ইঁদুর দৌড়ে ক্রমে রঙহীন ষষ্ঠীর সকাল, অষ্টমীর রাত

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: ‘ঠাকুর থাকবে কতক্ষণ, ঠাকুর যাবে বিসর্জন’। ঢাকের তালে কোমর দোলানো, ঠাকুর দেখা, খাওয়া দাওয়া। মহাআনন্দের পাঁচ দিন। কিন্তু দুর্গা পুজো কি আর পাঁচ দিনের আছে? মণ্ডপে মণ্ডপে ইতিমধ্যেই মানুষের ঢল নেমেছে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে চলছে ঠাকুর দেখা।

মহালয়ার আগেই উদ্বোধন হয় শ্রীভূমিতে। সেই দিন থেকেই মণ্ডপ দেখতে লেকটাউনে আছড়ে পড়েছিল মানুষের ঢল। রবিবার অর্থাৎ মহালয়ার আগের দিন সেখানে তিল ধারনের জায়গা ছিল না।

আরও পড়ুন: অমিত শাহর মন্তব্যে যৌন হেনস্তায় অভিযুক্ত আকবরের উপর চাপ বাড়ল

সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোল করে অনেকে লিখেছিলেন, ‘অষ্টমীতেই বিজয়া পালন করবে শ্রীভূমি’। শুধু শ্রীভূমি নয়, দেবী পক্ষের দ্বিতীয়ার দিন থেকে সমস্ত মণ্ডপেই উপচে পড়েছে ভিড়। তৃতীয়ার বিকেল থেকে টানা বৃষ্টি হয়েছে ভোর পর্যন্ত। মানুষের ঠাকুর দেখার কোনও বাধা পড়েনি। রেনকোট, ছাতা নিয়ে অনেকে ঠাকুর দেখতে শুরু করে দেন। প্রত্যেক বড় ক্লাবেই এই অবস্থা।

ষষ্ঠী থেকে দশমী, পুজো পাঁচদিনের। এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। বিগত বছর পাঁচেক পঞ্জিকার পাঁচ দিন নয়, ইচ্ছে মতন পুজো দশ দিনের হয়ে গিয়েছে। ভিড় টানতে বারোয়ারী ক্লাবগুলি আগে থেকে মণ্ডপের দ্বার উদ্ঘাটন করে দেয়। ফাঁকায় ফাঁকায় ঠাকুর দেখব দেখতে এসে দ্বিতীয়া থেকেই ‘মণ্ডপে মণ্ডপে মানুষের ঢল।’ মুম্বইয়ে গনেশ পুজো দশ দিনের । তাকেও ছাড়াচ্ছে বাঙালির মহাপুজো।

আরও পড়ুন: ‘নাওয়াজের সঙ্গে উত্তেজক দৃশ্যে অভিনয় করতে হবে’

যথারীতি উত্তর থেকে দক্ষিণ যথারীতি সমস্ত রাস্তায় হুজুগে বাঙালির ‘আগে থেকে ঠাকুর দেখার’ ভিড়ে সন্ধ্যা হলেই যানজট শুরু হচ্ছে। সাধারণত পুজোর আগে রাস্তায় মার্কেটিংয়ের ভিড় থাকে। ২১৫এ/১ বাস চালক অতুল দাস বলেন, “সল্টলেক আমাদের রুট। জ্যাম হবে মার্কেটিংয়ের জন্য। তাই আগে বেরিয়েছিলাম। কিন্তু উলটে দেখলাম হাতিবাগানে জ্যাম নেই। লম্বা জ্যাম হাতিবাগান সার্বজনীন থেকে শুরু করে উলটোডাঙ্গা পর্যন্ত। সেজেগুজে হুজুগে পাবলিক বেড়িয়ে পড়েছে। এক ঘণ্টার রাস্তা সময় নিচ্ছে তিন ঘণ্টা। ভাবুন তো। আমাদের জ্বালা হয়েছে” কনডাক্টর প্রদীপ বলেন, “জ্যামে আটকে থাকতে আমাদেরও ভালো লাগে না। যাত্রীদের উলটোপালটা কথা সঙ্গে টাইমার টাকাও কাটে। ডবল ক্ষতি.”

আরও পড়ুন: তিতলির জেরে কারও ‘পৌষমাস’, কারও ‘সর্বনাশ’

নাইট শিফটে কল সেনটারে কাজ করেন প্রতীপ রায়। তিনি বলেন, “অকারন লেট। পাবলিকের আর কাজ নেই। যখন তখন উদ্বোধন করে দেয়। এগুলো বারাবারি।”

কিন্তু এই অভিযোগ শুনছে ক’জন? কম্পিটিশনের যুগে সবই আগে চাই। বাঙালির প্রাণের পুজোও সেই তালিকায় চলে এসেছে। মহালয়ার আগেই মণ্ডপের দ্বার উদ্ঘাটন হচ্ছে। এটা ক্লাবের র‍্যাট রেস। কে আগে সেরা মণ্ডপে গিয়ে সেলফি তুলে ফেসবুকে আপডেট দেবে, এটা আরও একটা ইঁদুর দৌড়।

আরও পড়ুন: ট্রেলারে বোল্ড ‘গার্লফ্রেন্ড’ এখন ভরসা বনি-কৌশানির রোম্যান্স!

এমন দৌড়ে পুজোর স্বাভাবিক ছন্দ, গন্ধ, আনন্দ থেকেও সব হারাচ্ছে। প্রাণের পুজোয় অলিখিতভাবে বাড়ছে দিন সংখ্যা। আদতে তা যেন পুজোর আমেজ নষ্ট করা ছাড়া আর কিছু নয়, বলে মনে করছেন অনেকে। কিন্তু এইসব প্রশ্ন থাকছে মনেই। রঙিন হয়েও রঙ হারাচ্ছে পঞ্জিকার বোধন থেকে বিসর্জন।

আরও পড়ুন: শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে সেবি-র ছাড় পেল বন্ধন ব্যাংক

----
-----