিৎ৷ এছাড়াও জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে তিনি মহানায়কের থেকে কিছু না কিছু শিখে চলেছেন৷সেই শিক্ষা তিনি আজও কাজে লাগান৷ আজও প্রতিটা শট শেষ হওয়ার পর পরিচালক থেকে শুটিংয়ের স্পট বয় সকলকে জিজ্ঞেস করেন, কেমন হল? উত্তমকুমারের থেকেই তিনি শিখেছেন, নতুন পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করার শিক্ষা৷ প্রথম ফটোশুটে তাঁকে সাহায্য করেছিলেন উত্তমকুমারই, শিখিয়েছিলেন নায়কের লুক কেমন হতে হয়৷ কেরিয়ারে স্ট্রাগলিং পিরিয়ডে উত্তমকুমারই তাঁকে ভরসা দিয়ে বলেছিলেন, নায়ককে কীভাবে নিজের অ্যাটিটিউড ধরে রাখতে হয়৷ তাঁর ‘জাতিস্মর’ ও ‘অটোগ্রাফ’ উত্তমকুমারকে জানানো তাঁর শ্রদ্ধা৷

- Advertisement -

উত্তমপ্রয়াণের পর প্রসেনজিতের মা তাঁকে  বলেছিলেন, জীবনের একটি বড় ছাতা তিনি হারালেন৷ তিনি আজও নেই৷ কিন্তু তাঁর জীবনের শিক্ষা আজও প্রতি পদে অনুভব করেন তিনি৷ আর সে সবই তাঁর জীবনের সেরা উপহার বলে মনে করেন প্রসেনজিৎ৷

Advertisement ---
---
-----