রানা দাস: টানা তিনমাস পুলিশ এলাকায় ঢুকতে পারেনি৷ তবে, আইনের শাসন ফেরাতে নন্দীগ্রামে পুলিশ ঢুকবে, তার একটা আভাস পাওয়া যাচ্ছিল৷ বিভিন্ন জেলা এবং থানা থেকে কাতারে কাতারে পুলিশ কর্মী আর অফিসার আনা হচ্ছিল তমলুক পুলিশ লাইনে৷ সেখান থেকে ভ্যানে করে তাদের পাঠানো হচ্ছিল তেখালি খালের ওপারে খেজুরি থানা এলাকায়৷ চণ্ডিপুর থেকে নন্দীগ্রাম যাওয়ার পথে গজিয়ে উঠছিল সিপিএমের ক্যাম্প৷ নজর রাখা হচ্ছিল কারা নন্দীগ্রামে আসছে-যাচ্ছে৷

সারাদিন নন্দীগ্রামে পরে থাকার পর রাতে তমলুকে ফেরার পথে সিপিএম ক্যাডারদের নানা প্রশ্নের জবাব দিতে হচ্ছিল৷ বর্তমান পত্রিকার সাংবাদিক এই পরিচয় কোনদিনও দিতে পারেনি৷ খবরের কাগজে কাজ করতাম বলে, কেউ কোনদিন বর্তমান পত্রিকার সাংবাদিককে চিনত না৷ আর নন্দীগ্রামে আসা-যাওয়ার পথে সঙ্গী করেছিলাম আজকালের জেলা সাংবাদিক রাজীব চক্রবর্তীকে৷ স্থানীয় নিচুতলার সিপিএম নেতাদের সঙ্গে তাঁর মুখ চেনা সম্পর্ক৷

Advertisement

ফলে রাজীবকে সঙ্গে করেই যাতায়াত করতাম বলে, কোনদিন সমস্যা হয়নি৷ যদিও খবর ছিল, সিপিএম ক্যান্পে ক্যান্পে নির্দেশ দেওয়া ছিল আমাকে খুঁজে বের করার জন্য৷ কিন্তু, রাজীবকে সঙ্গী করার ফলে কেউ কোনদিন আমাকে সন্দেহ করেনি, জানতেও পারেনি যে আমিই বর্তমানের জেলা সাংবাদিক৷ ফলে বরাত জোরে টার্গেটে থাকলেও, কোনদিন ধরা পড়িনি৷

যাই হোক, নন্দীগ্রামে পুলিশ ঢুকে আইনের শাসন ফেরাবে, সেই লক্ষ্যে রাজ্য পুলিশের জোর তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল৷ কিন্তু, কবে কীভাবে পুলিশ ঢুকবে তার কোন সঠিক দিনক্ষণ জানতে পারছিলাম না৷ অন্যদিকে, পুলিশের ঢোকা আটকাতে নন্দীগ্রামের অন্দরেও জোর তৎপরতা দেখা যাচ্ছিল৷

২০০৭ সালের ১৩ মার্চ সন্ধেবেলা প্রথম জানতে পারি যে, ১৪ মার্চ খেজুরির দিকে থেকে নন্দীগ্রামে পুলিশ ঢুকবে৷ এটা জানতে পারি তখনকার বাংলা আউটলুক ম্যাগাজিনের দুঁদে সাংবাদিক সঞ্জয় ভদ্রের কাছ থেকে৷ কলকাতায় ক্রাইম বিটের রিপোর্টার বলে তাঁর কাছে খবরটা পৌঁছে গিয়েছিল৷ ঠিক তার কিছু পরেই তৃণমূল বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারির সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারলাম, খবরটা সত্যি ১৪ মার্চ পুলিশ ঢুকবে৷

ঘটনার ১১ বছর পর আর বলতে কোন বাধা নেই যে, শুভেন্দুর কাছ থেকেই জানতে পারলাম, এই খবরটা তিনি পেয়েছেন মহাকরণ থেকেই৷ রাজ্য পুলিশের এক কর্তা তাঁকে মোবাইলে ফোন করে সরকারের পরিকল্পনা ফাঁস করে দেয়৷ সেই রাতেই কলকাতা থেকে এপিবি আনন্দের (তখন স্টার আনন্দ ছিল) সাংবাদিক চিত্রদীপদা (চিত্রদীপ চক্রবর্তী) ফোন করে একই কথা বললেন৷ ফলে সব দিক থেকেই বুঝতে পারছিলাম আগামিকাল, ১৪ মার্চ বড় কিছু একটা ঘটতে চলেছে৷ তমলুকে আমরা যারা থাকতাম, তারা প্রায় দিন নন্দীগ্রামেই রাত কাটাতাম৷

