ছবি: প্রতীকী

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: একগুচ্ছ দাবি নিয়ে এবার অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হলেন বৃত্তিমূলক শিক্ষাকেন্দ্রের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের সংগঠন ওয়েস্ট বেঙ্গল ভোকেশনাল টিচার্স এণ্ড ট্রেনার্স অ্যাসোসিয়েশানের সদস্যরা। রাজ্যের প্রায় প্রতিটি জেলা থেকে কলকাতার ওয়েলিংটন স্কোয়ারে এই অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন প্রায় দেড় হাজারের বেশি সদস্য।

উক্ত সংগঠনের আহ্বায়ক দেলওয়ার হোসেন জানান, পরিকাঠামো ও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে বর্তমানে চরম সংকটের মুখে রাজ্যের বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা। রাজ্যের বিভিন্ন বিদ্যালয়গুলিতে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে বহু শিক্ষক চাকরি পেয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় ক্ষতি হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের। পাশাপাশি, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বেতন এতটাই কম যে পরিবারের ভরণপোষণে তা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Advertisement

পড়ুন: বৃষ্টির মধ্যেও স্কুলে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ ছাত্রছাত্রীদের

তিনি আরও জানান, তাদের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে সংগঠনের পাশে দাঁড়িয়েছেন সংখ্যালঘু যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি কামরুজ্জামান। তাঁর মতে, যেখানে হাতেকলমে শিক্ষা নেওয়ার দিকে ছাত্রছাত্রীদের ঝোঁক বাড়ছে। সেখানে এরকম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার মানোন্নয়নের দিকে রাজ্য সরকারের আরও নজর দেওয়া উচিত। তবে এক মাসের মধ্যে বৃত্তিমূলক শিক্ষার হাল ফেরাতে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হওয়ার কথাও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ছাত্রছাত্রীদের হাতেকলমে শিক্ষাদান করার উদ্দেশ্য নিয়ে ২০০৭ সালে তৈরি করা হয়েছিল রাজ্য বৃত্তিমূলক শিক্ষা সংসদ। সংসদের তত্ত্বাবধানে রাজ্যের বিদ্যালয় ও শিক্ষাকেন্দ্রগুলিতে শুরু হয়েছিলো ছয় মাসের সার্টিফিকেট কোর্স ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে বিভিন্ন বিষয়ে হাতেকলমে শিক্ষা। কিন্তু সংসদ আচমকা শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়ায় ধীরে ধীরে সংকটের সম্মুখীন হতে থাকে বৃত্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা।

তবে এই অবস্থান বিক্ষোভ থেকে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য একটি দাবিপত্র নিয়ে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে যান সংগঠনের পাঁচজনের প্রতিনিধি দল। তারা জানান, এদিন ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি ও কাজের সুরক্ষা প্রদান, পার্টটাইম শিক্ষক নিয়োগ প্রথার অবলুপ্তি সহ চার দফা দাবি সম্বলিত একটি দাবিপত্র মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক তাদের দাবিপত্রটি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পেশ করবেন বলেও জানিয়েছেন।

----
--