কোচি: কেরলের এক সন্ন্যাসিনীকে ধর্ষণের অভিযোগে জলন্ধর এলাকার রোমান ক্যাথলিক বিশপ ফ্রাঙ্কো মুলাক্কেলকে গ্রেফতারির দাবিতে পথে নামল কোচির সন্ন্যাসিনীরা। যুগ্ম খ্রিষ্টান কাউন্সিলের ডাকে শহরের হাই কোর্ট জাঙ্কশনের বাসস্টপের কাছে প্রতিবাদে মুখর হন তাঁরা।

ঘটনার কেন্দ্রস্থল কোট্টায়ামের একটি আশ্রম। সেখানেই বিশপ মুলাক্কেল এক সন্ন্যাসিনীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। সেই আশ্রমের পাঁচজন সন্ন্যাসিনীও এই প্রতিবাদে অংশ নেন। অভিযোগ, আক্রান্ত ওই সন্ন্যাসিনীর অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়নি কেউ। চার্চ, পুলিশ,প্রশাসন সুবিচারের আশায় সবার দরজায় কড়া নাড়লেও আদতে কিছুই লাভ হয়নি।

কোট্টায়ামের এক সন্ন্যাসিনী জানিয়েছেন,’আমরা আমাদের বোনের জন্য লড়াই করব।যে কোনো মুল্যে এর শেষ দেখে ছাড়ব আমরা। বিশপ ফ্রাঙ্কোর বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তাকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ’। এর পাশাপাশি চার্চের ভুমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। ৭৪ দিন আগে বিশপ ফ্রাঙ্কোর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হলেও মাত্র একবার পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এর পাশাপাশি তাঁদের অভিযোগ পুলিশ ঘটনাটিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের এই প্রতিবাদে পাশে দাঁড়িয়েছে আরও বেশ কিছু সংগঠন।

এদিকে নির্যাতিতা সন্ন্যাসিনীর আরও অভিযোগ, কুরাভিলানাজ্ঞদ থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর থেকে গত দুমাস ধরে বেশ কিছু অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি প্রাণনাশের হুমকি পান। ওই সন্ন্যাসিনী ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে একাধিকবার ধর্ষণ ও অস্বাভাবিক যৌনাচারের অভিযোগ এনেছেন বিশপ ফ্রাঙ্কোর বিরুদ্ধে।

দ্রুত বিচারের দাবীতে যে পিটিশন দায়ের করা হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে কোট্টায়ামের ডেপুটি পুলিশ সুপারিন্টেনডেন্ট কে সুভাষ গত ১৩ই অগস্ট কেরল হাইকোর্টকে জানান, তদন্তপ্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে জানা গিয়েছে বিশপ ফ্রাঙ্কো বারবার ওই সন্ন্যাসিনীকে ধর্ষণ করেন। জানা গিয়েছে, কোট্টায়াম জেলার কুরাভিলানাজ্ঞদের সেন্ট ফ্রান্সিস মিশন হোমের একটি গেস্ট রুমে ওই সন্ন্যাসিনীকে আটকে রেখে নির্যাতন করেন।

----
--