বন্ধুকে বাঁচাতে পাঞ্চ কিক, পালালো ইভটিজার

স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: বর্তমানে আধুনিকতার পাশাপাশি নারীদের আত্মরক্ষার মাত্রাটাও ক্রমশ বেড়েছে৷ সাবধানতার পান থেকে চুন খসলেই প্রতি পদক্ষেপে যেন বিপদ অপেক্ষা করছে৷ তাই, ধারালো ছোট অস্ত্রর পাশাপাশি কমবেশি প্রায় সকলেই ব্যাগে রাখে পেপার স্প্রে৷ কিন্তু এসবের বাইরে চিরকালের জন্য আত্মরক্ষার অন্য পথ ক্যারাটে বা কুংফু৷

পারদর্শীদের কথায়, ক্যারাটে বা কুংফু আত্মরক্ষার কাজেই লাগানো উচিত। এবার সেটাই অক্ষরে অক্ষরে পালন করল বীরভূমের ছাত্রী। আর তাতেই কাত হয়ে চম্পট দিল ইভটিজারের দল। এটি গল্প শুনতে লাগলেও আদতে গল্প হলেও সত্যি। বীরভূমের এই ছাত্রীর গল্পটা শুনলে হয়তো সব মেয়ের বাবা-মা চাইবেন মেয়েকে ক্যারাটে শেখাতে।

পড়ুন: মারণ খেলা মোমো থেকে বাঁচতে সচতনতা পুলিশের

প্রসঙ্গত, শান্তিনিকেতনের গোয়ালপাড়ার একাদশ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে বেশ কিছুদিন ধরেই উত্যক্ত করছিল বাইক চড়ে আসা বহিরাগত এক যুবক। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ওই ছাত্রী সাহায্য চায় তারই ক্লাসের এক ক্যারাটে শিখিয়ে বান্ধবীর কাছে। এই কথা শুনে কালপিটকে শিক্ষা দিতে রাজি হয়ে যায় ওই বান্ধবী। পরিকল্পনা মাফিক চার কিলোমিটার দূরে পড়তে যাওয়ার পথে বন্ধুকে পাহাড়া দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল ওই বান্ধবী। তবে মেয়েটির সঙ্গে অন্য এক মেয়েকে দেখে বেশ কিছুদিন আসা বন্ধ করে দেয় অভিযুক্ত ছেলেটি।

কিন্তু এই ঘটনায় ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় ইফটিজারের৷ বুধবার সকালে দুই বন্ধু পড়তে যাওয়ার পথে ফের হাজির হয় মূর্তিমান। তখনও কিছু বলেনি বোলপুরের ক্যারাটে কিড। এরপর ছেলেটি বাইক নিয়ে এসে ছাত্রীর হাত ধরে টানলে সে সাইকেল থেকে চকিতে নেমে দু’টি পাঞ্চ কষায়৷ পাঞ্চ দু’টি পড়ে ছেলেটির পেটে। সে বাইক থেকে পড়ে গেলে ফের পা দিয়ে এক কিক। কোনও মতে ছেলেটি তাকে ডান হাত দিয়ে সরিয়ে বাইক নিয়ে পালায়।

তবে ইফটিজারকে ধরতে না পারার দুঃখ রয়ে গেল ক্যারাটে কিডের। পরের বার দেখা পেলে নিশ্চয়ই তাকে ধরবে বলেও জানায় সে। এই ঘটনায় বীরভূমের ক্যারাটে কিডের বাবা-মা যথেষ্ট গর্বিত বলে জানিয়েছেন। খুশি জেলা পুলিশ সুপার কুণাল আগরওয়ালও। তাঁর কথায়, এই ঘটনা জানার পর হয়তো বাবা-মায়েরা মেয়েদের অন্তত সেলফ ডিফেন্সের জন্য ক্যারাটের মতো প্রশিক্ষণ দিতে উৎসাহী হবেন।

----
-----