কিন্তু, ১৩ তারিখের রাতটা তমলুকেই ছিলাম৷ আমাদেরই এক সহকর্মী কলকাতা টিভির ক্যামেরাম্যান কাজল মাইতি সেই রাতে নন্দীগ্রামেই ছিল৷ তাকে ফোন করে পরিস্থিতি জানতে চাইলাম৷ অনেকক্ষণ কথা বলে জানতে পারলাম, কাল খেজুরি দিয়ে পুলিশ ঢুকছে, সেই খবর আন্দোলনকারীদের কাছে পৌঁছে গিয়েছে৷ পুলিশকে প্রতিরোধ করার সমস্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে৷

কাজল সেই রাতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তেখালি ব্রিজের কাছে সোনাচুড়ায় আছে৷ ওকে জানিয়ে রাখলাম, কিছু হলে যেন রাতেই জানায়৷ সেই রাতে আর ঘুম হল না৷ সারারাত জেগেই কাটালাম৷ কারণ পরের দিন কী হতে চলেছে, তা আন্দোলনকারীদের প্রতিরোধের প্রস্তুতি থেকে বুঝতে পারছিলাম৷ আন্দোলনকারীদের লক্ষ্যে করে গুলি না চালালে পুলিশের নন্দীগ্রামে ঢোকার কোনও ক্ষমতা ছিল না, এটা স্পষ্ট হয়েছিল টানা চার-পাঁচমাস নন্দীগ্রামে পড়ে থাকার ফলে৷

রাতভর একটা কথা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল, জোর করে পুলিশ ঢুকতে গেলে লাশ পড়বে অনেক৷ পুলিশের ওপরও আঘাত আসতে পারে৷ আগুন জ্বলতে পারে রাজ্যজুড়েই৷ এই সব সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে ভোরের আলো ফুটে ওঠে৷ সকালে নন্দীগ্রামে যাওয়া জন্য তৈরি হচ্ছিলাম, এমনই সময় নন্দীগ্রাম থেকে খবর এল যে, তেখালি খাল পেরিয়ে পুলিশ দুই দিক দিয়ে নন্দীগ্রামের ঢোকার জন্য এগিয়ে আসছে৷ একদিকে গোকুলনগর৷ অন্যদিকে ভাঙাবেড়্যা হয়ে পুলিশ নন্দীগ্রামে ঢুকতে চলেছে৷ প্রচুর পুলিশ এগিয়ে আসছে নন্দীগ্রামের দিকে৷

অন্যদিকে, আন্দোলনকারীরা যাতে না পালাতে পারে, তার জন্য নন্দীগ্রামে ঢোকা এবং বের হওয়ার সমস্ত পথে ক্যাম্প করে খানা-তল্লাসি চালাচ্ছে সিপিএমের লোকেরা৷ এমন কী, কেউ যাতে হলদি নদী পেরিয়ে নন্দীগ্রামে ঢুকতে এবং বের হতে না পারে, তার জন্য নদীঘাটেও ক্যাম্প করেছে সিপিএম কর্মীরা৷ তারা সংবাদমাধ্যমকেও নন্দীগ্রামে ঢুকতে দিচ্ছে না৷ এই পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলে যাওয়াটা খুব দরকার৷ আর যে কোনভাবেই নন্দীগ্রামে ঢুকতেই হবে৷ মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলাম আজকালের জেলা সাংবাদিক রাজীবের সঙ্গে৷ তাকেও ভিতরে ঢুকতে হবে৷ নন্দীগ্রামের বাইরে যেমন আমার বিপদ সিপিএম ক্যাডারদের কাছ, তেমনি নন্দীগ্রামের ভিতরে আন্দোলনকারীদের মুখে রাজীবেরও বিপদ৷ দু’জনেই ঠিক করলাম আমরা নন্দীগ্রাম যাব৷

গাড়ি নিয়ে গেলে বিপদের মুখে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল৷ তাই তমলুক থেকে বাসেই রওনা দিলাম৷ নেমে গেলাম চণ্ডিপুরে৷ এর পর আর ভিতরে যাওয়ার কোন উপায় নেই৷ সেখান থেকে কম করেও ২২ কিলোমিটার যেতে নন্দীগ্রাম পৌঁছতে৷ কিন্তু চণ্ডিপুরেই হাসপাতাল মোড়েই ক্যাম্প করে আছে সিপিএমের লোকেরা তার কিছুটা দূরে হাঁসখালিতেও আরও একটা ক্যাম্প আছে সিপিএমের৷ ফলে এই দুই ক্যাম্পের লোকেরা কোন মতেই আমাদের নন্দীগ্রামে ঢুকতে দেবে না৷

