শ্রীনগর: ফের নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল উপত্যকা৷ শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত টানা ১০ ঘণ্টা চলে সেনা জঙ্গি গুলির লড়াই৷ তাতে এক উপত্যকাবাসীর মৃত্যু হয়৷ রাতের অন্ধকারে এই ভাবে সেনা হামলা চালাল কেন? এই প্রশ্ন তুলে দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাম জেলায় বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে উপত্যকাবাসীরা৷ বিক্ষোভ থামাতে গিয়ে ছররা বন্দুক ব্যবহার করে পুলিশ৷ মৃত্যু হয় এক বিক্ষোভকারীর৷ আহত হয় আরও ২০ জন৷
শনিবার উপত্যকায় লস্কর-ই-তইবা ও হিজবুল মুজাহিদ্দিন, দুই সংগঠনের চার জঙ্গি যৌথভাবে ঘাঁটি গেড়েছিল৷ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে হামলা চালায় সেনারা৷ প্রায় ১০ ঘণ্টা টানা গুলির লড়াইয়ের পর খতম হয় চার জঙ্গি৷ শহিদ হন দুই জওয়ান৷ সেনা সূত্রে খবর, জঙ্গিরা লোকালয়ে লুকিয়ে থাকার ফলে অপারেশন চালাতে বেশ বেগ পেতে হয়৷ ঘটনায় এক উপত্যকাবাসীর মৃত্যুও হয়৷

আরও পড়ুন : সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে পাকিস্তানে ঢুকে সামনে থেকে চার জঙ্গিকে খতম করেন মেজর সুরী

এবার সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল উপত্যকা৷ এক সেনা আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘‘গত শনিবার রাতে দুই জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্যরা স্থানীয় এক ব্যাক্তির বাড়িতে জড় হয়৷ ওই জঙ্গিদের পাকিস্তানে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে জানতে পারে সেনাবাহিনী৷ তারপরেই হামলা চালায়৷’’ এদিকে রাতে অন্ধকারে আচমকা সেনা অভিযানে ফুঁসতে শুরু করে উপত্যকাবাসীরা৷ সকালে সেনা-জঙ্গি গুলির লড়াই বন্ধ হতেই সেনাদের লক্ষ্য করে শুরু হয় ইট বৃষ্টি৷

আরও পড়ুন : ফের পাকিস্তানের মাটিতে ঢুকে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালাবে ভারতীয় সেনা!

গত ছ মাস আগে হিজবুল কমান্ডর বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উপত্যকা৷ ফলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তাহলে কি ফের আবার নতুন করে হিংসাত্মক হয়ে উঠবে ভূ-স্বর্গ? যদিও ওই সেনা আধিকারিকের কথায়, ‘‘সেরকম কোনও পরিস্থিতি এই মুহূর্তে তৈরি হয়নি৷ কিছু মানুষ বিষয়টা না বুঝে বিক্ষোভ দেখিয়েছে৷ এদের মধ্যে বহিরাগতরাও থাকতে পারে৷ তবে এখন বিক্ষোভ থেমে গিয়েছে৷’’

আরও পড়ুন :  ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের রাতে ঘুমোতে পারিনি’

----
--