স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: কল্পতরু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ নজরুল মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে অন্তত তেমনই মনে হচ্ছিল৷ এদিন মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করলেন শহর ও জেলা মিলিয়ে মোট ২৮ হাজার পুজোয় অনুদান দেবে রাজ্য সরকার৷ তার পরিমাণও নেহাত মন্দ নয়৷

এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান শহর কলকাতায় রয়েছে তিন হাজার পুজো৷ জেলাগুলিতে ছোট বড় মিলিয়ে মোট ২৫ হাজার পুজো রয়েছে৷ এদের প্রত্যেককে ১০ হাজার অনুদান দেওয়া হবে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে৷ এজন্য রাজ্যের কোষাগার থেকে খসবে ২৮ কোটি টাকা৷

এছাড়াও এদিন মমতা বলেন প্রতি বছর পুজো কমিটিগুলোকে ফায়ার লাইসেন্সের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিতে হয়৷ এবছর সেটা দিতে হবে না বলে ঘোষণা করেন তিনি৷ এরই সঙ্গে সিইএসসিকেও যে পরিমাণ টাকা দিতে হয় প্রতি বছর, এবছরে সেই টাকাতেও ছাড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার৷ মমতা এদিন বলেছেন সিইএসসিকে যে টাকা পুজো কমিটিগুলি দেয়, তাতে ২০ থেকে ২৩ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে৷

সোমবার মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন ১৯শে অক্টোবর বিজয়া দশমী৷ সেদিন থেকে চারদিনব ধরে বিসর্জন চলবে৷ অর্থাৎ ১৯ থেকে ২২ তারিখ পর্যন্ত বিসর্জন দেওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে৷ এর পাশাপাশি, পুজো কার্ণিভাল নিয়েও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ এবছর পুজো কার্ণিভাল ২৩শে অক্টোবর করা হবে৷

তিনি এদিন বলেন সাধারণত পুজো কার্ণিভালের শোভাযাত্রায় ৫৫টি ক্লাব অংশ নিতে পারে৷ কিন্তু এবছর ৭৫টি ক্লাব অংশ নিতে পারবে বলে জানানো হয়েছে৷ রাজ্যসরকারের পক্ষ থেকে জেলার পুজো কমিটিগুলির হাতে টাকা তুলে দেবে পর্যটন বিভাগ, ক্রেতা সুরক্ষা দফতর, স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও রাজ্য পুলিশ৷ অন্যদিকে, কলকাতার যে ৩০০০ পুজো রয়েছে, তাদের হাতে টাকা তুলে দেবে কলকাতা পুলিশ, দমকল আর কলকাতা পুরসভা৷

এদিন পুজোয় অনুদান নিয়ে বিজেপিকে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ বিভিন্ন পুজো কমিটিগুলিতে টাকা ঢেলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারে বিজেপি বলে অভিযোগ করেন তিনি৷ সেই পরিকল্পনা যাতে কার্যকর না হয়, তার জন্য আগে থেকেই সাবধান থাকতে হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী সতর্ক করেন৷

বিশেষত জেলার পুজো কমিটিগুলিকে পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি বলেছেন ‘অনেক দুষ্টু লোক রয়েছে, যারা টাকা দিয়ে পুজো কমিটি গুলোকে কেনার চেষ্টা করবে৷ কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না৷ সরকার আপনাদের সঙ্গে রয়েছে৷ কোনও সমস্যা হলে রাজ্য সরকারকে জানান, ভিক্ষে চাওয়ার দরকার নেই’৷

পুজোর দিনগুলো এদিন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করা নিয়েও আবেদন রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি বলেছেন দুর্গোৎসব সবার৷ কোনও নির্দিষ্ট ধর্মের নয়৷ তাই মিলেমিশে এই উৎসব পালন করার বার্তা দিয়েছেন মমতা৷ এছাড়াও জেলার পুজোগুলির জন্য পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের একটি সমন্বয় বৈঠক করার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ দিয়েছেন নজরদারির নির্দেশ৷ তিনি বলেছেন পুজোর সময় কোনও বিশৃঙ্খলা যেন বরদাস্ত করা না হয়৷

----
--