কিন্তু যেতে যে হবেই৷ তাই সেখান থেকে ফোনে যোগাযোগ করলাম সানুদা বলে চণ্ডিপুরে এক যুবকের সঙ্গে৷ তিনি কট্টর কর্মী না হলেও, তৃণমূল সমর্থক৷ শুভেন্দুর ভক্ত৷ আন্দোলনের শুরুর অনেক আগে থেকে নন্দীগ্রাম নিয়ে বিস্তর খবর করার জন্য তিনি আমারও ভক্ত ছিলেন৷ ফোন করতেই তিনি তার লাল রঙের মোটর বাইক নিয়ে হাজির৷ আমরা নন্দীগ্রামে ঢুকতে চাই, একটা ব্যবস্থা করতে হবে৷ আমার কথা শুনেই তিনি বললেন, ‘দাদা কোন চিন্তা করবেন না, আমি আপনাদের নন্দীগ্রামে পৌঁছে দেব৷ সিপিএমের লোকেরা টেরই পাবে না৷

আমি আর রাজীর তাঁর বাইকে উঠে বসলাম৷ সানুদা তাঁর বাইকের মুখটা ঘুরিয়ে তমলুকের দিকে করলেন৷ কিছুটা আসার পরেই মগরাজপুরে থেকে ডানদিকের একটা রাস্তা ধরলেন নন্দীগ্রাম যাওয়ার জন্য? বেলা তখন দশটা হবে হয়তো, এমন সময় শুভেন্দু ফোন করে জানতে চাইলেন আমি কি নন্দীগ্রামে যেতে পেরেছি কি না? সেখানকার তাজা পরিস্থিতি জানার জন্যই আমাকে কল করেছিলেন৷ আমি নন্দীগ্রামের পথে এটা জানতেই বললেন, সেখানে কী অবস্থা আমি যেন তাঁকে জানায়৷ পাশাপাশি এটাও বললেন, তিনি কিছু খবর পেলে জানাবেন৷

আরও কিছুটা যাওয়ার পর আমার শুভেন্দুর ফোন করে বললেন, পরিস্থিতি ভালো নয়, গোকুলনগরে ঢুকছে পুলিশ, সেখানে মহিলাদের প্রতিরোধের মুখে পড়েছে পুলিশ৷ ভাঙাবেড়্যার দিকেও ঢোকার চেষ্টা করছে৷ সেখানে পুলিশের সঙ্গে সিপিএম ক্যাডাররাও বন্দুক হাতে নিয়ে নন্দীগ্রামে ঢোকার চেষ্টা করছে৷ গলার স্বরে স্পষ্ট বুঝলাম, শুভেন্দু প্রচণ্ড চিন্তায় পড়ে গিয়েছেন৷ কারণ, কোনভাবে পুলিশ গুলি চালালে আন্দোলন ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়বে, তাঁর কথায় বুঝলাম পুলিশের গুলিতে কোন গ্রামবাসীর কোন ক্ষতি হোক, সেটা তিনি কোনভাবেই চান না৷

বাইক তখন প্রায় নন্দীগ্রামে ঢোকার মুখে৷ আবার শুভেন্দুর ফোন৷ এবার তাঁকে খুব বিচলিত বলেই মনে হল, ফোন করেই বললেন, ‘রানা আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেল৷ পুলিশ আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে৷ মনে হচ্ছে অনেক গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়েছে৷ পুলিশ গ্রামের দিকে ঢুকছে৷’ আমি ও রাজীবও কিছুটা ভয় পেয়ে গেলাম৷ কী করে ঘটনাস্থলে যাব? এই চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে৷ সাহস করেই ঢুকে পড়লাম নন্দীগ্রামে৷

ইতিমধ্যেই ভাঙাবেড়্যা এবং গোকুলনগর থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মারফৎ খবর আসতে শুরু করল যে, বিনা প্ররোচনায় পুলিশ এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে চালাতে গ্রামের দখল নিচ্ছে৷ মহিলাদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে৷ এটা মূলত হয়েছে গোকুলনগর অধিকারিপাড়ায়৷ লোকমুখে খবর পাওয়া যাচ্ছে, বহু গ্রামবাসী পুলিশের গুলিতে মারা পড়েছে৷ সংখ্যাটা কত? তা বোঝা যাচ্ছে না৷ এরমধ্যেই আমরা পৌঁছলাম নন্দীগ্রাম ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে৷ সেখানে তখন কাতারে কাতারে গ্রামবাসী ভিড় জমিয়েছেন৷ খেজুরি সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো ফাঁকা মানুষ এসে ভিড় করছেন নন্দীগ্রাম থানা চত্বরে৷ আমরা যেতে চাইলাম ভাঙাবেড়্যার দিকে৷

কিন্তু, নন্দীগ্রাম থানার এক পরিচিত অফিসার সতর্ক করে বললেন, প্লিজ ওদিকে যাবেন না, খেজুরির দিকে পুলিশ গুলি চালাতে চালাতে নন্দীগ্রামে ঢুকছে, এতে বিপদ হতে পারে৷ অগত্যা স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে, সোনাচুড়ার থেকে রক্তাক্ত এক গ্রামবাসীকে সেখানে আনা হল৷ কান্নার রোল পড়ে গেল সেখানে৷ এর পর এক এক করে গুলিবিদ্ধকে আনা হতে থাকল স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য৷ সারা শরীরে রক্তে ভেসে যাচ্ছে গ্রামবাসীদের৷ তাদের মুখ থেকে জানতে পারলাম পুলিশের গুলিতে বহুলোক মারা গিয়েছে৷ এমন কি অনেকের দেহ তুলে পর্যন্ত আনতে পারেননি তারা৷

স্বাভাবিকভাবেই ছড়িয়ে পড়তে থাকল নানা গুজব৷ কেউ বলছে মৃতের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়ে গিয়েছে৷ কেউ বলছে তার চোখের সামনে শিশুদের পা চিরে মেরে ফেলা হয়েছে৷ যদিও পরবর্তীতে জানতে পেরেছিলাম, পুলিশের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করতেই এই ধরণের গুজব কৌশলে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল৷

বেলা যত বাড়তে থাকল, গুলিবিদ্ধের সংখ্যাও বাড়তে লাগল৷ কারও পায়ে গুলি লেগেছে, কারও বুক চিরে চলে গিয়েছে থ্রি নট থ্রির বুলেট৷ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসার পরেই সবাইকেই তমলুকে স্থানান্তরিত করা হতে থাকে৷ জিপ, অ্যাম্বুলেন্স করে জখমদের তমলুকে নিয়ে যেতে থাকেন স্থানীয় বাসিন্দাদের৷ সেদিনই লক্ষ্য করেছিলাম বিপদের দিনেও আন্দোলনকারী গ্রামবাসীরা কীভাবে একে অপরের পাশে থেকেছেন৷

সেদিনই বুঝেছিলাম নন্দীগ্রাম পড়ে পড়ে মার খাবে, কিন্তু বশ্যতা স্বীকার করবে না৷ পুলিশের গুলিতে আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করতে পারবে না৷ ইতিমধ্যে আরও গুজব ছড়িয়ে পড়ল যে, পুলিশের গুলিতে এত মানুষের মৃত্যু হয়েছে যে, তেখালি খালের জল রঙ বদলে লাল হয়ে গিয়েছে৷ গুলি চালানোর খবর এমনভাবে রাজ্য জুড়ে চাউর হয়ে গিয়েছিল যে, বুদ্ধদেব সরকার রীতিমতো চাপে পড়ে যায়৷ বাধ্য হয়েই পুলিশ সোনাচুড়ার পর আর এগোতে পারেনি৷ সেখানে অভিযান থামিয়ে দিতে হয়৷ ভাঙাবেড়্যা থেকে সোনাচুড়া পর্যন্ত কেটে দেওয়া রাস্তা মেরামতিও করে পুলিশ৷ এরমধ্যে পুলিশের অভিযান শেষ করে৷ দিন শেষে যা হিসেব পাওয়া গেল, তাতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে৷ ১৬জন গুলিবিদ্ধ হয়ে জখম হন৷

পুলিশ এবং হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত সূত্র অনুযায়ী, আমার খবরে ছিল ১৪ জনের মৃত্যুর কথা৷ কিন্তু পরদিন বর্তমান পত্রিকা পড়ে খুব তাজ্জব হয়েছিলাম মৃতের সংখ্যা শতাধিক দেখে৷ সেদিন সারাটা দিন খুব আতঙ্কের মধ্যেই কেটেছে৷ তবে বার বার খুব ইচ্ছে করছিল একবার ভাঙাবেড়্যার ঘটনাস্থলে যেতে৷ যাওয়ার জন্য উদ্যোগও নিয়েছিলাম৷ কিন্তু, সেদিন বর্ধমান থেকে নন্দীগ্রামে আসা আমার সিনিয়র রিপোর্টার তন্ময় মল্লিক নিষেধ করেন৷ ওনার কথা অমান্য করে চুপি চুপি ভাঙাবেড়্যার গিয়ে পৌঁছে যাই৷ তেখালি খালের এপারে হাতের বাঁদিকে দোকানঘরগুলোর দেওয়ালে স্পষ্ট ছিল বুলেটের দাগ৷ সেই দাগ যেন বার বার মনে করিয়ে দিচ্ছিল জালিয়ানওয়ালাবাগের সেই ক্ষতচিহ্নগুলো৷ তবে, তেখালি খালের জল ছিল স্বাভাবিকই৷ পাশের খালেও জলও ছিল একই রকম৷ তবে, সেই দিনের অভিজ্ঞতা আর আতঙ্ক এখনও মোটা কম্বলের মতো অাষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে…

----
--